জানুয়ারী 2019


মোল্লা ওমরের ঘনিষ্ঠ সহচর আফগান তালেবান নেতা মোল্লা আব্দুল গনি বেরাদর কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি আলোচনায় বসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রভাবশালী এই তালেবান নেতার মাঠে নামার ফলে আফগানিস্তান, আমেরিকাসহ সকল পক্ষই শান্তি আলোচনায় সাফল্যের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন। এ বিষয়ে ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন:


আহমেদ রাশিদ, নিউ ইয়র্ক টাইমস:
আফগান সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী, ২০১৬।
আফগান সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী, ২০১৬। ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস


জানুয়ারির চব্বিশ তারিখ মোল্লা আব্দুল গনি বেরাদর কাতারে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি আলোচনায় তালেবানের তরফ থেকে প্রধান আলোচক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি ১৯৯৩ সালে মোল্লা ওমরের সাথে তালেবান আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন।

মোল্লা বেরাদর এর আগে তালেবান প্রধান মৌলভী হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সহকারি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি মার্কিন শান্তি দূত জামালি খালিলজাদের সাথে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে শিগগিরই দোহার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন  বলে আশা করা হচ্ছে।

একজন ক্যারিশমাটিক সামরিক নেতা হিসেবে মোল্লা বেরাদার তালেবানদের নিকট খুবই শ্রদ্ধেয়। তিনিই প্রথম জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতা, যিনি যুদ্ধের ভয়াবহতা ও নিষ্ফলতা লক্ষ্য করে ২০০৯ সালে হামিদ কারজাই নেতৃত্বাধীন আফগান সরকারের  সাথে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর সাথে গোপন শান্তি আলোচনা শুরু করেছিলেন।

তালেবানের তৎকালীন প্রধান পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তান ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোল্লা বেরাদরকে করাচি থেকে গ্রেপ্তার করে এবং গোপন আলোচনার বিষয়টি ফাঁস করে সে সময় পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগ ভেস্তে দিয়েছিলো। পাকিস্তান সরকার এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তালেবান ও আফগান সরকারকে পাকিস্তানের আফগান নীতির সাথে সাংঘর্ষিক কোন রাজনৈতিক পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলো। মোল্লা বেরাদরের গ্রেপ্তারের ফলে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে তুমুল বিরোধিতা তৈরি হয়েছিলো, তালেবানও বিষয়টিকে নিজেদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর মনে করেছিলো। কারণ মোল্লা বেরাদার তালেবানের অন্যতম শ্রদ্ধেয় প্রতিষ্ঠাতা নেতা হিসেবে গণ্য হয়ে থাকেন।

প্রায় সাড়ে আট বছর পর গত অক্টোবরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের চাপের মুখে পাকিস্তান মোল্লা বেরাদরকে মুক্তি দেয়। মোল্লা বেরাদারের মুক্তি এবং এরপর প্রধান আলোচক হিসেবে তার নিযুক্তির বিষয়টি দেখে মনে হচ্ছে, আফগান শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি পাকিস্তানের মনোভাব এবং শান্তিকামী তালিবান নেতাদের প্রতি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিদ্বেষ স্পষ্টতই পরিবর্তিত হয়েছে।

আফগান যুদ্ধ সমাপ্ত করতে অনিচ্ছার কারণে পাকিস্তান আসলে রাজনৈতিকভাবে এই অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আর তাছাড়া পাকিস্তান তালেবান কর্তৃক সংগঠিত ক্ষয়-ক্ষতি ইসলামাবাদের হিসাব-নিকাশ বদলে দিয়েছে। পাকিস্তান তালেবান পাকিস্তানের অভ্যন্তরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে, এর পিছু হটে আফগানিস্তানে আশ্রয় নেয়। মার্কিন-তালেবান চলমান শান্তি আলোচনা থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে তালেবান এখন আর আফগানিস্তানের বাইরের কোন জঙ্গী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেবে না।

খলিলজাদের মিশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার বদলে সহযোগিতা করার জন্য পশ্চিমা কূটনীতিকরা এখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রশংসা করছেন।

শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সমর্থন তাদের কৌশলগত অবস্থানের পরিবর্তন। এই পরিবর্তন এ অঞ্চলে বৃহত্তর প্রভাব বিস্তানর করে কি না, তা এখনো দেখার বিষয়। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কাশমিরের বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক নেতৃত্বের সাথে আবার আলোচনা শুরু করতে চাচ্ছে।

খলিলজাদের মিশনে পাকিস্তানের সমর্থন ছাড়াও তালেবানদের মধ্যে মোল্লা বেরাদারের সম্মানজনক অবস্থানের কারণে শান্তিস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা অনেক জোরদার হয়েছে। নব্বুইয়ের দশকে তালেবান কাবুল দখল করার পর আমি মোল্লা বেরাদারের সাথে দেখা করেছিলাম। তিনি হিরাত প্রদেশের গভর্নর ছিলেন, এবং ২০০১ সালে যখন তালেবানের পতন হয়, তখন তিনি ছিলেন তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

সামাজিক বিষয়ে মোল্লা বেরাদার ছিলেন মধ্যপন্থী, তিনি পশ্চিমা বিশ্ব এবং আফগানিস্তানের প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক রাখতে চাইতেন। ওসামা বিন লাদেন দ্বারা প্রভাবিত কট্টরপন্থী নেতারা পশ্চিমা সাহায্য সংস্থাসমূহকে আফগানিস্তান ছেড়ে যেতে চাপ দেন, ফলে দেশটি তীব্র দুর্ভিক্ষ ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়। মোল্লা বেরাদার আফগানিস্তানে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার এবং সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। পশ্চিমা অর্থনৈতিক সহায়তার উপর দেশটির নির্ভরতার বিষয়ে তিনি সতর্ক ছিলেন।

যদিও মোল্লা বেরাদর ১৯৯৬ সালে বিন লাদেনকে আফগানিস্তানে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে মোল্লা ওমরের বিরোধিতা করেছিলেন, তবে তালেবান সরকারের পতনের পর তিনি কান্দাহারে মোল্লা ওমরের সাথেই ছিলেন।

তালেবান আন্দোলনে তার অনবদ্য অবদানের কারণে তিনি যদি, এবং যখন শান্তির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তখন কোন তালেবান নেতাই তার বিরোধিতা করতে সক্ষম হবে না। তাছাড়া যেসকল তালেবান সামরিক কমান্ডাররা এখনো যুদ্ধ চালিয়ে যেতে এবং চুড়ান্ত বিজয় অর্জনের মাধ্যমে নব্বুইয়ের দশকের মতো আবারো শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠা করতে ইচ্ছুক, তাদেরকেও শান্তি প্রক্রিয়া মানিয়ে নেওয়ার জন্য তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।

তার উপস্থিতি যু্ক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক, কারণ খলিলজাদ ও তার অন্যান্য সহকর্মীরা এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সাথে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন, ‍যিনি নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম।

খলিলজাদের দল গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন ও তালেবান কর্মকর্তারা শান্তিচুক্তির “মৌলিক কাঠামোর বিষয়ে একমত” হয়েছেন, যাতে তালেবান অঙ্গীকার করেছে ভবিষ্যতে আর কোন সন্ত্রাসী দলকে তারা আশ্রয় দেবে না এবং আল কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের অবশিষ্ট অংশকে নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্রকে তারা সহযোগিতা করবে। চুক্তিটি পুরোপুরি মার্কিন যুদ্ধ বিরতি এবং আফগান সরকারের সাথে তালেবানের আলোচনার পথ সুগম করতে পারে।

তবে একটা বড় প্রশ্নের উত্তর এখনো মিলে নি। তালেবান প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে চাচ্ছে অবিলম্বে পুরোপুরি মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন জেল তাদের কারাবন্দীদের মুক্তি। মার্কিনরা তালেবানদের নিকট থেকে এই অঙ্গীকার পেয়েছে যে আফগানিস্তানের মাটি আর কখনোই কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না।  যুক্তরাষ্ট্র এর বাইরেও মার্কিন ও আফগান সরকারের সাথে তালেবানদের যুদ্ধবিরতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ও কাবুল সরকারের সাথে আলোচনা শুরু করার চুক্তি আদায় করে নিতে চাচ্ছে।

তালেবান এখন পর্যন্ত ঘানি সরকারের সাথে আলোচনায় বসতে রাজি নয়। তাদের ভাষায় আশরাফ ঘানির সরকার নিছক আজ্ঞাবহ সরকার বৈ কিছু নয়। তালেবান যদি সত্যিই যুদ্ধ সমাপ্ত করতে চায়, তাহলে এরকম রাজনৈতিক পরিস্থিতি সুবিধাজনক নয়। মোল্লা বেরাদার ইতোপূর্বে সকল আফগান নেতার সাথে আলোচনা করেছিলেন, সম্ভবত এ বিষয়ে তিনি তালেবানের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন।

তাছাড়া চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো দেশসমূহের সহযোগিতা অব্যহত রাখার প্রতিশ্রুতি তালেবানের শান্তি চুক্তির বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার ব্যাপরে নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

আঞ্চলিক শক্তিসমূহের  ইরান ও উপসাগরীয় দেশসমূহ, ভারত ও পাকিস্তান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান – এসকল ভিন্নতা সত্ত্বেও আফগানিস্তান যুদ্ধ সমাপ্ত করা ব্যাপারের সকলের মধ্যে এক ধরনের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। দীর্ঘ যুদ্ধ প্রতিবেশী দেশসমূহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, কারণ প্রতিবেশী দেশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো কার্যত আইনবিহীন আফগানিস্তানে আশ্রয় গ্রহণ করছে, এবং এসকল দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

খলিলজাদের নিজের জন্মভূমিতে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে সহযোগিতা করবে। রিগ্যান প্রশাসনের আমলে সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান দখলের সময় থেকেই তিনি কাজ করে আসছেন। হয়তো চল্লিশ বছর মেয়াদী যুদ্ধ সমাপ্ত হতে যাচ্ছে। ফলে আফগান জনগণ এখন আশার আলো দেখছে।



এই লেখাটি মূলত নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে ২৮ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত আহমেদ রাশিদ রচিত “This Man Is Revered Amongthe Taliban. Can He End the Afghan War? শীর্ষক প্রতিবেদনের অনুবাদ। ভাষান্তর ডেস্ক কর্তৃক অনূদিত।


ক্রিস্টাইন ফিলিপস, ওয়াশিংটন পোস্ট:
দুই হাজার সতের সালের গ্রীস্মকালে যখন অ্যারিজনার তাপমাত্রা তিন অংক ছুয়েছিল, চারজন মহিলা সে সময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ম্যাক্সিকো সীমান্তের বিশাল মরুভূমিতে গিয়েছিলেন, সাথে ছিল পানির জগ আর প্যাকেটজাত খাবার সামগ্রী পরবর্তীতে তারা বলেছিলেন যে এসব খাবার ও পনি তারা তৃষ্ণার্ত অভিবাসীদের জন্য রেখে এসেছিলেন। যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার জন্য সীমান্ত পার হয়েছিলেন।
এই চার মহিলা পরে বিধিবহির্ভূত কাজ করার অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুসারে তারা বিনা অনুমতিতে ৮৬০,০০০ একরের সংরক্ষিত শরণার্থী শিবির ক্যাবেজা প্রিয়েটাতে প্রবেশ করে এবং সেখানে খাবার রেখে এসে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন। গত শুক্রবারে এক বিচারক তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেছেন। ত্রাণকর্মী ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত টহলের মধ্যকার দুশ্চিন্তার সর্বশেষ উদাহরণ এই ঘটনা।
ত্রাণকর্মীরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক অবৈধ সীমান্ত পারাপার বিরোধী কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণের ফলে ন্যায়-অন্যায়ের গভীর বোধ থেকে উৎসারিত তাদের মানবিক কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে ফেডারেল কর্মকর্তাদের দাবি, তারা কেবলই আইন প্রয়োগ করছেন মাত্র।
চার জন মহিলাই অ্যারিজোনা ভিত্তিক সহায়তা গ্রুপ নো মোর ডেথ (আর কোন মৃত্যু নয়) এর স্বেচ্ছাসেবক। টাকসনের একটি আদালতে তিন দিন বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর তাদেরকে দণ্ডিত করা হয়। তারা ছয় মাসে পর্যন্ত কারা দণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।
কাকতালীয়ভাবে এই বিচার হয়েছে ফেডারেল সরকারের আংশিক অচলাবস্থা (শাট ডাউন) চলাকালে। এবারের অচলাবস্থা তিরিশ দিন ধরে চলছে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা অচলাবস্থা। মানবিক ও নিরাপত্তা সংকটের দোহাই দিয়ে সীমান্তে প্রাচীর তোলার জন্য ট্রাম্প ৫.৭ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন, মূলত এই আলোচনার প্রেক্ষিতে বর্তমান অচলাবস্থা চলছে। 
রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাজিস্ট্র্যাট বের্নার্ডো ভেলাস্ক বলেছেন, এই মহিলাদের কার্যক্রম “শরণার্থীদেরকে তাদের আদি অবস্থায় রাখার জাতীয় সিদ্ধান্ত” লঙ্ঘন করেছে। তিনি আরো বলেন যে তাদের কখনোই বিচার হবে না এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকে তারা এই অপরাধ করেছে। তার ভেবেছিলো বড় জোর হয়তো তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হতে পারে অথবা তাদেরকে জরিমানা করা হতে পারে।
নো মোর ডেথ’র স্বেচ্ছাসেবক ক্যাথরিন গাফনি বলেন, এই রায় “সারা দেশের বিবেকবান মানুষদেরকে” চ্যালেঞ্জ করেছে। “তৃষ্ণায় মারা যাচ্ছে এমন কাউকে পানি দেওয়া যদি অপরাধ হয়, তবে এই দেশের আইনে মানবতার আর বাকি থাকলো টা কী?” একটি বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এই চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়। কোর্ট রেকর্ড অনুসারে অভিযুক্তরা বলেন যে নো মোর ডেথে তাদের কাজ ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা অনুপ্রাণিত। তারা বিশ্বাস করেন যে প্রতিটি মানুষেরই টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু পাওয়ার অধিকার আছে।
ফেডারেল প্রসিকিউটররা যুক্তি দেখান, আসামীদের উচিত ছিল এ বিষয়ে সচেতন থাকা যে শরণার্থী শিবিরে একবার ব্যবহারযোগ্য কোন বস্তু ফেলে রেখে আসা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গত সপ্তাহে বিচার চলাকালে প্রসিকিউটর আরো বলেন যে এই মহিলারা ইচ্ছা করে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।  
বর্ডার পেট্রলের মুখপাত্র এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন যে তাদের অ্যাজেন্সি এই গ্রুপকে আলাদ করে লক্ষ্যবস্তু বানায় নি। তারা শুধু অভিবাসন আইন প্রয়োগ করেছে মাত্র। কোর্ট রেকর্ড অনুসারে ওয়ারেন অ্যারিজোনার অ্যাজো শহরে ক্যাবেজা প্রিয়েটা ক্যাবেজা শরণার্থী শিবিরের নিকটবর্তী “দ্য বার্ন” নামক একটি ভবনে দুজন স্থানীয় ম্যাক্সিকানের সাথে দেখা করেন এবং তাদেরকে খাবার ও পানি দেন।
ওয়ারেনের আইনজীবী বিল ওয়াকার বলেন, তাঁর মক্কেলের উদ্দেশ্য ছিলো শুধুমাত্র খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা পৌছিয়ে দেওয়া, দেশে কোন অবৈধ অভিবাসীকে চোরাই পথে ঢুকানো তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।
অ্যামি বি ওয়াং এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন।

ওয়াশিংটন পোস্টে গত বিশ জানুয়ারি প্রকাশিত “They left food and water for migrants in thedesert. Now they might go to prison. শীর্ষক প্রতিবেদনের অনুবাদ। ছবি tucsonsentinel.comথেকে সংগৃহীত। ভাষান্তর ডেস্ক কর্তৃক সংক্ষেপে অনূদিত। 

জাকারিয়া কুরসুন, ইয়েনি সাফাক:



গত ১৯ ও ২০ জানুয়ারিতে বায়রুতে অনুষ্ঠিত আরব লীগের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলন আরব নেতাদের অনুপস্থিতিতেই শুরু হয়েছে। এই সামিটে মাত্র তিন জন আরব নেতা উপস্থিত ছিলেন মেজবান রাষ্ট্র লেবাননের রাষ্ট্রপতি, কাতারি আমির শেখ তামিম এবং মৌরিতানিয়ার রাষ্ট্রপতি মোহাম্মেদ ওলদ আব্দেল আজিজ। যদিও লেবাননের সরকার গঠনে ব্যর্থতা এবং নিরাপত্তার অভাব আরব নেতাদের অংশগ্রহণের উপর প্রভাব ফেলেছে, তবে শুধু এসকল কারণে তারা অনুপস্থিত ছিলেন একথাও বলা যায় না।

শীর্ষ সম্মেলনে আরব নেতাদের অনুপস্থিতির সিদ্ধান্ত কিংবা শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলের পিছনে রয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। লেবাননে ইরান-সমর্থিত হেযবুল্লাহ এবং আমালের উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পোর মধ্যপ্রাচ্য সফরকালে ইরান বিরোধী বিবৃতির কথা মাথায় রাখলে বলা যায় যে শীর্ষ সম্মেলন নিষ্ফল হওয়ার পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনাও ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া আরব লীগের কাঠামোগত সমস্যা এবং আগের শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হওয়া-ও শীর্ষ সম্মেলন নিষ্ফল হওয়ার কারণ বটে। যদিও শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্য বিষয় ছিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, তবু আরব নেতারা উপস্থিত হলে নিঃসন্দেহে এই সম্মেলনও রাজনৈতিক মোড় নিতে পারতো। সেক্ষেত্রে আরব লীগে সিরিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং লেবাননের রাষ্ট্রপতি মিশেল আউনের বিষয় সম্মেলনের প্রধান ইস্যু হয়ে পড়তো।

এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা আরব লীগ কেউই লীগে সিরিয়ার প্রত্যাবর্তন চায় না। এরকম হলে সেটা তাদের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ করবে, তেমনি ২০১৭ থেকে প্রতিষ্ঠিত হতে চলা ইসরায়েলের সাথে মিসর ও উপসাগরীয় দেশসমূহের সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। অন্যদিকে সিরিয়া ইস্যুতে আরব লীগের মাধ্যমে আঞ্চলিক উদ্যোগের বাস্তবায়ন যুক্তরাষ্ট্রের নিকট অপ্রত্যাশিত। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া ও ইরাকে তাদের নড়বড়ে অবস্থান পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কোন আঞ্চলিক উদ্যোগকে সমর্থন করতে যাবে না।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেম ইস্যুতে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তবু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভক্তির কারণে দুই দলের মধ্যে এখন বিশ্বাসের অভাব রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্ররা তাদের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় তথা ফিলিস্তিন এবং জেরুজালেম ইস্যুতে স্বস্তি অনুভব করছে না। আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে আরবদের উপর চাপ সৃষ্টি করে যদিও তাদের কাজ-কারবার এখনো চলছে, কিন্তু এটা কোন চিরস্থায়ী উপায় নয়। এই পরিস্থিতিতে তাই ইরান-ভীতির অজুহাতে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশসমূহ ও মিসরের সমন্বয়ে গঠিত জোটের মাধ্যমে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষার কাজ চালিয়ে যাওয়াটাই তাদের জন্য সর্বোত্তম সমাধান। আমার মতে, বর্তমানে আলোচনার টেবিলে এটিই একমাত্র ফর্মুলা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপর গঠিত আরব লীগের সদস্যদের ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচিতিগত সাদৃশ্য সত্ত্বেও সংগঠনটি টিকে থাকার অন্যতম কারণ তাদের ইসরায়েল বিরোধী অবস্থান। আরব-ইসরায়েল যুদ্ধই দীর্ঘ কাল যাবৎ লীগকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এমনকি ১৯৬৭ সালের পরাজয়ে এবং তার পরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পরও অবস্থার পরিবর্তন হয় নি।

ঐতিহাসিকভাবে আরব-ইসরায়েলের মধ্যে এর আগে কখনোই এই পর্যায়ের সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠিত হয় নি। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইসরায়েলের সাথে উপসাগরীয় দেশসমূহের বর্তমান সম্পর্কের উন্নয়ন বিভিন্ন ক্ষেত্রে  পারস্পরিক সহযোগিতার দিকে মোড় নিয়েছে। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে কোন সমস্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিময় চলছে। বিশেষত ইয়েমেন যুদ্ধে এবং সিনাইতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মিসরের আকাশ অভিযানে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সামরিক, প্রযৌক্তিক এমনকি শিক্ষাগত সহযোগিতার কথা সর্বজন বিদিত। যে সকল দেশ মনে করে যে তাদের শাসন ক্ষমতা নানা সমস্যার কারণে ঝুঁকিতে আছে, তারা কখনোই চাইবে না তাদের সম্পর্কের উভয়পাক্ষিক অবনমন ঘটুক, যাতে তাদের ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। এখানে আর কোন ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নাই যখন খোদ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাস পর্যন্ত শীর্ষ সম্মেলনে অনুপস্থিত থেকেছেন।

এটা জানা কথা যে আরব দেশসমূহের মধ্যে এই সামিটের কারণে পারস্পরিক সহযোগিতার বদলে উল্টো আরো নানা সমস্যা তৈরি হতো, তাদের মধ্যে আরো বিভক্তির সৃষ্টি হতো। যেহেতু তৃতীয় পক্ষসমূহ দ্বারা প্রভাবিত পূর্ববর্তী শীর্ষ সম্মেলনসমূহের কথা এখনো আরব নেতাদের মনে আছে, তাই তারা আর ঝুঁকি নিতে চান নি।

তাহলে তুরস্ক এসব নিয়ে ভাবছে কেন?

তুরস্ক সরাসরি সকল আঞ্চলিক উন্নয়নের অংশ। কাজেই এটা খুব স্বাভাবিক যে যে কোন উন্নয়নই তুরস্কের ভাববার বিষয় হবে। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল ও আরব লীগের পক্ষে তুরস্ককে বিবেচনায় না রেখে এ অঞ্চলে কোন কিছু করা সম্ভব না। তাছাড়া আমি এখানে আরেকটি দিক তুলে ধরতে চাই। আরব লীগকে এতোদিন বাঁচিয়ে রেখেছিলো যে ইসরায়েল বিরোধী মনোভাব, সেটা শেষ হয়ে যাওয়াতে এবং বর্তমানে ইরানের সাথে শান্তি স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কারণে আবারো তুরস্ক আলোচনায় চলে আসছে। এবার ইসরায়েলকে সাথে নিয়েই আরব লীগের নতুন ঐক্য স্থাপিত হতে পারে তুলনামূলক কম বাস্তবসম্মত কারণে, আর তা হচ্ছে তুরস্ক বিরোধী মনোভাব, যেহেতু এখন আর আরবদের মধ্যে আগের মতো ইসরায়েল বিরোধী মনোভাব নেই। অবশ্য আরব লীগ এখনো এই রাস্তা থেকে অনেক দূরে আছে। কারণ তুরস্কের সাথে শত্রুতা এখনো আরব জনগণ চায় না। কিন্তু কিছু কিছু আরব ক্ষমতাসীন নিঃসন্দেহে এই কর্মপন্থাকে সমর্থন করবেন। 

[ইয়েনি সাফাক একটি তুর্কি দৈনিক পত্রিকা। পত্রিকাটি বর্তমান তুরস্ক সরকারের ঘনিষ্ঠ এবং এরদোয়ানের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। লেখক এই পত্রিকার কলামিস্ট। নিবন্ধটি ইয়েনি সাফাকের ‍ওয়েবসাইটে ২১শে জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত হয় “The Arab league, the US, and Israel” শিরোনামে।]


মোহাম্মদ জিয়া উদ্দীন:


Bangladeshs Farcical Vote বা বাংলাদেশে প্রহসনমূলক নির্বাচন (নিউ ইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয়, ১৬ জানুয়ারি) শীর্ষক নিবন্ধে শেখ হাসিনার পুনঃনির্বাচিত হওয়ার কারণ যথার্থই চিহ্নিত করা হয়েছে: ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, বিস্ময়কর দারিদ্র্য হ্রাস, মানব উন্নয়ন সূচকে অগ্রগতি ইত্যাদি।

কিন্তু সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁর দল আওয়ামীলীগকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে, যা আসলে সঠিক নয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নির্বাচনপূর্ব সহিংসতায় বাঁধা প্রদান করেছে মূলত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য, অন্য কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। বেশির ভাগ নির্বাচনী পর্যবেক্ষেই এরকম বলেছেন।

নির্বাচন উপলক্ষে কোন ধরনের গণ গ্রেপ্তার হয় নি। বরং বাস্তবিক পক্ষে, ২০১৮ সালের নির্বাচন পূর্ববর্তী নির্বাচনসমূহের তুলনায় অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ছিল।

ভোটাররা সরকারের নিকট নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নতি কামনা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটিই নিশ্চিত করেছেন। এ জন্যই সিংহভাগ ভোট পেয়ে তাঁর দল জিতেছে।

ভাষান্তর কর্তৃক অনূদিত।



মোহাম্মদ জিয়া উদ্দীন জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। গত ১৬ জানুয়ারি নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত Bangladesh’s FarcicalVote শীর্ষক সম্পাদকীয়র প্রতিবাদে তিনি Bangladeshs Peaceful Election শিরোনামে এই চিঠিটি প্রেরণ করেন। ছবি নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে সংগৃহীত।



সম্পাদকীয় পর্ষদ, নিউ ইয়র্ক টাইমস:

প্রায় দশ বছর ধরে এক টানা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা অনেক চমৎকার কাজ করেছেন। বিশ্বের অন্যতম স্বল্পোন্নত ও দরিদ্র দেশসমূহের একটি বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ, চরম দারিদ্র্যসীমায় বসবাসরত জনসংখ্যার হার ১৯ শতাংশ থেকে কমে ৯ শতাংশে চলে এসেছে। এতদসত্ত্বেও পরিতাপের বিষয় হলো, স্বেচ্ছাচারিতা আর সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮ আসন তথা মোট আসনের ৯৬ শতাংশতে প্রায় অসম্ভব জয়লাভ তার সকল অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগের সপ্তাহ ও মাসসমূহে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিরামহীন ভীতিপ্রদর্শনমূলক অভিযান, সহিংসতা এবং বিরোধী দলীয় প্রার্থী ও আন্দোলনকারীদেরকে গ্রেফতার এবং নজরদারি ও কঠোর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ হতে দেখেছে, যে আইনটিতে “আক্রমণাত্মক কিংবা ভীতি প্রদর্শনমূলকবিষয়বস্তু অনলাইনে প্রকাশ করার জন্য কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  “সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত সকলের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ ছড়িয়ে পড়েছে,” কিন্তু ‘ভীত’ বিচার বিভাগ কিংবা নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ  করছে না।

গত ডিসেম্বরে দ্য টাইমস’র সাথে একটি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী স্বৈরশাসকদের মতো মনোভাব প্রকাশ করেন। তাঁর মনোভাব অনেকটা এরকম, একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের তুলনায় মানবাধিকার গৌণ বিষয়। তিনি বলেন, “আমি যদি খাদ্য, চাকরি ও স্বাস্থ্য সেবা সরবরাহ করি, তবে তাই মানবাধিকার।” তিনি আরো বলেন “বিরোধী দল কী বললো, সুশীল সমাজ অথবা আপনাদের এনজিওগুলো কী বললো, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি আমার দেশ সম্পর্কে জানি, আমি জানি কীভাবে আমার দেশের উন্নয়ন করতে হবে।”

শেখ হাসিনা যে তাঁর দেশ সম্পর্কে ভালো জানেন, এ বিষয়ে কেউই প্রশ্ন তুলবে না। তাঁর বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি। ১৯৭৫ সালে যখন তাঁর বাবাকে হত্যা করা হয়, তখন তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। পরে ১৯৮১ সালে তিনি দেশে ফিরে আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৪ সালের নির্বোচনের পূর্ব পর্যন্ত তাঁর দল এবং আরেক ক্ষমতাশালী নারী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতে থাকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিবর্তনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করে। ফলে শেখ হাসিনা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আরেক মেয়াদের জন্য ক্ষমতাসীন হন। গত বছর দুর্নীতির দায়ে বেগম জিয়ার কারাদণ্ড হয়েছে, এবং শেখ হাসিনা আরেক মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছেন, ফলে কার্যত বাংলাদেশ একটি একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরো পাকাপোক্ত হচ্ছে।

কিন্তু কেন? কেন এরকম অযৌক্তিক নির্বাচনী ফলাফল তৈরির চেষ্টা, যেখানে জরিপে দেখা যাচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচনেও শেখ হাসিনা সহজেই বিজয়ী হতে পারতেন? শেখ হাসিনার সকল অর্জন এখন তাঁর স্বৈরচারী ও দমনমূলক কার্যপদ্ধতির কারণে কলুষিত হবে। তাঁর সমালোচকরা আত্মগোপনে যাক, কিংবা বিদেশে যাক, তাঁরা এখন আরো জোর গলায় কথা বলবে, তাঁর বিদেশি সমর্থকরা আরো সতর্ক হয়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নির্বাচনী প্রচারণার সময় “হয়রানি, ভীতিপ্রদর্শন এবং সহিংসতার নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এসব সমাধানে নির্বাচন কমিশনকে সকল পক্ষের সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী ও একক বাজারের দেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নও অনুরূপভাবে নির্বাচনী প্রচারণা ও নির্বাচনকে যে সকল সহিংসতা ও “গুরুত্বপূর্ণ বাঁধা” কলুষিত করেছে, সেসব সম্পর্কে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কার্যপদ্ধতির আলোকে বলা যায়, তিনি এসব কথাকে গুরুত্ব দেবেন না। কিন্তু যেসকল দেশ বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে, বাংলাদেশের দারিদ্যবিমোচনের জন্য আনন্দ-উল্লাস করছে, তাঁদের দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে, মানবাধিকার কোন ভিন গ্রহের সংস্কৃতি নয়, বরং উন্নয়ন ও অগ্রগতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ভাষান্তর কর্তৃক অনূদিত।



নিবন্ধটি Bangladeshs FarcicalVote শিরোনামে গত ১৬ জানুয়ারি নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয় আরো দুইদিন আগে। এটি মূলত নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদনা পর্ষদের অভিমত। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই নিবন্ধের বিপক্ষে প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়া উদ্দীন। জিয়া উদ্দীনের লেখার শিরোনাম: Bangladeshs PeacefulElection বা বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনছবিটি নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে নেওয়া।


স্টিভেন এর্লাঙ্গার, নিউ ইয়র্ক টাইমস:


ব্রিটেনের সাথে ছাড়াছাড়ির বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অত্যন্ত শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে এর মাধ্যমে তারা অন্যান্য সদস্যদেরকে ব্লক ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে নিরুৎসাহী করছে, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবশিষ্ট ঐক্যটুকু ধরে রাখতে চাচ্ছে তবে এখন তাদের এই কৌশলই তাদের দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, সম্ভবত তারা এক ধরনের সর্বনাশা সাফল্য অর্জন করেছে এই ইস্যুতে

ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগের আর মাত্র দশ সপ্তাহ বাকি আছে, প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পরিকল্পনা সংসদে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, অথচ এখনো বিকল্প কোন পরিকল্পনার দেখা মিলছে না সব মিলিয়ে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন রীতিমতো বিপর্যস্ত

ইইউর কর্তাব্যক্তিরা এখন দুশ্চিন্তায় আছেন, ব্রিটেন কোন ধরনের চুক্তি ছাড়াই তথাকথিত কঠিন প্রস্থান,করে বসে কি না এর ফলে জমে থাকা বকেয়া কাজ, পণ্য খাদ্যদ্রব্য সরবরাহের বিলম্ব স্বল্পতা প্রভৃতি কারণে ব্রিটেনে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে এই পরিস্থিতি পুরো ইউরোপীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে, যেহেতু ব্রিটেনের ৪০% বাণিজ্য ইইউর দেশসমূহের সাথেই হয়ে থাকে ইইউ এখনো এই সমস্যা সমাধানের কোন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে না, কারণ প্রধানমন্ত্রী মে পুরো প্রক্রিয়ার উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ইতোমধ্যে হারিয়ে ফেলেছেন

ইতালির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের পরিচালক নাথালি টোকি ব্রেক্সিট সম্পর্কে বলেন,  আসলেই এটি এক ধরনের সর্বনাশা সাফল্য, ব্রিটেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বর্তমানে যে ধ্বস নেমেছে সেটি সবাইকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে ইইউ ছেড়ে যাওয়ার চিন্তাটা আসলে কত খারাপএটি সাফল্য, তবে সর্বনাশা কারণ এই মুহূর্তে আর কোন বিকল্প রাস্তা নেই”, তিনি আরো বলেন

ব্রিটেনের অনেকে চাচ্ছেন মার্চের ২৯ তারিখের প্রস্থানটাকে আরেকটু বিলম্বিত করতে যাতে এর মধ্যে একটি নতুন ঐকমত্য তৈরির সুযোগ হয়, কিংবা নেতৃত্বের পরিবর্তন অথবা দ্বিতীয় আরেকটি গণভোটের আয়োজন করা যায় কোন চুক্তিতে উপনীত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলে ইইউ ব্লক হয়তো বা এই বিলম্ব অনুমোদন করবে, তবু বিলম্ব করতে গেলে আরো নানা রকমের জটিলতার সৃষ্টি হবে

টোকি আরো বলেন, ইইউর আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ঝামেলা এড়ানোর জন্য ব্রিটেনের প্রস্থান স্থগিত করলে সেটার ফল খারাপ, এমনকি আরো বেশি জঘন্য হতে পারে। আগামী ২৩ মে অনুষ্ঠিতব্য ইইউ সংসদ নির্বাচন মূলত এই ব্লকের লোকরঞ্জনবাদীদের (পপুলিস্ট) সাথে ইউরোপীয় সংস্কারপন্থীদের (ইউরোস্কেপটিক) চুড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্ধিত ব্রেক্সিট বিতর্ক  এবং তৎপরবর্তী অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার ফলে এমন অনেক ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে, যা বেশির ভাগ ক্ষমতাসীন সরকারের নিকটই অনাকাঙ্খিত।

এতদসত্ত্বেও ইউরোপীয় ব্লকের বেশির ভাগ নেতাই ব্রিটেনের সাথে ছাড়াছাড়ির চুক্তি নিয়ে যে কোন পুনরালোচনা কিংবা পুনর্বিবেচনা প্রত্যাখ্যান করতে একমত বলে মনে হচ্ছে, কেননা তারা মনে করেন বর্তমান অবস্থাতেই ব্রিটেন স্বার্থ হাসিলের পথে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে, কাজেই তাদের সুবিধার্থে আর নতুন কোন আলোচনার দরকার নাই।

এই মুহূর্তে ইউরোপীয়রা বসে আছে ব্রিটেনের আইনপ্রণেতারা কী করেন তা দেখার অপেক্ষায়। একই সাথে তারা ব্রিটেনের ‘চুক্তিবিহীন’ প্রস্থানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ২৯শে মার্চকে ব্রিটেনের জন্য কঠিন সময়সীমা বলে মনে করছেন।

এ বিষয়ে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর ফরেন রিলেশন্স-এর পরিচালক মার্ক লিওনার্ড বলেন, “পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাক, তা কেউই চায় না। কেননা এটা উভয়পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর, যদিও ইউকের জন্য বেশি ক্ষতিকর। কিন্তু অন্যান্য ইইউ রাষ্ট্র যৌক্তিক কারণেই বিশ্বাস করে যে ব্রিটেন এরকম কোন কিছু করবে না, যদি না সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামত চুক্তির বিরুদ্ধে চলে যায়।”

অবশ্য একবার বিচ্ছেদের চুক্তি হয়ে গেলেও পরবর্তীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ব্রিটেনের সম্পর্ক বিভিন্ন উপায়ে আলোচিত হতে পারে, ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এমনটাই মনে করেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যে ইস্যুটি সামনে আসবে তা হলো, আয়ারল্যান্ড দ্বীপে কোন ধরনের দুর্লঙ্ঘনীয় সীমান্ত বানানো যাবে না। এ বিষয়টি ব্রিটেনকে মনে রাখতে হবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যক্রোঁ ব্রেক্সিট ইস্যুতে বিশেষভাবে শক্ত অবস্থানে আছেন, কারণ ব্রিটেন এই ব্লক ছেড়ে চলে গেলে ফ্রান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ পাবে।

কিন্ত বর্তমানে তিনি যেহেতু নিজদেশে মারাত্মক অজনপ্রিয় এবং তাঁর দেশেই ইউরোপ বিরোধী ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলন চলছে, তাই “ব্রিটেনের পরিস্থিতি যত জঘণ্য ও ভয়ঙ্কর হবে, তাঁর দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ততই উন্নতি হবে”, লিওনার্ড সাহেব এমনটাই বিশ্লেষণ করেন।

প্যারিসের সায়েন্সেস পো’র রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান লিকুয়েসন বলেন, “ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজারে (ব্লকের দেশসমূহের মধ্যে কোন ধরনের সীমানা বা অন্যান্য বাঁধা ছাড়াই বাণিজ্য সুবিধা) কোন শিথিলত মেনে নেবে না।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ব্যাপারে, ফ্রান্স “ব্রিটিশদের বাদ দিয়ে নতুন সংসদের সাথে আলোচনা এড়িয়ে যেতে চাচ্ছে। যদিও ব্রিটিশরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ইইউর বাইরে নয়।” তিনি আরো বলেন, “এটা খুবই জটিল পরিস্থিতি।”

এমনকি জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল পর্যন্ত বলেছেন, “এটা পরিষ্কার যে চলমান চুক্তি সম্পর্কে কোন পুনরালোচনা হতে  পারে না।” যদিও তিনি ব্রিটেনের সাথে ঘনিষ্ঠ রাখতে আগ্রহী, এবং নীতিগতভাবে ব্রিটেনের প্রস্থানের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়েও তাঁর কোন আপত্তি নেই।

স্টিভেন এর্লাঙ্গার: ইউরোপে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রধান কূটনৈতিক প্রতিনিধি।



নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত “Amid Brexit Chaos, E.U. Sees a CatastrophicSuccess’” শীর্ষক প্রবন্ধের প্রথম অংশের অনুবাদ। ভাষান্তর ডেস্ক কর্তৃক অনূদিত। ছবি নিউইউর্ক টাইমসের ওয়েবসাই থেকে সংগৃহীত।



Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.