যুক্তরাষ্ট্রে ত্রাণ বিতরণের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবকদের দণ্ড


ক্রিস্টাইন ফিলিপস, ওয়াশিংটন পোস্ট:
দুই হাজার সতের সালের গ্রীস্মকালে যখন অ্যারিজনার তাপমাত্রা তিন অংক ছুয়েছিল, চারজন মহিলা সে সময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ম্যাক্সিকো সীমান্তের বিশাল মরুভূমিতে গিয়েছিলেন, সাথে ছিল পানির জগ আর প্যাকেটজাত খাবার সামগ্রী পরবর্তীতে তারা বলেছিলেন যে এসব খাবার ও পনি তারা তৃষ্ণার্ত অভিবাসীদের জন্য রেখে এসেছিলেন। যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার জন্য সীমান্ত পার হয়েছিলেন।
এই চার মহিলা পরে বিধিবহির্ভূত কাজ করার অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুসারে তারা বিনা অনুমতিতে ৮৬০,০০০ একরের সংরক্ষিত শরণার্থী শিবির ক্যাবেজা প্রিয়েটাতে প্রবেশ করে এবং সেখানে খাবার রেখে এসে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন। গত শুক্রবারে এক বিচারক তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেছেন। ত্রাণকর্মী ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত টহলের মধ্যকার দুশ্চিন্তার সর্বশেষ উদাহরণ এই ঘটনা।
ত্রাণকর্মীরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক অবৈধ সীমান্ত পারাপার বিরোধী কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণের ফলে ন্যায়-অন্যায়ের গভীর বোধ থেকে উৎসারিত তাদের মানবিক কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে ফেডারেল কর্মকর্তাদের দাবি, তারা কেবলই আইন প্রয়োগ করছেন মাত্র।
চার জন মহিলাই অ্যারিজোনা ভিত্তিক সহায়তা গ্রুপ নো মোর ডেথ (আর কোন মৃত্যু নয়) এর স্বেচ্ছাসেবক। টাকসনের একটি আদালতে তিন দিন বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর তাদেরকে দণ্ডিত করা হয়। তারা ছয় মাসে পর্যন্ত কারা দণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।
কাকতালীয়ভাবে এই বিচার হয়েছে ফেডারেল সরকারের আংশিক অচলাবস্থা (শাট ডাউন) চলাকালে। এবারের অচলাবস্থা তিরিশ দিন ধরে চলছে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা অচলাবস্থা। মানবিক ও নিরাপত্তা সংকটের দোহাই দিয়ে সীমান্তে প্রাচীর তোলার জন্য ট্রাম্প ৫.৭ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন, মূলত এই আলোচনার প্রেক্ষিতে বর্তমান অচলাবস্থা চলছে। 
রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাজিস্ট্র্যাট বের্নার্ডো ভেলাস্ক বলেছেন, এই মহিলাদের কার্যক্রম “শরণার্থীদেরকে তাদের আদি অবস্থায় রাখার জাতীয় সিদ্ধান্ত” লঙ্ঘন করেছে। তিনি আরো বলেন যে তাদের কখনোই বিচার হবে না এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকে তারা এই অপরাধ করেছে। তার ভেবেছিলো বড় জোর হয়তো তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হতে পারে অথবা তাদেরকে জরিমানা করা হতে পারে।
নো মোর ডেথ’র স্বেচ্ছাসেবক ক্যাথরিন গাফনি বলেন, এই রায় “সারা দেশের বিবেকবান মানুষদেরকে” চ্যালেঞ্জ করেছে। “তৃষ্ণায় মারা যাচ্ছে এমন কাউকে পানি দেওয়া যদি অপরাধ হয়, তবে এই দেশের আইনে মানবতার আর বাকি থাকলো টা কী?” একটি বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এই চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়। কোর্ট রেকর্ড অনুসারে অভিযুক্তরা বলেন যে নো মোর ডেথে তাদের কাজ ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা অনুপ্রাণিত। তারা বিশ্বাস করেন যে প্রতিটি মানুষেরই টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু পাওয়ার অধিকার আছে।
ফেডারেল প্রসিকিউটররা যুক্তি দেখান, আসামীদের উচিত ছিল এ বিষয়ে সচেতন থাকা যে শরণার্থী শিবিরে একবার ব্যবহারযোগ্য কোন বস্তু ফেলে রেখে আসা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গত সপ্তাহে বিচার চলাকালে প্রসিকিউটর আরো বলেন যে এই মহিলারা ইচ্ছা করে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।  
বর্ডার পেট্রলের মুখপাত্র এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন যে তাদের অ্যাজেন্সি এই গ্রুপকে আলাদ করে লক্ষ্যবস্তু বানায় নি। তারা শুধু অভিবাসন আইন প্রয়োগ করেছে মাত্র। কোর্ট রেকর্ড অনুসারে ওয়ারেন অ্যারিজোনার অ্যাজো শহরে ক্যাবেজা প্রিয়েটা ক্যাবেজা শরণার্থী শিবিরের নিকটবর্তী “দ্য বার্ন” নামক একটি ভবনে দুজন স্থানীয় ম্যাক্সিকানের সাথে দেখা করেন এবং তাদেরকে খাবার ও পানি দেন।
ওয়ারেনের আইনজীবী বিল ওয়াকার বলেন, তাঁর মক্কেলের উদ্দেশ্য ছিলো শুধুমাত্র খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা পৌছিয়ে দেওয়া, দেশে কোন অবৈধ অভিবাসীকে চোরাই পথে ঢুকানো তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।
অ্যামি বি ওয়াং এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন।

ওয়াশিংটন পোস্টে গত বিশ জানুয়ারি প্রকাশিত “They left food and water for migrants in thedesert. Now they might go to prison. শীর্ষক প্রতিবেদনের অনুবাদ। ছবি tucsonsentinel.comথেকে সংগৃহীত। ভাষান্তর ডেস্ক কর্তৃক সংক্ষেপে অনূদিত। 
[blogger]

Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.