কাশমিরে সীমান্ত অতিক্রম করে হামলার পর দুই ভারতীয় যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত, দাবি পাকিস্তানের…



মাইকেল শাফি, যাহরা মালিক, আযহার ফারুক, দ্য গার্ডিয়ান:
বিতর্কিত কাশমিরের আকাশসীমায় বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের আকাশ সীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে ফেলে দিয়েছে পাকিস্তান, এতজন ভারতীয় পাইলটকে গ্রেপ্তারও করেছে।
প্রায় পঞ্চাশ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভারত কর্তৃক পাকিস্তানে হামলা করার একদিন পর পাকিস্তান এ হামলা করে। পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ১৯৯৯ সালে হিমালয়ে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের পর দক্ষিণ এশিয়ায় এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সংকট।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে ভারতও বুধবারে কাশমিরের নিয়ন্ত্রণ রেখার পাকিস্তানি অংশে পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
পাকিস্তান লাহোর, ইসলামাবাদ ও অন্যান্য শহরে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল স্থগিত রেখেছে। অন্তত একটি ভারতীয় বেসরকারী এয়ারলাইনার স্বীকার করেছে যে উত্তর ভারতের বিমান পথ বন্ধ আছে, অমৃতসর, শ্রীনগর, চণ্ডীগড় ও জম্মুতে বিমান চলাচল স্থগিত আছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার সকালে একটি বিবৃতিতে বলেছে, তারা ভারতীয় আকাশ সীমায় প্রবেশ না করেই কাশমিরে নিয়ন্ত্রণ রেখায় “বেসামরিক লক্ষ্যে” আক্রমণ করেছে, “আত্মরক্ষার অধিকার, ইচ্ছা ও সক্ষমতা” প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে।
“আমাদের উত্তেজনা বৃদ্ধির কোন ইচ্ছা নেই, তবে তা করতে বাধ্য করা হলে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি।” দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ ফায়সাল বলেছেন।
জনৈক জ্যেষ্ঠ ভারতীয় কর্মকর্তা গার্ডিয়ানকে বলেন, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান সীমান্তবর্তী রাজৌরি জেলার তিনটি জনশূণ্য গ্রাম নদিয়ান, লাম ও ঝংগরে বিমান সকাল সাড়ে দশটার পর বিমান হামলা চালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু ভারতীয় বিমান বাহিনী কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়।
প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে বুদগামে একটি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত হয়, তবে এই ঘটনার সাথে তা সম্পৃক্ত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গাফুর জানান, ভারতীয় যুদ্ধবিমান এই হামলায় সাড়া দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করেছিলো, তন্মধ্যে দুটি বিমান গুলিতে ভূপাতিত হয়েছে। একটি যুদ্ধবিমান পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশমিরে ভূপাতিত হয়, অন্যটি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশমিরে ভূপাতিত হয়। একজন ভারতীয় পাইলট সৈন্যদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। একটি টুইটে তিনি এসব কথা জানান।
মঙ্গলবারের হামলার পর থেকে ভারত সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে, কেননা ইসলামাবাদ একটি সারপ্রাইজআক্রমণের কথা বলেছে।
বিতর্কিত কাশমিরের রাজধানী শ্রীনগরের আকাশে মঙ্গলবার রাত জুড়ে যুদ্ধবিমান টহল দেয়, কারণ কয়েক শত মাইল দূরে কাশমির নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মর্টারের গুলি বিনিময় হচ্ছিল।
মোটা দাগে ভারতকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পো একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। এতে তিনি ভারত কর্তৃক প্রতিবেশী দেশের সীমান্তের পাঁচ মাইল ভিতরের হামলাকে “জঙ্গী বিরোধী অভিযান” বলে আখ্যায়িত করেন, এবং পাকিস্তানকে “তার মাটিতে সক্রিয় জঙ্গীগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অর্থবহ ব্যবস্থা গ্রহণের” জন্য আহ্বান জানান।
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। মঙ্গলবার ভোরে ভারত আসলে কীসের উপর হামলা চালিয়েছিলো? যদি তারা আদৌ কোন কিছুর উপর হামলা চালায় আরকি। উভয় দেশ স্বীকার করছে যে ভারত অন্ততপক্ষে বালাকোটের কয়েক মাইল অভ্যন্তরে হামলা চালিয়েছে। বালাকোট সীমান্ত থেকে পাঁচ মাইল অভ্যন্তরে একটি ছোট পাকিস্তানি শহর। কিন্তু হিসাব বলছে অন্য কথা।
ভারত দাবি করছে, তারা একটি সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে, এবং জয়শ-এ-মোহাম্মদীর “বড় সংখ্যক” যোদ্ধাদেরকে হত্যা করেছে। যে জঙ্গী গোষ্ঠীটি ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশমিরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে, যে হামলায় ৪০ জন আধা সামরিক সৈন্য নিহত হয়েছে।
পাকিস্তান বলছে, তারা পৌছার আগেই ভারত বালাকোটে আঘাত হানে, এবং একটি খোলা মাঠে চার থেকে পাঁচটি বোমা নিক্ষেপ করে আবার পালিয়ে ফিরে যায়।
গত বুধবার সকালে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জোর দিয়ে বলেন ধরনের হামলার লক্ষ্য পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ছিল না
তিনি বলেন, “কোন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয় নি। অগ্রীম এই হামলার সীমিত উদ্দেশ্য ছিল জয়শ এ মোহাম্মদীর জঙ্গী গোষ্ঠীর অবকাঠামোসমূহের বিরুদ্ধে হামলা করা, ভারতে আরেকটি জঙ্গী হামলা অগ্রীম প্রতিহত করার জন্য।
তিনি আরো যোগ করেন, “ভারত এ অবস্থায় আর উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে চায় না, ভারত দায়িত্ব ও সংযম সহকারে কাজ চালিয়ে যাবে।”
বুধবার বিকালে পাকিস্তান একটি যৌথ সংসদীয় অধিবেশন সম্পন্ন করে, এর আগে জাতীয় কমান্ড অথরিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র দেখভাল করা।
মঙ্গলবার রাতে গাফুর বলেন, “এখন তোমাদের পালা অপেক্ষা করো আর আমাদের সারপ্রাইজের জন্য প্রস্তুত হও।”
উভয় সেনাবাহিনীই একে অপরকে কাশমির নিয়ন্ত্রণরেখায় গ্রামসমূহের উপর এবং প্রতিপক্ষ সেনাবাহিনীরেউপর গোলা বর্ষণের অভিযোগ করছে।
জনৈক পাকিস্তানি কর্মকর্তা এপিকে জানান, ভারতের মর্টার হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কোনো হতাহতের খবর দেন নি, তবে কামালকোটও কালগোসহ বিভিন্ন গ্রামে হামলা করার অভিযোগ করেছেন।
________________________________


নিবন্ধটি গার্ডিয়ানে প্রকাশিত। ভাষান্তর কর্তৃক সংক্ষেপে অনূদিত। ছবি গার্ডিয়ান থেকে সংগৃহীত।



[blogger]

Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.