ওয়ারসাওতে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যপ্রাচ্য সম্মেলনে যাচ্ছে না ফিলিস্তিন


শত অসুবিধা সত্ত্বেও ফিলিস্তিন তাদের অবস্থানের উপর অটল। ফলে জেরুজালেমে ইসরায়েলি দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তারা যে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছিলো, এখনো সেটা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে রাজি নয় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তারই ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের স্বার্থে মার্কিন উদ্যোগে আয়োজিত মধ্যপ্রাচ্য সম্মেলনও বর্জন করছে ফিলিস্তিন। ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভাষান্তর:

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস

আমির তিবন, হারেৎজ:

মার্কিন ও পোলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে আগামী সপ্তাহে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারসাওতে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সম্মেলনে প্রতিনিধি প্রেরণের জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রণ পেয়েছে। যদিও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গত শুক্রবার জানিয়েছে যে তারা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবে না।

আমন্ত্রণ ঠিক কখন পাঠানো হয়েছে, সেটা স্পষ্ট নয়, কারণ এর আগে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দ জানিয়েছিলেন যে তারা কোন দাওয়াত পান নাই, গণমাধ্যমে মার্কিন মুখপাত্রও তখন বলছিলেন, এই সম্মেলনে আরব দেশগুলো ও ইসরায়েল থাকবে, তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সেখানে থাকবে না। ফিলিস্তিনি মুখ্য সংলাপ কর্মকর্তা সায়েব এরেকাত বলেছিলেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অংশগ্রহণ করছে না।

শুক্রবার সকালে জনৈক পোলিশ সরকারি কর্মকর্তা বলেছিলেন যে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রণ পেয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন কর্মকর্তাও বলেন, “আমরা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিধি প্রেরণের জন্য বলেছি।” মার্কিন সূত্র আরো বলছে, “তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত।”

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা এরেকাত টুইটারে লিখেন,এই সম্মেলন ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদ ধ্বংসের পদক্ষেপ, এবং এ বিষয়ে ফিলিস্তিনের অবস্থান স্পষ্ট।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত না হওয়ার নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরিত করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের কোন আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ নাই। ট্রাম্প দাবি করেন দূতাবাস স্থানান্তর “আলোচনার টেবিলের বাইরে থাকবে।”  

শীর্ষ সম্মেলনের কর্মসূচি অনুসারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অর্থনৈতিক দিক আলোচনা করতে ট্রাম্পের জামাতা কুশনার ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্য সফর করবেন। কুশনারের সাথে ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যাসন গ্রিনব্ল্যাট এই সফরে থাকবেন, সফরকালে তারা অন্ততপক্ষে পাঁচটি আরব দেশে থামবেন।

ইসরায়েলের নির্বাচন অবধি শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচন স্থগিত থাকবে, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন ঘোষণার পর এটিই তাদের প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর।

কুশনার এবং গ্রিনব্ল্যাট সৌদি আরব, কাতার ও আরব আমিরাতের শাসকদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। এই তিনটি দেশই ফিলিস্তিনি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গত গ্রীস্মেও কুশনার এসকল দেশে মিসরের গাজায় অর্থনৈতিক প্রকল্পে সহায়তা সম্পর্কে সফর করেছিলেন। বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট। তবে যদি এসকল দেশ এই অর্থনৈতিক প্রকল্পে সহযোগিতা করতে হয়, তবে সেটা হবে শান্তি পরিকল্পনা বিস্তারিত না জেনেই। কারণ এখন অবধি শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশিত হয় নি।

ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজে “Palestinian Authority Declines Invitation to Attend Middle East Conference in Warsaw শিরোনামে প্রকাশিত  প্রতিবেদনের অনুবাদ। ছবি: হারেৎজ থেকে।

[blogger]

Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.