দোহায় সংলাপের নতুন সময় নির্ধারণের বিষয়ে আমেরিকা ও তালেবানের ঐকমত্য


আল জাজিরা আরবি প্রতিবেদন:
আল জাজিরার আফগানিস্তান প্রতিবেদক আফগান তালেবানের একটি সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়েছেন যে, তালেবান ও মার্কিন প্রতিনিধি খলিল জাদের মধ্যে কাতারের রাজধানী দুহায় অনুষ্ঠিত সংলাপের ষষ্ঠ পর্বের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ।
মঙ্গলবারে শেষ হওয়া মার্কিন-তালেবান আলোজনায় “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এমন বিবৃতি প্রকাশের পর তালেবানের সূত্র থেকে এরকম খবর পাওয়া গেলো। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে খোলাসা করা হয়েছে যে চারটি মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ার পরই শান্তিচুক্তি প্রণীত হবে এই চারটি বিষয়ের মধ্যে আছে সন্ত্রাস দমন।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবার্ট প্যালাদিনো বলেন- “তালেবান এ বিষয়ে রাজি হয়েছে যে, উভয় পক্ষ শিগগিরই চারটি ইস্যুসহ শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়ন করবে, সে চারটি ইস্যু হলো: সন্ত্রাস দমনের নিশ্চয়তা, সেনা প্রত্যাহার, আফগানিস্তানে অভ্যন্তরীণ সংলাপ, এবং সর্বাত্মক যুদ্ধ বিরতি।
তিনি আরো যোগ করেন যে, মার্কিন প্রতিনিধি খালিল জাদ পরামর্শের জন্য শিগগিরই ওয়াশিংটনে প্রত্যাবর্তন করবেন।

শান্তিচুক্তির শর্ত:

দুই সপ্তাহব্যাপী সংলাপ শেষে খলিল জাদ টুইটারে লিখেন: “দুহায় তালেবানদের সাথে সংলাপের ম্যারাথন দৌড়ের আরেক পর্ব শেষ করলাম। শান্তিচুক্তির শর্তসমূহ ভালোই ছিল। স্পষ্টতই, উভয়পক্ষই যুদ্ধের সমাপ্তি চায়। গ্রহণ-প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও, আমরা বিষয়টাকে সঠিক পথের উপর অবশিষ্ট রেখেছি, এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।”
সংলাপে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আরেকটি ইস্যু গুরুত্ব পায়, আর তা হলো, তালেগান যে আফগানিস্তানের মাটি ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী আক্রমণের জন্য ব্যবহার করতে দেবে না, তার নিশ্চয়তা। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের হামলার পর থেকে এটি আমেরিকার অন্যতম অগ্রাধিকার মূলনীতি।
তালেবানের মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, “উভয়পক্ষের মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে।” তিনি আরো  যোগ করেন, “বর্তমানে প্রত্যেক পক্ষ আলোচনার অগ্রগতিসমূহ চিহ্নিত করে তাদের নেতৃত্বের নিকট উপস্থাপন করবে, এবং শিগগিরই সংলাপের পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণ করবে।”

ঐকমত্য ও প্রত্যাশা:

যদিও আফগান সরকার এ সংলাপে অংশগ্রহণ করেনি, তবে সরকারের পক্ষ থেকেও অগ্রগতি অর্জনের জন্য আনন্দ প্রকাশ করা হয়েছে।
আফগান রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র হারুন শাখানসুরি বলেন “আশা করি, দীর্ঘ কাল থেকে প্রত্যাশিত তালেবানের সাথে যুদ্ধবিরতির জন্য চুক্তির স্বাক্ষী হবো আমরা। আর শিগগিরই তালেবান ও আফগান সরকারের সরাসরি সংলাপ শুরু হওয়ার ব্যাপারেও আমারা আশাবাদী।
তবে তালেবানের মুখপাত্র একটি বিবৃতিতে বলেছেন যে, যুদ্ধ বিরতি কিংবা ভবিষ্যতে কাবুল সরকারের সাথে সংলাপের বিষয়ে কোন ঐকমত্য এখনো হয়নি। উল্লেখ্য সরকারের সাথে সংলাপের বিষয়টি তালেবান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে। তাদের অভিযোগ, এই সরকার ওয়াশিংটনের হাতে “জিম্মি’। (কাজেই সরকারের সাথে সংলাপ নয়, বরং সংলাপ হবে ওয়াশিংটনের সাথে।)
 তালেবান মুখপাত্রের এ কথা মার্কিন প্রতিনিধির কথার সাথে কিছুটা বিরোধপূর্ণ। খলিল জাদ বলেছেন, “সৈন্য প্রত্যাহার ও সন্ত্রাস দমনের বিষয়ে মৌলিক ঐকমত্যের পরপরই, তালেবান ও অন্যান্য আফগান পক্ষ এর মধ্যে সরকারও আছে শিগগিরই নীতিনির্ধারণ ও পূর্ণ যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সংলাপে বসবে।”
 উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার বিকেলে সংলাপের যে পর্বটি শেষ হয়েছে, তাতে মোট ষোল দিনে সময় লেগেছে, দুইপক্ষের অবিরত আলোচনার এটিই সর্বোচ্চ সময়সীমা।

________________________________

প্রতিবেদনটি আল জাজিরা আরবিতে “طالبان وواشنطن تتفقان على موعد جولة جديدة للتفاوض بالدوحة” শিরোনামে প্রকাশিত। ভাষান্তর কর্তৃক অনূদিত। ছবি আল জাজিরা থেকে সংগৃহীত।

[blogger]

Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.