মে 2019



নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়, আল জাজিরা ইংরেজি:
ভারতের সাধারণ নির্বাচনের আগের সপ্তাহের জনমত জরিপেই দেখা গিয়েছিল, স্বচ্ছ নির্বাচন হলেও নরেন্দ্র মোদির আবার প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের সাথে সামরিক উত্তেজনার পর থেকে তিনি সামরিক জাতীয়তাবাদের চূড়ায় আরোহণ করছিলেন।
তবু কেউ কেউ আশা করছিলেন শেষ পর্যন্ত হয়তো স্রোত বিরোধীদের দিকে ঘোরতে পারে। আনুষ্ঠানিক ফলাফল ২৩ মে প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফল এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তার বিশ্বস্ত সহযোগী ও দলীয় প্রধান অমিত শাহের নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও ভালো হয়েছে: সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে তারা পেয়েছেন তিন শতাধিক আসন।
বিজেপি তাদের জোটের অন্যান্য দলকে সাথে নিয়ে জিতেছে ৩৫৩ আসন, এর ফলে গত কয়েক দশকের মধ্যে মোদিই হতে যাচ্ছেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি এক মেয়াদ সম্পূর্ণ করে আরেক বার সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকারে ফিরছেন।
নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদী শুধু আরেক মেয়াদ ক্ষমতাই নিশ্চিত করেন নি (আবারও তিনি তার জোটসঙ্গীদেরকে খুব কমই গুরুত্ব দিবেন), বরং সেই সাথে তিনি তাঁর হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতি নিয়ে এগুনোর পক্ষে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থনও পেয়েছেন।
ঠিক এই জায়গাতেই ভবিষ্যতে ভারতের জন্য কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে ভয়ের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
গত মার্চে বিজেপির গেরুয়া পোশাকধারী আইন প্রণেতাদের একজন হিন্দু ডানপন্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সাক্ষী মহারাজ একটি ভীতিকর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেন, “মোদী একটি সুনামির নাম, যা পুরো দেশকে জাগিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই নির্বাচর সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৪ সালে আর কোন নির্বাচন হবে না।”
অনেকে এই কথার অর্থ তুলেছেন এভাবে যে আগামী পাঁচ বছরে মোদী তার ক্ষমতা এমনভাবে শক্তিশালী করবেন যে অন্য কোন রাজনৈতিক শক্তিই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সক্ষম হবে না। এই বক্তব্য এই ভয় তৈরি করছে যে বিজেপি হয়তো সংসদীয় ব্যবস্থাকে অনির্বাচিত ব্যবস্থা দিয়ে পরিবর্তিত করার জন্য আইনে পরিবর্তন আনার কথা বিবেচনা করতে পারে।
যদিও মহারাজের বক্তব্যকে বিজেপির বেশির ভাগ নেতা বিচ্ছিন্ন অসংলগ্ন বক্তব্য হিসেবে দেখাচ্ছেন, তবু এই বক্তব্য শাসক দলের সুদূরপ্রসারী উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়।
ঠিক এইখানে ভারতীয় গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করাটা যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয়, এবং এর পিছনে কমপক্ষে তিনটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, মোদী এই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি হিন্দু কট্টর ডানপন্থাকে বাধা দেবেন না। বিজেপি মহারাজ এবং তার মতো অসংলগ্ন মন্তব্য করার প্রবণতা আছে এমন অনেককেই পুনরায় মনোয়ন প্রদান তো করেছেই, উপরন্তু এমন একজন প্রার্থীকেও নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছে, যিনি বর্তমানে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ মোকাবেলা করছেন।
প্রজ্ঞা ঠাকুর, যিনি ২০০৮ সালের মালেগাও বোমা হামলার জন্য অভিযুক্ত, মধ্যপ্রদেশের নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন, তিনিই প্রথম ভারতীয় সাংসদ, যিনি “সন্ত্রাস” হিসেবে অভিযুক্ত থাকা অবস্থায় সংসদে একটি আসন নিশ্চিত করেছেন নিজের জন্য। দেশব্যাপী ক্ষোভ সত্ত্বেও মোদীসহ বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতারা তাকে মনোনয়ন প্রদানের সিদ্ধান্তের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
প্রজ্ঞা ঠাকুর মহাত্মা গান্ধীর ডানপন্থী ঘাতকের গুণগান করে বিজেপি নেতৃত্বকে বিব্রত করতে শুরু করেছেন, আগামী দিনে মোদীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তিনি প্রজ্ঞাকে দল থেকে বহিষ্কার করবেন কি করবেন না। তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বুঝা যাবে যে, দলের নেতৃত্ব বিভক্ত কণ্ঠে কথা বলে এবং বিজেপি তাদের দ্বিতীয় মেয়াদেও কট্টর ডানপন্থার পক্ষে সমর্থন অব্যহত রাখবে।
মোদীর বিজয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার দ্বিতীয় কারণ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা সংরক্ষণের ব্যাপারে বিজেপির অতীত রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। প্রথম মেয়াদে বিজেপি বিচার বিভাগ ও আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে বহুবার নাক গলিয়েছে। বিচারকগণ এবং তদন্তকারীরা প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন যে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভারতীয় গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়ের তৃতীয় কারণ হলো রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাথে মোদীর আদর্শিক সম্পর্ক, যে সংঘ কিনা আবার বিজেপির আদর্শিক উৎসও বটে। মোদী নিজেও বহু বছর এই সংঘের সদস্য ছিলেন। আরএসএস যে মূলনীতি মেনে চলে তা হলো “এক চালক অনুবর্তীত্ব”, সংস্কৃত এ কথাটির অর্থ “এক নেতার অনুসরণ”, এই সংঘ গণতান্ত্রিক মূলনীতি পরিহার করে চলে।
মোদী নিজেও আরএসএসের আদর্শিক গুরু দীনদয়াল উপাধ্যায়ের অনুসারী, যার তত্ত্বগ্রন্থ “অখণ্ড মানবতা”, বিজেপির দার্শনিক গাইডবুকসমূহের একটি। এই অভিসন্ধর্ভে উপাধ্যায় জাতীয়তাবাদের পশ্চিমা ধারণা, পশ্চিমা সেক্যুলারিজম ও পশ্চিমা গণতন্ত্রের ভারতীয়করণের উপর জোর দিয়েছেন”। যদিও তিনি ভারতীয় গণতন্ত্রের রূপরেখার মধ্যে রাজনৈতিক আলাপকে সমর্থন করেছেন, লিখেছেন, “আমরা যদি এটাকে আরেক কট্টরপন্থায় নিয়ে যাই, তবে সেটা হয়তো সমস্যা বলে প্রতীয়মান হতে পারে।”
উপরের সব কয়টি কারণ হিন্দু কট্টর ডানপন্থার সমর্থন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসকরণ এবং অগণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি আনুগত্য  মোদীর দ্বিতীয় মেয়াদে দেশকে এক জাতির কর্তৃত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী।
খুব স্বাভাবিকভাবেই, বিজেপি মোসলমানদেরকে রাজনৈতিক স্পেস কিংবা প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ প্রদানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। বিজেপির কৌশল হলো মোসলমানদেরকে রাজনৈতিকভাবে এড়িয়ে চলা এবং স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী হিসেবে তাদেরকে স্বীকার না করা।

মোদী যেহেতু তার হিন্দু জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে গঠিত সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী নীতি নিয়ে এগুচ্ছেন, বহুজাতিক রাষ্ট্র ভারত ক্রমবর্ধমান হারে বিভক্ত হতে থাকবে। পুরো দেশের উপর সংখ্যা গরিষ্ঠ হিন্দুদের কর্তৃত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিজেপি দুনিয়ার সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষষ্ট্রের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করে ফেলবে।
________________________________

লেখক দিল্লী ভিত্তিক লেখক ও সাংবাদিক। তার বিশেষ আগ্রহের বিষয় হলো হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতি। নিবন্ধটি আল জাজিরা ইংরেজিতে “Should we fear for India's democracy?” শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। ভাষান্তর কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ অংশটুকু অনূদিত।


নুরিয়েল রুবিনি, প্রজেক্ট সিন্ডিকেট:
কয়েক বছর আগে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পশ্চিমা প্রতিনিধি দলের একজন হিসেবে চীনের রাষ্ট্রপতি জি জিনপিং সাথে দেখা করেছিলাম আমাদের সাথে কথা বলার সময় রাষ্ট্রপতি জি বুঝিয়ে বলতে চান যে চীনের উত্থান হবে শান্তিপূর্ণ, অন্য কোন রাষ্ট্রের বিশেষতযুক্তরাষ্ট্রেরথুসিডাইডিসের ফাঁদ(থুসিডাইডিস ট্র্যাপ) নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোন দরকার নাই থুসিডাইডিসের ফাঁদ এই পরিভাষাটি গ্রিক ঐতিহাসিক থুসিডাইডিসের নামে নামকরণ করা হয়েছে, উদীয়মান অ্যাথেন্স নিয়ে স্পার্টার ভীতি কীভাবে উভয় নগর রাষ্ট্রকে অনিবার্য যুদ্ধের দিকে নিয়ে গিয়েছিল, সে ইতিহাস এই ঐতিহাসিক লিখে গেছেন মূলত সেখান থেকেই এই ধারণার উদ্ভব
উভয় পক্ষই থুসিডাইডিসের ফাঁদ সম্পর্কে সচেতন হওয়া সত্ত্বেও চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র যে কোনভাবে এই ফাঁদে পড়বে বলে মনে হচ্ছে যদিও উভয় পরাশক্তির মধ্যে গরম (প্রত্যক্ষ) যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নেই বললেই চলে, ঠাণ্ডা যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি
চলমান উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র চীনকে দোষারোপ করছে এদিকে চীন মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য হলো চীনের যে কোন ধরনের উত্থান ঠেকানো কোন পক্ষের যুক্তি শক্তিশালী, সে তর্কে না গিয়েও বলা যায় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রযুক্তিগত এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা খুব সম্ভব অবশ্যম্ভাবী বাণিজ্যযুদ্ধ রূপে যে উত্তেজনার সূচনা, সেটি স্থায়ী দ্বিপাক্ষিক শত্রুতায় রূপ নিতে পারে এর প্রতিফলন দেখা যায় ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে, যেখানে চীনকে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে, এবং সব ক্ষেত্রে চীনের মোকাবেলা করা দরকার বলে বিবেচনা করা হয়েছে
সে অনুসারে স্পর্শকাতর সেক্টরসমূহের চীনা সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট) উপর যুক্তরাষ্ট্র কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, এবং কৌশলগত শিল্পসমূহ যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ৫জি ইত্যাদিতে পশ্চিমা কর্তৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য আরো অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইউরেশিয়ান দেশসমূহে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য চীন যে বিশাল প্রকল্প হাতে নিয়েছে, সেই বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে অংশগ্রহণ না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের উপর চাপ প্রয়োগ করছে সেই সাথে পূর্ব দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর টহল বৃদ্ধি পাচ্ছে, এদিকে বিতর্কিত অঞ্চলসমূহ দাবি করার ক্ষেত্রে চীন আরো বেশি আগ্রাসী হয়ে পড়ছে
চীন-মার্কিন ঠাণ্ডা যুদ্ধের বৈশ্বিক পরিণতি সোভিয়েত-মার্কিন ঠাণ্ডাযুদ্ধের তুলনায় আরো বেশি তীব্র হবে সোভিয়েত ছিল পতনশীল পরাশক্তি ব্যর্থ অর্থনৈতিক মডেলের দেশ, যেখানে চীন শিগগিরই বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে, এবং খুব সম্ভব অদূর ভবিষ্যতে তার উত্থান অব্যহত থাকবে তাছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্য ছিল খুবই সীমিত পরিসরে, যেখানে চীন পুরোপুরিভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে জড়িত এবং বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত
ফলে পূর্ণমাত্রার ঠাণ্ডা যুদ্ধ নতুন মাত্রার বি-বিশ্বায়ন (ডিগ্লোবালাইজেশন) করতে পারে; অন্ততপক্ষে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে দুটি ব্লকে বিভক্ত করে ফেলবে বহুধা বিভক্ত এ পৃথিবীতে চীন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই চাইবে অন্য সকল দেশ যেন যে কোন একটি পক্ষ গ্রহণ করে, কিন্তু সেসকল দেশের সরকার উভয় পক্ষের সাথে তাল মিলিয়ে ভালো অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করবে সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যতটা ব্যবসায় করছে, তার চেয়ে বেশি ব্যবসা (বাণিজ্য বিনিয়োগের দিক থেকে) করছে চীনের সাথে
যদিও ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে চীন যুক্তরাষ্ট্র উভয়দেশই কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ৫জির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিসমূহ আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, ফলে সেখানে এরকম মাঝামাঝি অবস্থান ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে প্রত্যেক দেশকেই বেছে নিতে হবে দুটি পক্ষের যে কোন একটিকে, এবং এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব হয়তো আবার বি-বিশ্বায়নের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করবে
যাই হোক না কেন, এই শতাব্দির ভূরাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক একটা পর্যায় পর্যন্ত তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব অবশ্যম্ভাবী কিন্তু আদর্শিক দিক থেকে উভয় পক্ষের উচিত হবে গঠনমূলকভাবে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে চলা, কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহযোগিতা করা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সুস্থ প্রতিযোগিতা করা
যদি এই সম্পর্ক ভুলভাবে চলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র চীনের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ উত্থানকে দমন করার চেষ্টা করে এবং চীন আগ্রাসীভাবে এশিয়া বিশ্বের অন্যত্র তার প্রভাব বিস্তার করে তাহলে একটি পূর্ণমাত্রা ঠাণ্ডাযুদ্ধ সংগঠিত হবে এবং একটি গরম যুদ্ধ (অথবা এক গাদা প্রক্সি যুদ্ধ) এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না হয় তো একবিংশ শতাব্দিতে থুসিডাইডিসের ফাঁদ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর চীনকে নয়, বরং পুরো পৃথিবীকেই হয়তো গ্রাস করে ফেলবে
________________________________

লেখক: নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্লিন্টনের আমলে এই ভদ্রলোক হোয়াইট হাউজে অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করতেন তাঁর লেখাThe Global Consequences of a Sino-American Cold Warশীর্ষক নিবন্ধটি প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে প্রকাশ হয়েছে ভাষান্তর কর্তৃক সংক্ষেপে অনূদিত

Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.