আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের হারজিত...



ইরফান খান, এশিয়া টাইমস:
বহু বছর ধরে আফগানিস্তানে সম্পৃক্ত থাকার বেশির ভাগ মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করার ফলে দেশটিতে এর বিশৃঙ্খল প্রভাব পড়েছে
সৈন্য প্রত্যাহারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ওয়াশিংটন সৈন্য মোতায়েনের ব্যয়ে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে এখন অবধি যুদ্ধের খরচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া প্রতিদ্বন্দ্বীতা, রাশিয়ার একাধিপত্য, মার্কিন-চায়না বাণিজ্য যুদ্ধ, বিশ্ব শক্তি হিসেবে চীনের উত্থান এবং বিশ্বায়নের দুশ্চিন্তায় দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পৃথিবীতে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ভূরাজনৈতিক প্রভাব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতি, বিশেষত এশিয়া নীতি খুবই জটিল আর ট্রাম্প সাহেবের অনিশ্চিত মতিগতি দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের আচরণকেই প্রতিফলিত করে ঠাণ্ডা যুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ শোষণের সুযোগের কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে কূটনৈতক সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছিল অঞ্চলের একজন সফল কিন্তু বহিরাগত খেলোয়াড় হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক স্থাপন করে তার অবস্থানকে আরো শক্তপোক্ত করে ফেলেছে
/১১ পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে নাক গলাতে শুরু করে, তালেবান সরকারকে (১৯৯৬-২০০১) ক্ষমতা থেকে সরায় এবং পরবর্তী বিদ্রোহসমূহ দমন করতে থাকে, সেই সাথে সন্ত্রাসবিরোধিী যুদ্ধও চালিয়ে যায় ১৮ বছরব্যাপী সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারগুলো প্রচুর মানুষের প্রাণহানীর, পাশাপাশি পরিবেশগত বিপর্যয়েরও স্বাক্ষী হয়েছে
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রই মূল বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয় এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ান সংঘাতসমূহে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে একই সময়ে বিশ্বশক্তি হিসেবে চীনের উত্থান শুরু হয় এবং এটি বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি
চীনের উত্থানকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আধিপত্যের জন্য একটি প্রতিবন্ধক বলে মনে করে সেই সাথে সিরিয়ায় রাশিয়ার হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে একটি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলার ভয়ানক পদক্ষেপ ছিল তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র পিছনে ফিরতে শুরু করে
আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের মান্তি প্রক্রিয়ার উদ্যোগ মূলত এই কারণে জরুরি হয়ে পড়েছে সৌভাগ্যবশত, যুক্তরাষ্ট্র, তালেবান এবং আফগানিস্তান সরকার এবং সেই সাথে অঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন যেমন পাকিস্তান, চীণ, সৌদি এবং আমিরাত সবাই বিষয়ে একই অবস্থানে আছে সবাই যে কোন উপায়ে মিটমাট চায় যাই হোক, ওয়াশিংটন একটি মুশকিলে আছে: তালেবারন এক বছরের মধ্যে সব ধরনের বিদেশী শক্তির প্রত্যাহারের দাবি করছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছে আরো চার-পাঁচ বছর মাঠে সৈন্য রাখতে এখন সবচেয়ে জরুরি হলো উভয়পক্ষের সমোঝতা ছাড় দেওয়ার মানসিকতা সকল অংশীজন মিলে অবশ্যই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি গঠনমূলক কৌশল নির্ধারণ করতে হবে
মিটমাটের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শান্তি প্রক্রিয়ায় আফগান সরকারের অংশগ্রহণকে তালেবানের অস্বীকার করা কারণ তাদের মতে বর্তমান সরকার মার্কিন পাপেট সরকার
ভারতও কাবুলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ন করতে চাচ্ছে, তালেবান সরকারে কোন ভূমিকা পালন না করলেই কেবল সেটি সম্ভব ভারত-পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয়তো তাদের যে কোন এক দেশকে আফগানিস্তানে অর্থবহ ভূমিকা রাখতে বাধা দেবে
তবে ভারত কাবুলের সাথে তাদের কূটনৈতিক, সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য চীনের সাথে কাজ করতে পারে আফগানিস্তানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হলেই কেবল এটা সম্ভব
আফগানিস্তানের মূল ধারার রাজনৈতিক দল হিসেবে যদি তালেবানের উত্থান হয়, তবে তালেবানের জন্য পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে। যদি এরকমটা হয়, তাহলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা পাকিস্তানের মতো হতে পারে।
তালেবান চায় দেশে শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠিত হোক, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চায় আধুনিক বিচার ব্যবস্থা। তালেবান যদি একটি ইসলামি রাজনৈতিক দল হিসেবে অন্যান্য দলের সাথে প্রতিযোগিতায় নামে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তান আফগানিস্তানের জাতীয় রাজনীতিতে নাক গলাবে। তবে, এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সাথে একটি ভালো কার্যকর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
আমেরিকা জিতবে, নাকি তালেবান জিতবে, এ কথা এখনই বলা কঠিন। আফগানিস্তানে তালেবান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কে হেরেছে, আর কে জিতেছে, তা স্পষ্ট হতে হয়তো আরো এক দশক অপেক্ষা করতে হবে।
________________________________

নিবন্ধটি এশিয়া টাইমসে ‘Is the US winning or losing in Afghanistan? শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। ছবি ওয়াশিংটন পোস্ট থেকে সংগৃহীত।

[blogger]

Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.