বাংলাদেশটা আসলে কোথায়?—ট্রাম্প




বিবিসি আরবি:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বেঁচে যাওয়া ১৭টি দেশের ২৭ জনের সাথে হোয়াইট হাউস কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন।
তিরিশ মিনিটব্যাপী এই সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন, এ সময় তিনি অংশগ্রহণকারীদেরকে তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে বলেন, এবং বেশ মনযোগের সাথে এসব অভিজ্ঞতা শুনেনও।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইরাকের ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের লোকজন, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, উত্তর কোরিয়া, ইরান, তুরস্ক, কিউবা, ইরিত্রিয়া, নাইজেরিয়া ও সুদানের খ্রিষ্টানরা এবং আফগানিস্তান, সুদান, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের মুসলিমরা।
নোবেল পুরস্কার
সাক্ষাৎকার চলাকালে ট্রাম্প সাহেব ইরাকের ইয়াজিদি নারী নোবেল বিজয়ী নাদিয়া মুরাদকে বিস্ময়ের সাথে প্রশ্ন করেন “আপনি যে নোবেল পেয়েছেন, এটা সত্য নয়, তারা এই পুরস্কারটাই কেন আপনাকে দিল?” এ সময় নাদিয়া মুরাদ প্রশ্ন শুনে বেশ অবাক হয়ে যান।
এরপর মুরাদ বর্ণনা দেন, কীভাবে তিনি যৌনদাসী হিসেবে আইএস কর্তৃক বিক্রিত হয়েছিলেন, এবং কীভাবে ধর্ষণ, প্রহার ও শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন এই সংগ্রামে বিজয়ী হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। এরপর জার্মানিতে তার চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি ইয়াজিদি নারীদের উপর যে হৃদয়বিদারক নির্যাতন চলছে, সে বিষয়ে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেন।
মুরাদ আরো বলেন, “আমরা জীবন ধারণের জন্য কোন নিরাপদ স্থান পাচ্ছিলাম না। তারা আমার মা এবং ছয় ভাইবোনকে হত্যা করেছে, শুধু আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।”
এসময় ট্রাম্প মুরাদের কথার ফাঁকে বলেন: “তোমার মা এবং ভাইবোন এখন কোথায়?
মুরাদ বিব্রত হয়ে জবাব দেন: “তারা মারা গেছেন! তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে! এবং তারা এখন সিনজারের গণকবর সমূহে সমাহিত আছেন। আর আমি এখনো নিরাপদ জীবনের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি। দয়া করে আপনি কিছু একটা করেন।”
ট্রাম্প তখন উত্তর দেন, আপনি যে অঞ্চল সম্পর্কে কথা বলছেন, সে সম্পর্কে আমি ভালোভাবেই জানি। হ্যাঁ, সেখানে পৌঁছা কঠিনই বটে।”

বাংলাদেশ কোথায়:

একই ভাবে এক রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের, যারা কিনা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলেন, তাদের বিষয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপ জানতে চেয়েছিলেন।
তিনি বলেন: “আমি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এক রোহিঙ্গা শরণার্থী। আর বেশির ভাগ শরণার্থীই চায় যথাশিগগিরই নিজ দেশে ফিরে যেতে। আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য আপনার পদক্ষেপ কী?”
তখন ট্রাম্প সাহেব তাকে জিজ্ঞাসা করেন: “বাংলাদেশ আসলে কোথায়?”
এসময় তার এক সহযোগি তাকে জানান যে, বাংলাদেশ বার্মার প্রতিবেশী দেশ।

অনেক কঠিন সময় ছিল। তোমাকে ধন্যবাদ।

সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইস্টার পেট্রোস, যাকে বোকো হারাম ২০১৪ সালে অপহরণ করেছিল।
তিনি ট্রাম্পকে বলেন: মাননীয় প্রেসিডেন্ট, আপনাকে ধন্যবাদ...।
ট্রাম্প জবাব দেন: তোমাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।
পেট্রোস: ...আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্যভ আমি নাইজেরিয়ার ইস্টার। বোকো হারামের নিকট থেকে আমি পালিয়েছিলাম।
ট্রাম্প: ঐ সময়টা অনেক কঠিন ছিল, তাই না?
পেট্রোস: হ্যাঁ
ট্রাম্প: অনেক কঠিন সময় ছিল। তোমাকে ধন্যবাদ।
________________________________

প্রিয়া সাহা নাম্নী জনৈক হিন্দু নারী কর্তৃক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিকট বাংলাদেশ নিয়ে বিচার দেওয়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে ঐদিনের অনুষ্ঠানে আরো অনেকেই অভিযোগ জানাচ্ছিলেনন ট্রাম্পের নিকট, তাদের মধ্যে ছিলেন এক রোহিঙ্গাও। তার কথা শুনে ট্রাম্প জিজ্ঞেস করেন, বাংলাদেশটা আসলে কোথায়? এ অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিবিসি আরবির প্রতিবেদনের বাংলা অনুবাদ, ভাষান্তরের সৌজন্যে...
[blogger]

Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.