ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন নেতানিয়াহু



আল জাজিরা:
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত অচলাবস্থার নির্বাচনের পর ইসরায়েলের রাষ্ট্রপতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে।
গত বুধবারে রাষ্ট্রপতি রিউভেন রিভলিন, নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্টজের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের পর ঘোষণাটি এসেছে। বেনি গান্টজ “তীব্র দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন এক জন নেতার,নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
ডানপন্থী লিকুদ পার্টির ৬৯ বয়সী নেতা নেতানিয়াহু, যিনি দেশটির সরবচেয়ে দীর্ঘকালীন নেতাও বটে, সরকার গঠনের জন্য তার হাতে ২৮ দিন সময় আছে। অবশ্য দরকার হলে রাষ্টপতির নিকট আরো দুই সপ্তাহ সময় চাইতে পারবেন।
তিনি ব্যর্থ হলে মধ্যপন্থী নীল-সাদা দলের নেতা গান্টজকে সুযোগ দেওয়া হবে।
টেলিভিশনে প্রচারিত মনোনয়ন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি রিভলিন নেতানিয়াহুকে বলেন, “মহাশয়, আমি আপনাকে সরকার গঠনের সুযোগ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।”
রিভলিনের প্রস্তাব গ্রহণ করে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা নেতানিয়াহু বলেন, সাবেক জেনারেল গান্টজের তুলনায় তার সাফল্যের সম্ভাবনা একটুখানি বেশি।
নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে এমন একটি পরিস্থিতির কথা কল্পনা করছিলেন, যেখানে তিনি এবং গান্টজ আরেক বার ক্ষমতা ভাগাভাগি করার সুযোগ পাবেন। যখন কিনা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে এসেছিল যে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে তৃতীয় আরেকটি নির্বাচন আয়োজন ছাড়া আর কোন উপায় নেই। উল্লেখ্য ইসরায়েলের অনেকেই তৃতীয় নির্বাচন চাচ্ছিলেন।
তিনি বলেছেন, “আমি যদি সফল না হই তাহলে আমি আপনার প্রস্তাব আপনার নিকট ফিরিয়ে দেব, ঈশ্বর, ইসরায়েলের জনগণ এবং আপনার সহযোগিতায় আমরা একটি সম্প্রসারিত জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করবো।”
দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর সামনে এখনো পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠনের কোন স্পষ্ট উপায় নেই। এ বছরে দ্বিতীয় বারের মতো গত ১৭ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
লিকুদ পার্টি নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলো ১২০ আসনের সংসদে ৬টি আসন কম থাকার কারণে সরকার গঠন করতে পারছে না। নতুন হিসাবনিকাশে লিকুদ পার্টির হাতে আছে ৫৫টি আসন, এর বিপরীতে নীল-সাদা দলের হাতে আছে ৫৪টি আসন।
নেতানিয়াহু ঐক্যের সরকারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে হুমকি এবং শিগগিরই ট্রাম্পের ঘোষিতব্য “শতাব্দির বন্দোবস্ত” বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় পুনর্মিলন দরকার।
ট্রুম্যান ন্যাশনাল নিরাপত্তা প্রকল্পের অংশীদার এলিস জ্যাকবস বলে, রাষ্ট্রপতি নেতানিয়াহুকে দায়িত্ব দিয়েছেন কারণ তার নিকট মনে হয়েছে এটিই সবচেয়ে ভালো উপায়।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “এই মুহূর্তে লিকুদ পাার্টির সকল মন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি অনুগত আছেন। কাজেই, নেতানিয়াহু যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হবেন এটি কষ্টকল্পিত হলেও অসম্ভব নয়।”
তিনি আরো যোগ করেন, “রাষ্ট্রপতির পদটি যদিও প্রতীকী, তবু রাষ্ট্রপতি এ বছরের মধ্যে ৩য় নির্বাচন এড়ানোর জন্য তার সাধ্যানুযায়ী সবকিছুই করবেন । আর তিনিও লিকুদ পার্টির সাবেক সদস্য।”

প্রতিবেদনটি আল জাজিরা ইংরেজি থেকে নেওয়া। মূল প্রতিবেদন পড়ুন।


[blogger]

Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.