রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ট্রাম্পের হারের সম্ভাবনা – ভীত রিপাবলিকান শিবির

  


রিচার্ড লাসকম্ব, দি গার্ডিয়ান:

টেড ক্রুজ নির্বাচনে “মহাবিপর্যয়ের” ভয়ে ভীত। তাঁর সহকর্মী শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান সিনেটর কথা বলছেন জো বাইডেনের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। এমনকি প্রচণ্ড বিশ্বস্ত সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠদের নেতা মিচ ম্যাককনেলও হোয়াইট হাউসের ধারে কাছে যেতে পারেননি, ট্রাম্পের করোনা প্রটোকলের কারণে।

তর্কের খাতিরে ট্রাম্পের মিত্রদের দাবি অনুসারে ধরে নেওয়া যায়, তারা হয়তো ব্যক্তিগতভাবে সাধারণ নির্বাচনের কিছু দিন আগে থেকে ট্রাম্পের সমর্থনে সভা-সমাবেশ করবেন, যখন জনমত জরিপে দেখাবে যে তিনি হারতে বসেছেন।

কিন্তু সমষ্টিগতভাবে বেশ কয়েক জন রিপাবলিকান নেতা যেভাবে ট্রাম্প, তার প্রশাসন ও নীতিমালা থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন, তাতে রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের উদ্বেগেরেই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ৩ নভেম্বর হয়তো জো বাইডেন ও ডেমক্রেটদের একটি দূর্দান্ত জয় হতে পারে।

গত শুক্রবার সিএনবিসির স্কুয়াক বক্স অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে টেক্সাসের জুনিয়র সিনেটর এবং ট্রাম্পের সাবেক মূখ্য সমালোচক ক্রুজ বলেন, “আমার মনে হয়, এই নির্বাচন হবে আমাদের জন্য ভয়ঙ্কর। আমার ধারণা আমরা হোয়াইট হাউস ও হাউস অফ কংগ্রে, ‍দুটোই হারাতে পারি, ফলে এ নির্বাচন হতে পারে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারীর চেয়েও মহাবিপর্যয়কর।

তিনি আরো যোগ করেন, “আমি খুবই চিন্তিত, কারণ পরিস্থিতি মারাত্মক অস্থিতিশীল।” যদিও তিনি এও বলেন যে, তার মতে “বিশাল ব্যবধানে” ট্রাম্পের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ট সহযোগীদের একজন টিলিস, যিনি দুই সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে কোভিড-১৯’র সুপার স্প্রেডার ছিলেন বলে মনে করা হয়, নর্থ ক্যারোলিনার সিনেটর হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হতে তিনি বেশ শক্ত লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যাল কানিংহামের সাথে বিতর্ক চলাকালে ট্রাম্পের পরাজয়ের সম্ভাবনার কথা তুলেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, “বাইডেনের রাষ্ট্রপতিত্বের সময় সবচেয়ে ভালো ভারসম্যপূর্ণ অবস্থা হবে যদি সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে।” অসাবধানতানশত তিনি বলেই ফেলেছিলেন যে তিনি মনে করেন ডেমক্রেটদের বিজয় সময়ের ব্যাপার মাত্র।

অন্যান্য স্থানেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে খোদ রিপাবলিকান শিবিরের অসন্তোষ ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষত যে সকল প্রার্থী নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় মারাত্মক রকমের ব্যস্ত, তাদের মধ্যে এ মনোভাব আরো প্রকট।

পূর্বসূরী জনম্যাককেইনের উপর ট্রাম্পের ক্রমাগত আক্রমণে ক্ষুব্ধ হয়ে অ্যারিজোনার সিনেটর মার্থা ম্যাকসেলি ট্রাম্পের উপর পাল্টা আক্রমণ করেছেন, যিনি বিশাল ব্যবধানে নাসার সাবেক নভোচারী মার্ক কেলিকে হারিয়ে সিনেটর হয়েছিলেন। গত সপ্তাহে এক বিতর্কে মার্থা বলেন, “সত্যি বলতে কী, তিনি (ট্রাম্প) যখন এটা করেন, তখন আমার মাথায় রক্ত উঠে যায়।”

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে “বিভ্রান্তি সৃষ্টি” ও “অসাবধানতার অভিযোগে টেক্সাসের সিনেটর জন কর্নিন এ সপ্তাহে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।

এ দিকে অন্তত দুই মাস ধরে ম্যাক কনেল কেন হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন না, সে বিষয়টিকে অবশ্য ভিন্ন ভাবে দেখা যেতে পারে। কারণ তার বয়স এখন ৭৮, আর হোয়াইট হাউস করোনা-কালে এতোটাউ ঝুঁকিপূর্ণ যে খোদ রাষ্ট্রপতিও ইতোমধ্যে করোনা আক্রান্ত।

তিনি বলেছিলেন, “আমার ধারণা, পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের পদ্ধতি আমার চেয়ে ভিন্ন। আমি সিনেটে যে পরামর্শ দিয়েছিলাম, তা হলো, আমরা যেন মাস্ক পরি এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি।”

কিন্তু গত চার বছর ধরে ট্রাম্পের মিত্রদের ভিন্ন মত শোনা হয়নি বললেই চলে। মহামারী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া, সেটি রিপাবলিকান শিবিরেও প্রভাব ফেলেছে, এমন ঝুঁকিই প্রতীয়মান হচ্ছে ম্যাক কলিনের কথায়।

 

–––––––––––––––––––––––––––––––––

লেখাটি দি গার্ডিয়ান পত্রিকায় Republicans express fears Donald Trump will lose presidential election শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

 


[blogger]

Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.