সায়্যিদি আহমদ ওলদ আল-আমীর, আল জাজিরা







গত নভেম্বরের সাতাশ তারিখ চাদের রাষ্ট্রপতি ইদরিস দিবি ইসরায়েলে তিন দিনের সফর করেন এই সফরকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতিনিয়াহু ঐতিহাসিক সফর আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি শিগগিরিই চাদ সফরে যাবেন সফরে তিনি ৪৫ বছর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এনজামিনা তেল আবিবের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় সূচনা করার ঘোষণা দেবেন চাদসহ অর্গ্যানেইজেশন অব আফ্রিকান ইউনিটির বেশির ভাগ সদস্য দেশ ১৯৭৩ সালে ফিলিস্তিন আরব ভূখণ্ড দখল সেসব অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলো তবে এসব কারণকে এখন আর অনেক আফ্রিকান নেতা ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে কোন প্রতিবন্ধকতা মনে করছেন না

বিশেষত কতিপয় আরব সংস্থা তেল আবিবের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে কোন সমস্যা দেখছে না অবশ্য ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের সাথে আফ্রিকানদের সম্পর্ক তৈরিতে কোন যৌক্তিক বাধা নেই, যেখানে আরব দেশগুলোই ফিলিস্তিন ইস্যুকে ঝেড়ে ফেলে তেল আবিবের নিকটবর্তী হচ্ছে, প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে, যেভাবেই হোক এর সর্বশেষ উদাহরণ নেতিনিয়াহুর মাস্কট (ওমানের রাজধানী) সফর, কয়েকটি প্রতিবেদনে ইসরায়েল-সুদানের নৈকট্যের উল্লেখ এখন প্রশ্ন হলো ইসরায়েল কীভাবে আফ্রিকা মহাদেশে প্রবেশ করছে? আর ইসরায়েলের আফ্রিকায় প্রবেশের দরজা পুরোপুরি উম্মুক্ত, নাকি সেখানে কোন বাধা আছে? আর চাদের রাষ্ট্রপতি সুনির্দিষ্টভাবে তেল আবিবের নিকট থেকে কী আশা করেন? ঠিক এই সময়ই কেন তিনি তেল আবিব সফর করলেন?


ইসরায়েল আফ্রিকা: সফরের কূটনীতি:


ইসরায়েল আফ্রিকা-ইসরায়েল সম্মেলনটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়নি, যেটি ২০১৭ সালের অক্টোবরে উন্নয়ন নিরাপত্তা টেকনলোজি শিরোনামে টোগোর রাজধানী লোমেতে হওয়ার কথা ছিল কারণ তখন সম্মেলনের বিষয়ে আফ্রিকানরা একমত হতে পারে নি বরং দক্ষিণ আফ্রিকাসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু আফ্রিকান রাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থেকেছিলো, আরো কিছু দেশ অংশগ্রহণ করতে অনিচ্ছুক ছিল তদুপরি লোমেতে শ্রমিক বিক্ষোভ চলছিল তখন এসব কারণে ইসরায়েল-আফ্রিকা সম্মেলন স্থগিত করতে হয়েছিল ইসরায়েল এখনো সম্মেলনটি আয়োজন করতে জোরাজোরি করছে, সেই সাথে আফ্রিকান ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক সদস্যও হতে চাচ্ছে মূলত এটিই ইসরায়েলের সফর-কূটনীতির মূল উদ্দেশ্য

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামেন নেতিনিয়াহু ২০১৭ সালের জুন লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত পশ্চিম আফ্রিকান দেশ সমূহের অর্থনৈতিক সমিতি একওয়াসের একান্নতম রাষ্ট্রপতি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সে সম্মেলনে তাকে বেশ সম্মানের সাথেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তার উপস্থিতির কারণেই মরক্কোর রাজা মোহাম্মদ (ষষ্ঠ) এই সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিলেন যদিও মরক্কো এমনিতে এই আঞ্চলিক সংস্থার সাথে সংযুক্ত হতে অনেক চেষ্টা করছে

ইসরায়েল অবশ্য শুধুমাত্র পশ্চিম আফ্রিকাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে না, বরং উত্তর আফ্রিকা আফ্রিকার অন্তরীপ (Horn of Africa বা আফ্রিকার শিং হিসেবে পরিচিত) অঞ্চলেও গুরুত্ব দিচ্ছে ২০১৬ সালের গ্রীস্মে নেতিনিয়াহু উত্তর আফ্রিকা আফ্রিকার শিংঅঞ্চলের চারটি দেশ সফর করেন দেশগুলো হলো: উগান্ডা, কেনিয়া, রুওয়ান্ডা ইথিওপিয়া সফর থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে অর্থনৈতিক কৌশলগত বাজিই মূলত এই অঞ্চলে ইসরায়েলি কূটনীতির মূল নিয়ামক আর নেতিনিয়াহুর আফ্রিকা সফরেরও আগে ২০১৪ সালের জুনে ইসরায়েলের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যান উত্তর আফ্রিকা আফ্রিকান অন্তরীপের দেশ রুয়ান্ডা, ইথিওপিয়া, কেনিয়া সফর করেন, সেই সাথে সফর করেন পশ্চিম আফ্রিকার আরো সাতটি দেশ সেবারের সফরও ছিল আফ্রিকান ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক হওয়ার আগ্রহ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে


আফ্রিকান দেশগুলো ইসরায়েলের নিকট কী চায়?

আফ্রিকান দেশগুলো মূলত ইসরায়েলের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে। তারা তাদের নিজেদের দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের সাহায্য কামনা করে, সেই সাথে দেশের টেকনোলোজি খাতেও ইসরায়েলকে পাশে চায়। সন্দেহ নাই এসব ক্ষেত্রে ইসরায়েল বিশ্বের অন্যতম সেরা দেশ, আফ্রিকান দেশগুলো তাই ইসরায়েলের সাহায্যপ্রত্যাশী।  এছাড়া অনেক দেশ তাদের কৃষিখাতে উন্নয়নের জন্যও ইসরায়েলে উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযৌক্তিক সহযোগিতা লাভের ব্যাপারে আগ্রহী। মূলত এসব মূলা দেখিয়েই ইসরায়েল আফ্রিকান দেশগুলোকে তার প্রতি টানছে। (সংক্ষেপিত)


আফ্রিকায় ইসরায়েলের সম্পর্ক বৃদ্ধি: কৌশলগত কারণ

ইসরায়েল নিরেট কৌশলগত কারণেই আফ্রিকায় প্রবেশ করতে চাচ্ছে বিগত কয়েক দশকে আরব দেশগুলো যেভাবে ইসরায়েলকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলো, সেই বিচ্ছিন্নতার সমাপ্তি চাচ্ছে ইসরায়েল তাই ইসরায়েল আফ্রিকাকে যা দিচ্ছে, সেটা আফ্রিকার উন্নয়নের জন্য নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের বিপক্ষে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগে অভিযুক্ত ইসরায়েল তার ভাবমূর্তি ভালো করার জন্যই দিচ্ছে

লক্ষ্য করার বিষয় হলো, আফ্রিকা মহাদেশ বর্তমানে একদিকে ইসরায়েল আর আরেক দিকে ইরান হিজবুল্লাহর বিরোধের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছেলেবাননীরা উনিশ শতকের শেষের দিক থেকে পশ্চিম আফ্রিকায় বসতি গাড়ছেবর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকায় লেবাননীদের সংখ্যা প্রায় তিন লাখের মতোএসব দেশে, বিশেষত সেনেগাল কোত দিভোয়ারে (আইভরি কোস্ট) লেবানিজ বংশোদ্ভূতদের অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক অবস্থাও বেশ ভালোআইভরি কোস্টের রাজধানীতে একটি বড় মসজিদ আছে, স্থানীয়দের নিকট যেটিমসজিদে হিজবুল্লাহ নামে পরিচিতএসকল লেবাননীদের মধ্যে অনেকে শিয়া মতাদর্শেরও অনুসারীইসরায়েলি গোয়েন্দারা আফ্রিকায়া লেবাননীদের ব্যবসায়িক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেতাদের ধারণা, আফ্রিকার লেবাননী সম্প্রদায় হিজবুল্লাহকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে থাকে

আইভরি কোস্টে ইসরায়েল অনেকগুলো বিনিয়োগ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে শুধুমাত্র লেবাননীদের সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্যপাশাপাশি তারা অনেকগুলো সিকিউরিটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছে হিজবুল্লাহ সমর্থক, তাদের বিস্তার অর্থনৈতিক প্রভাব বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করার জন্যইসরায়েলি-কানাডিয়ান ফিজিওল ডিফেন্স রয়েছে অর্থনৈতিক রাজধানী আবিদজানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে, পাশাপাশি আবিদজান বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বেও একই কোম্পানিএর মানে শহরের সকল মানুষের চলাফেরা, আমদানি-রফতানি সবকিছুই ইসরায়েলি নজরদারিতে রয়েছেসিয়েরা লিওনেআমাল আন্দোলন” (লেবাননের শিয়া রাজনৈতিক সংগঠন) সমর্থক লেবাননি ব্যবসায়ীরা হীরার ব্যবসায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেনএকই সময়ে ইসরায়েল আফ্রিকায় ইরানের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেএখানে আরো উল্লেখ্য যে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ইরানের বিশেষ ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, অ্যাপার্টহাইড বিরোধী সংগ্রামে তেহরান দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় কংগ্রেসের (বর্তমান সরকার দল) পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছিলো

আফ্রিকায় ইরান হিজবুল্লাহর প্রভাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সর্বশক্তি সর্বশক্তি দিয়ে ইসরায়েলকে সহযোগিতা করছে২০১১ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার প্রশাসন লা লেবানিজ ক্যানাডিয়ান ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছিলো যে, এই ব্যাংকটি ভেনিজুয়েলা মেক্সিকো থেকে ইউরোপে কোকেইন পাচারে মধ্যস্থ হিসেবে কাজ করছে, আর কাজটি করা হচ্ছে পশ্চিম আফ্রিকায় বিদ্যমান হিজবুল্লাহর নেটওয়ার্কে মাধ্যমেমার্কিন প্রতিবেদন অনুসারে, আটলান্টিক প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, বিশেষত দক্ষিণ আমেরিকা পশ্চিম আফ্রিকায় মাদক পাচারে শিয়া সংগঠনসমূহ নিরাপত্তা দেয়আর এসকল কাজের লভ্যাংশ পৌছে কলোম্বিয়ার একটি সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন এবং হিজবুল্লার নিকট২০১৩ সালের মে মাসে নাইজেরিয়ার আদালত ইরানি ব্যবসায়ী আজিম আগাজানিকে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার জন্য অভিযুক্ত করেনাইজেরিয়ার অভিযোগ অনুসারে এই ব্যবসায়ী ল্যাগোসে ১৩টি অস্ত্র ভর্তি কন্টেইনার আমদানি করেছিলেন দক্ষিণ সেনেগালের বিদ্রোহীদেরকে দেওয়ার জন্যএই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডাকার তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে

ইরানের পররাষ্ট্র মন্তরণালয় ঘটনার জন্য ইসরায়েল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গুজব ছড়িয়েছে বলে দাবি করেতাদের দাবি মতে, ইরানি ব্যবসায়ী আজিম আগাজানিকে নাইজেরিয়ায় ইরানি অস্ত্র পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করার মাধ্যমে ইরান-নাইজেরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট করার জায়নবাদী-মার্কিন পরিকল্পনার ভিত্তিতেই ঘটনায় গুজব ছড়ানো হয়েছে

আফ্রিকায় লেবাননী সম্প্রদায়ের পিছনে এভাবে ইসরায়েলে লেগে থাকা থেকে এটা স্পষ্ট যে, ইসরায়েল আশঙ্কা করছে হিজবুল্লা তাদের অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আফ্রিকার লেবাননী সম্প্রদায়ের নিকট থেকে বড় অংকের অর্থ সংগ্রহ করতে পারে, আর তেল আবিবের জন্য এই পথ বন্ধ করাটা আবশ্যিকআর স্পষ্টতই এই প্রচেষ্টায় ইসরায়েলিরা মার্কিন সহযোগিতা সমর্থন পাচ্ছে, এমনকি আমেরিকা শুধুমাত্র লেবানিজ কানাডিয়ান ব্যাংককে অভিযুক্ত করেই বসে থাকে নি, বরং বেনিন, ঘানা, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন প্রভৃতি দেশের অনেক লেবাননি ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়ার জন্যও চাপ প্রয়োাগ করেছে 


আফ্রিকায় ইসরায়েলের সুবিধা:


আফ্রিকায় প্রবেশের ব্যপারে ইসরায়েলে প্রচেষ্টা ইচ্ছা, এবং এজন্য মহাদেশের শাসকদেরকে আকৃষ্ট করার এবং তাদের নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা ছাড়াও আরো অনেক দিক থেকে ইসরায়েলের জন্য আফ্রিকায় প্রবেশ করা সহজ হচ্ছেএর মধ্যে রয়েছে এভাঞ্জেলিকাল চার্চসমূহ তাদের অনুসারীরাএই সম্প্রদায়ের অনুসারীরা আফ্রিকায় পুরো আফ্রিকায় বিস্তৃতজানা কথা যে এই চার্চের অনুসারী ইসরায়েল রাষ্টের সহযোগিতার জন্য সবচেয়ে বেশি উৎসাহী, এরা ফিলিস্তিনের জন্য এক ইঞ্চি পরিসাণ ছাড় দিতেও রাজি নয়

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত এসকল চার্চ বিশেষত সাব-সাহারাত অঞ্চলে আধুনিক কৌশলে কাজ করে যাচ্ছে, এরা সশস্ত্রও অন্যান্য চার্চসমূহের চোখের সামনেই আমেরিকান এভাঞ্জেলিকাল চার্চের অনুসারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ১৯৯০ সালে সূচনা হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে আফ্রিকান দেশসমূহে এদের প্রসার হচ্ছেই তন্মধ্যে কিছু মাধ্যম বাড়াবাড়ি রকমের হলেও সেগুলো যথেষ্ট কার্যকর উদাহরণস্বরূপ মধ্য আফ্রিকায় ক্যাথলিক চার্চ এবং এভাঞ্জেলিকাল চার্চসমূহের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয় আর গ্যাবনে প্রায় ১০৭০টি এভাঞ্জেলিকাল চার্চ এবং অসংখ্য সমিতি রয়েছে যেগুলো মূলত নাইজেরিয়ান, গর প্যানিনিয়ানরা প্রতিষ্ঠা করেছে

এসকল এভাঞ্জেলিকাল চার্চের প্রসারের মাধ্যমে আফ্রিকায় ইসরায়েলের প্রভাবও বৃদ্ধি পাচ্ছে এমনকি এসকল চার্চ তাদের দেশের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য ধর্মীয় রাজনৈতিকভাবে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে এছাড়া যেসকল আফ্রিকান দেশ ইসরায়েলের সাথে পুনরায় সম্পর্ক তৈরি করছেন, তারা এর মাধ্যমে যেসকল পশ্চিমা দেশের উপর ইসরায়েলের প্রভাব রয়েছে, সেসকল দেশ থেকেও সাহায্য পাওয়ার আশা করছেন 


শেষ কথা:

যদিও চাদের প্রেসিডেন্টেইদরিস দিবির ইসরায়েল সফর আফ্রিকায় ইসরায়েলের প্রভাব বৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা যোগ করে, আফ্রিকান ইউনিয়নে ইসরায়েলের পর্যবেক্ষকের আসন দখলের দাবিটিকে শক্তিশালী করে, এবং ২০১৭ সালের অক্টোবরে ব্যর্থ হওয়া টোগোর আফ্রিকা-ইসরায়েলি সম্মেলন পুনরায় আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি করে, তবু এখানে আরো কিছু বিষয় আছে যেগুলো তেল-আবিবের আফ্রিকা প্রকল্পের রং পাল্টে দিতে পারে। আর সেটা হচ্ছে একদল অ্যক্টিভিস্টের আফ্রিকায় ইসরায়েলে প্রভাব বৃদ্ধির তীব্র বিরোধিতা। এদের মাথায় রয়েছেন সেসকল বুদ্ধিজীবীগণ, যারা বিভিন্ন আরব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করেছেন, কোন আরব রাষ্ট্রের সহযোগিতা কিংবা পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই তারা বর্তমানে আফ্রিকা নিয়ে কাজ করছেন।

লেখাটি আল-জাজিরা আরবির অনলাইন সংস্করণের বিশেষ আয়োজন মায়দান থেকে অনূদিত। বিশাল প্রবন্ধটি এখানে সংক্ষেপে অনুবাদ করা হয়েছে, তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন আল জাজিরার ওয়েবসাইটে