Articles by "ইতিহাস-ঐতিহ্য"

ইতিহাস-ঐতিহ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান


সোমবারে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমান রমজান মাস শুরু করেছেন। অন্যান্য দেশে শুরু হয়েছে মঙ্গলবারে।

রমজান ইসলামি চান্দ্র বর্ষের নবম মাস। এই মাসে মুসলমানরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত অবধি পানাহার থেকে বিরত থাকেন। এই উপবাসব্রতের উদ্দেশ্য হলো স্রষ্টার নৈকট্য অর্জন ও সুবিধাবঞ্চিতদের কষ্ট অনুধাবন করা।

মুসলিদের নিকট রমজান হচ্ছে কুরআন নাযিলের মাস, ১,৪০০ বছর পূর্বে এই মাসে মহানবী (সা.) এর নিকট কুরআনের প্রথম আয়াত অবতীর্ণ হয়।

ঈমান আনয়ন, নমাজ, হজ্জ এবং যাকাতের পাশাপাশি রোজাও ইসলাম ধর্মের পাঁচটি ভিত্তির মধ্যে একটি।

বিভিন্ন দেশে রমজানের আগমনী চিত্র নিয়ে আল জাজিরার বিশেষ আয়োজনটি ভাষান্তরের পাঠকদের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হলো।
















জেকেরিয়া কুরসুন, ইয়েনি সাফাক:
১২১২ সালের মে মাস। ফ্রেঞ্চ রাজা ফিলিপস সেন্ট ডেনিসে তার সেনাপতিদের সাথে বৈঠক করছিলেন। এমন সময় স্টিফেন অব ওরলিনস নামক এক মেষপালক এসে প্রবেশ করলো। সে ধাপ্পা দিচ্ছিল যে সে জেসাস ক্রাইস্টের বার্তা নিয়ে এসেছে। তাছাড়া সে আলো দাবি করছিল যে সে মেষ পালন করছিল, এমন সময় জেসাস ক্রাইস্ট তার উপর ক্রুসেডারদেরকে উপদেশ দেওয়ার দায়িত্ব আরোপ করেছেন।
গল্পটা বর্ণনা করেছেন রান্সিম্যান, যিনি ক্রুসেডের ইতিহাস গবেষক হিসেবে বেশ নামকরা। কাজেই এটা কোন ফেলনা গল্প নয়।
পাশ্চাত্যের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, “অন্যদের” বিরুদ্ধে শিশুদের উত্তেজিত করে ব্যবহার করার ইতিহাস তাদের অনেক রয়েছে, অথচ তারা কিনা আধুনিক সময়ে এসে নিজেদেরকে সভ্যতার একমাত্র উৎস বলে দাবি করে। সবচেয়ে বেশি জানা ও আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি হলো ক্রুসেড যুদ্ধ। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ক্রুসেডগুলোর একটি, যেটি একাদশ শতকের শেষের দিকে ইউরোপীয় খ্রিষ্টানরা শুরু করেছিলো “জেরুজালেম বাঁচানোর” উদ্দেশ্যে এবং “আনাতোলিয়া থেকে তুর্কিদের হটানোর” উদ্দেশ্যে, সে ক্রুসেডটি হচ্ছে শিশুদের ক্রুসেড, যেটির শুরুর সাথে জড়িত হলো উপরে বর্ণিত গল্পটি।
মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে পরিচালিত চারটি ক্রুসেডের মাধ্যমে ক্রুসেডাররা তাদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারকরা মনে করতো, এই ব্যর্থতার কারণ সৈন্যদের মাত্রাতিরিক্ত পাপ, তারা সেটি ইউরোপজুড়ে প্রচার করতে লাগলো, একই সাথে মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডাও ছড়াতে লাগলো। তাদের বক্তব্যের মূলকথা ছিল জেরুজালেমকে মুসলমানদের হাত থেকে রক্ষা করা, তাদের বিবেচনায় মুসলমানরা ছিল পাষণ্ড। স্টিফেন মেষ পালনের ফাঁকে এরকম এক প্রচারকের দেখা পান, এবং তার দ্বারা আকৃষ্ট হন। তিনি এতোটাই আকৃষ্ট হন যে তিনি বিশ্বাস করতে থাকেন যে তার পাপী পূর্বসুরীরা যা অর্জন করতে পারেনি, তিনি তা অর্জন করতে পারবেন। আরো নির্দিষ্ট করে বলা যায়, তার মধ্যে নিশ্চিতরূপে এই প্রত্যয় জন্ম নেয়, যে তিনিই পারবেন।
স্টিফেন প্রোপাগান্ডা ছড়াতে শুরু করলেন এবং ঘোষণা দিলেন যে তিনিই শিশুদের নিয়ে গঠিত একটি দলকে নিয়ে খৃষ্ট ধর্মকে রক্ষা করতে যাচ্ছেন। শিশুরাও প্রচারকদের দ্বারা সম্মোহিত হয়ে এরকম একটা আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। তারা বিশ্বাস করতে লাগলো, জুন মাস নাগাদ জেসাসের মুজেজার অংশ হিসেবে সমুদ্র শুকিয়ে তাদের জন্য রাস্তা তৈরি হয়ে যাবে। এটা নিছক কোন গালগল্প নয়। ফ্রান্সের ইতিহাসের সমসাময়িক সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, অনুর্ধ্ব ১২ বছর বয়সী প্রায় ৩০,০০০ ছেলে-মেয়ে ভেন্ডমে একত্রিত হয়। তাদের মধ্যে অনেক গ্রামবাসীও ছিল, জেরুজালেমের উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রীরাও ছিল, আর অবশ্যই সেসকল প্রচারকদের অনেকেও ছিল।
শিশু ক্রুসেডাররা সকলে পায়ে হেটে দক্ষিণ দিকে রওনা দিলো। তখন খুবই গরম গ্রীস্মকাল চলছিল, ভ্রমণের জন্য খুবই জঘন্য অবস্থা ছিল। শিশুদেরকে বলা হয়েছিল যে সকল এলাকার পাশ দিয়ে তারা যাবে, সেসব এলাকা থেকে কোন মতে খাবারের ব্যবস্থা করে নিতে। কিন্তু দেশে চলমান খরা ও দুর্ভিক্ষের দরুণ তারা পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছিল না। তাদের অনেকেই রাস্তায় মারা যায়, এবং তাদের মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশটি এক বিকেলে শেষ পর্যন্ত মার্সেলে পৌছায়। মার্সেলের লোকজন তাদের প্রতি খুবই উদারতা প্রদর্শন করে এবং নিজেদের ঘর-বাড়ি শিশুদের জন্য খোলে দেয়। পরের দিন সকালে শিশুদেরকে সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যাওয়া হলো মুজেজা দেখানোর জন্য: সমুদ্র শুকিয়ে তাদের জন্য রাস্তা তৈরি হয়ে গেছে! কিন্তু বাস্তবে এমনটি না হওয়াতে তারা বেশ হতাশ হয়ে পড়লো। কিছু বাচ্চারা মনে করলো তারা প্রতারিত হয়েছে এবং স্টিফেনকে দোষারোপ করে তারা দলত্যাগ করলো। অন্যদিকে বিশ্বাসীরা সাগর শুকিয়ে যাওয়ার মুজেজা কখন সংগঠিত হয়, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।
তখন মার্সেলের দুই ব্যবসায়ী ঘোষণা দিলেন যে তারা ইশ্বরের সন্তুষ্টির জন্যে বাচ্চাদেরকে ফিলিস্তিন পৌছিয়ে দেবেন। স্টিফেন এবং অন্যরা বেশ আনন্দচিত্তে এ প্রস্তাবনা গ্রহণ করলেন এবং জাহাজে চড়লেন। যদিও ঐদিনের পর থেকে তারা আর কখনো শিশুদের কথা শুনে নি। মজার বিষয় হলো স্টিফেনের এই গল্পটি জার্মানিতে বেশ প্রভাব ফেললো। স্টিফেনের পর জার্মান তরুণরাও উদ্যোগ গ্রহণ করলো। এবার নিকোলাস নামে এক তরুণ একই রকম বার্তা দিয়ে শিশু সেনাবাহিনী প্রস্তুত করলো এবং ইতালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। এই দলের গড় বয়স আগের দলের তুলনায় বেশি ছিল, মেয়েদের সংখ্যাও এই দলে তুলনামুলক বেশি ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে জার্মানি থেকে রওনা দেওয়া ২০,০০০ শিশুর ভাগ্যে একই পরিণতি ছিল। এসকল প্রতারিত শিশুরা কোনদিন জেরুজালেম পৌছতে পারেনি, বাড়িতেও ফিরতে পারেনি। কয়েক জন যাজক ফিরতে সক্ষম হয়েছিলো, ১৮ বছর পর তারা শিশুদের খবর নিয়ে বাড়ি ফিরে ছিলো। খবর অনুযায়ী, মার্সেলে থেকে রওনা দেওয়া জাহাজগুলো পথিমধ্যে ডুবে যায় এবং হাজার হাজার শিশু ডুবে মরে। হাতে গোণা কয়েকটিন জাহাজ ঝড়ের কবল থেকে বেঁচেছিলো, সেগুলো ফিলিস্তিন যায়নি, বরং আফ্রিকার দিকে গিয়েছে। যারা মারা গিয়েছিল, তারা ছিল সত্যিকার অর্থে সৌভাগ্যবান। কারণ যারা আফ্রিকা পর্যন্ত পৌছেছিল, তাদেরকে তাদের স্বধর্মীরা দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়।
বিশ্বের সবচেয়ে নৃশংস ও অর্থহীন যুদ্ধগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ক্রুসেড যুদ্ধ, যেটি কিনা শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে চলেছিল। এসকল যুদ্ধ শুধু মুসলিম আর তুর্কিদের ক্ষতি করেনি, বরং ইউরোপ ও খৃষ্ট ধর্মেরও বিশাল ক্ষতি করেছিল। নিষ্ঠুরভাবে ক্রসেডের জন্য প্রেরিত অর্ধ লক্ষাধিক শিশু যদি বেঁচে যেতো, কে জানে, হয়তো আজকের পৃথিবী আরো সুখ-শান্তির আবাস হতে পারতো।
তো, সে ইতিহাসের সাথে আমি কেন এখনকার বিষয়গুলোকে সম্পর্কিত মনে করছি?
নিউ জিল্যান্ডে যে ঘাতক ৫০ জন মুসলিমকে হত্যা করেছে, আরো অনেককে আহত করেছে, তার জীভন বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে বিষয়টি পাওয়া গেছে, সেটা হলো সে তুরস্কে সফর করেছিল। যদিও আমাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই, তবু দাবি করা হয়েছে যে সন্ত্রাসীটি নাকি টোকাটের অন্ধকূপেও গিয়েছিল। যেখানটাতে ড্রাকুলাকে রাখা হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, এ ধরনের ভিলেনের জন্য এটি একটি স্বাভাবিক মনোভাব।
ভালো কথা, ড্রাকুলা কে ছিল? অনেক গল্প-সিনেমার চরিত্র, ড্রাকুলা তৃতীয় ভ্লাদ নামে রোমানিয়াার ওয়ালাশিয়া অঞ্চলের সিংহাসনে আরোহণ করেছিল। প্রকৃতপক্ষে নৃশংসতার জন্যই সে খ্যাত হয়ে আছে। ভ্লাদ, যে ভ্লাদ দ্য ইম্পালার নামেও খ্যাত, সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহের (মেহমেদ-২ দ্যা কনকুয়েরর) শাসনামলে বেঁচে ছিল। গুজব আছে যে মুহাম্মাদ আল-ফাতিহের নির্দেশে তাকে অন্ধকূপে ফেলা হয়েছিল।
কে জানে, ড্রাকুলার কিংবদন্তিতুল্য চরিত্রই কেন এই সন্ত্রাসীর আদর্শ, কোন কিছু কি চেনা চেনা মনে হচ্ছে?
________________________________

ইয়েনি সাফাক তুরস্কের প্রভাবশালী সরকারপন্থী পত্রিকা। নিবন্ধটি ইয়েনি সাফাকের ইংরেজি সংস্করণে “Child crusaders, Dracula, and the New Zealand mosque shooter” শিরোনামে প্রকাশিত হয়। ভাষান্তর কর্তৃক অনূদিত। ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে থেকে সংগৃহীত।



আনাদুলু এজেন্সি:
সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদকে ওসমানি (অটোমান) সাম্রাজ্যের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৯১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানাদির পর তাঁকে সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। সে হিসেবে তুরস্ক এবার তার ১০১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছে।
আবদুল হামিদ চতুর্ত্রিংশ ওসমানি খলিফা, তিনিই সাম্রাজ্যে সর্বশেষ শক্তিশালী খলিফা। তিনি এমন অনেক কাজে সফল হয়েছিলেন, যেগুলো আরব ও মুসলিম উম্মাহকে একত্রিত করতে ভূমিকা রেখেছে।
তেত্রিশ বছরব্যাপী সুদীর্ঘ শাসনামলে তিনি অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, তার মাঝে অন্যতম হলো: ইহুদিবাদী শক্তির প্রতিরোধ; যারা কিনা ফিলিস্তিন দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। তাঁর আরো দুটি উল্লেখযোগ্য কাজ হলো হেজাজ রেলওয়ে এবং প্যান ইসলামিজম প্রতিষ্ঠা; এর মূল লক্ষ্য ছিল মুসলিমদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আরব ও মুসলিম জাতিকে একীভূতকরণ এবং পশ্চিমা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা। উল্লেখ্য সেসময়েই পশ্চিমারা আরব ও মুসলিম বিশ্বের উপর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে শুরু করেছিলো।
বায়তুল মাকদিস:
যে সকল ওসমানি সুলতান ফিলিস্তিন ইস্যুতে অবদান রেখেছিলেন, সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত। তিনি ইহুদিবাদী শক্তির মোকাবেলা করেছিলেন, যারা সে সময় ফিলিস্তিন দখলের অপচেষ্টা করছিলো।
সুলতান আবদুল হামিদ ইহুদিদের ফিলিস্তিনে অভিবাসী হওয়া ও জেরুজালেমে বসতি স্থাপন নিষিদ্ধ করে প্রথম আইন প্রণয়ন করেন।
সে সময়, সেই আঠারো শতকে ইহুদিরা ফিলিস্তিনে তাদের বসতি স্থাপনের বিনিময়ে ওসমানি সাম্রাজ্যের সকল ঋণ পরিশোধ করার প্রস্তাব পেশ করেছিলো। আবদুল হামিদ তাদের সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
আনাদুলের ওসমানি ইতিহাসের অধ্যাপক মুহাম্মাদ হরব বলেন:  “সুলতান আবদুল হামিদ ১৮৯০ সালের ২৮ জুন ওসমানি ভূখণ্ডে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের অনুমতি প্রদান করতে নিষেধ করে এবং তাদেরকে তারা যে দেশ থেকে এসেছে সেখানে ফেরত পাঠাতে নির্দেশ দিয়ে রাষ্ট্রীয় ফরমান জারি করেন।
তিনি আরো যোগ করেন: “ইহুদিরা এই প্রস্তাব (সাম্রাজ্যের ঋণ পরিশোধের প্রস্তাব) পেশ করলে সুলতান আবদুল হামিদ নিজেকে সংবরণ করতে পারেন নি, ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তাঁর দরবার হতে থিওডর হেরযল এবং প্রধান ইহুদি রাব্বিকে বহিষ্কার করেন (ইহুদিদের পক্ষ থেকে এরা দুজনেই প্রস্তাবটি পেশ করেছিলো)”
 এরপর তিনি লিখেন: “ওয়াশিংটন, বার্লিন, ভিয়েনা, লন্ডন ও প্যারিসের ওসমানি রাষ্ট্রদূতদেরকে নির্দেশ প্রদান করা হয়, যেন তারা জায়নবাদী আন্দোলনের গতিবিধি ও তাদের সম্পর্কে প্রতিবেদন যথাশিঘ্রই সুলতান আবদুল হামিদের নিকট প্রেরণ করেন।”
ইহুদিদের অভিবাসন থেকে রক্ষা করতে আবদুল হামিদ ১৮৭৬ সালে “ওসমানি ভূমি স্মারক” (مذكرة الأراضي العثمانية) শীর্ষক একটি আইনি স্মারক প্রকাশ করেন।
এই স্মারক অনুসারে, সুলতান ওসমানি সাম্রাজ্যের ভূমি, বিশেষত ফিলিস্তিনি ভূমি ইহুদিদের নিকট বিক্রি করতে নিষেধ করেন। এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট প্রস্তুত করেন। এছাড়া ফিলিস্তিন ভ্রমণে আগ্রহী ইহুদিদের জন্য সংক্ষিপ্ত সময় নির্দিষ্ট করে দেন।
হেরযল যখন বুঝতে পারলেন, ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী লক্ষ্যপূরণে সবচেয়ে বড় বাধা সুলতান আবদুল হামিদ, তখন তাকে সন্তুষ্ট করতে এবং ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করতে তিনি কূটনৈতিক উপায়ের আশ্রয় নিতে শুরু করেন।
পুরনো স্বপ্ন:
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঘণ্টা যখন বেজে ওঠে, তারও আগে সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ ওসমানি সাম্রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলকে ভালোভাবে ইস্তাম্বুলের সাথে সংযুক্ত করার চেষ্টা করেন।
তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিক্ষা খাত এবং যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টেলিগ্রাফ এবং রেললাইন। এই সংযুক্তি স্থাপনের ফলে রেল লাইনের পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হজযাত্রীদের চলাচল সহজ হয়।
সেসময় হজযাত্রীরা ইস্তাম্বুল থেকে গজে যেতে হলে দুই মাসের কষ্টকর ভ্রমণের মাধ্যমে যেতে হতো, বিভিন্ন কাফেলার সঙ্গী হয়ে। এর মধ্যে আবার বেদুইনদের দ্বারা ডাকাতির শিকার হওয়ার ভয়ও ছিল।
শুরুতে ”হেজাজ রেলওয়ে” প্রকল্পের খরচ ধরা হয়ছিলো চার মিলিয়ন ওসমানি লিরা, ওসমানি সাম্রাজ্যের পক্ষে এই ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব ছিলো না, আবার ইউরোপীয় ঋণ পাওয়াও সম্ভব ছিলো না। ফলে দান-খয়রাতের মাধ্যমে অর্থ জমানো শুরু হয়, সুলতান নিজেই দান করা শুরু করেন। এরপর শাসক পরিবার, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে জনসাধারণও বড় অংকের দান করেন এই প্রকল্পের জন্য।
প্রকিল্পটি শেষ করতে মোট খরচ হয় সাড়ে তিন মিলিয়ন লিরা। ইউরোপীয় কোম্পানীগুলো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে যে পরিমাণ টাকা চেয়েছিলো, তার চেয়ে অনেক কম খরচ হয়।
“হেজাজ রেলওয়ে” ইস্তাম্বুলকে দামেশক হয়ে মক্কা শরিফ, মদিনা শরিফ ও ইয়েমেনের সাথে সংযুক্ত করে। ১৯০০ সালে দামেশক থেকে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। চার বছর পর ৪৬০ কি.মি রেল লাইন তৈরি হয়। তখন জর্দানের মআন শহর পর্যন্ত রেললাইন পৌছে। একইভাবে ফিলিস্তিনের হিফা শহরও সংযুক্ত হয় ইস্তাম্বুলের সাথে। ১৯০৮ সালে রেললাইন মদিনা শরিফ পৌছে, সে বছরই রেললাইনের উদ্বোধন হয়, রেললাইনটির দৈর্ঘ হয় মোট ১৪৬৪ কি.মি।
১৯০৮ সালের ২৭ আগস্ট প্রথম রেল যাত্রা শুরু করে। সে রেলগাড়িতে ওসমানি সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও অতিথিবৃন্দ ছিলেন। ট্রেন যাত্রা শুরু করে ইস্তাম্বুল থেকে, দামেশক হয়ে মদিনা শরিফ পৌছে। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কি.মি গতিতে ট্রেন চলে, সেসময়ের জন্য এটা অনেক ভালো গতিবেগ ছিলো। নামাজ আদায় কিংবা পাথেয় সংগ্রহ করা ছাড়া ট্রেন থামে নি। মদিনা শরিফ পৌছতে সেবার তিন দিন সময় লেগেছিলো।
এই প্রকল্পের আওতায় ২৬৬৬টি সেতু, সাতটি লোহার সেতু, ৯৬টি রেলস্টেশন, ৩৭টি পানির ট্যাংক, ২টি হাসপাতাল এবং ৩টি ওয়ার্কশপ নির্মাণ করা হয়।
রেললাইন উদ্বোধনের পর থেকে হিফা ও দামেশকের মধ্যে পণ্য আদান-প্রদান ও যাত্রীদের আসা-যাওয়া হতে লাগলো দৈনিক, আর দামেশক ও মদিনার মধ্যে পণ্য আদান-প্রদান ও যাত্রীদের যাতায়তে সময় লাগতো তিন দিন। হজের মৌসুমে সফর মাসের শেষ অবধি মদিনা ও দামেশকের মধ্যে তিনটি বিশেষ ট্রেন দেওয়া হতো। অধ্যাপক হরব তার বইয়ে লিখেন, সুলতান বলেছিলেন “নিশ্চয় হেজাজ রেলওয়ে আমার পুরনো স্বপ্ন।
মুসলমানদের একীভূতকরণ:
সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন অংশকে “প্যান-ইসলামিজম” এর মাধ্যমে একীভূত করতে চেয়েছিলেন। এর মাধ্যেমে তিনি ইহুদিবাদী ও ফ্রিম্যাসনরি আন্দোলনকে প্রতিরোধ করতে চেয়েছিলেন।
আন্তরর্জাতিক রাজনীতিতে প্যান ইসলামিজমের আবির্ভাব হয় আবদুল হামিদ ক্ষমতায় আসার পর। এর উদ্দেশ্য ছিল চিন, ভারত, মধ্য আফ্রিকা থেকে শুরু করে সব জায়গার মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা।
অধ্যাপক মুহাম্মাদ হরব বলেন, “প্যান ইসলামিজমের চিন্তা ছিল মূলত অনেকগুলো লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে। তন্মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ইসলামের শত্রুদের মোকাবেলা করা, যারা ওসমানি সাম্রাজ্যের প্রশাসন ও রাজনীতির গভীরে প্রবেশ করে ফেলেছিলো, এছাড়া আকেটি উদ্দেশ্য ছিল রুশ ও ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের সম্মুখে মুসলিম বিশ্বকে একত্রিত করা।
সুলতান আবদুল হামিদের আমলে প্যান ইসলামিজমের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনসমূহের মধ্যে ছিল হেজাজ রেলওয়ে প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার প্রসার, উলামাদের সহযোগিতা, আলেম-উলামা ও সুফি-সাধকদের গুরুত্ব প্রদান, পাশ্চাত্য চাল-চলন ও চিন্তা-চেতনার প্রতিরোধ, ওসমানি সাম্রাজ্যের ভূমিতে পাশ্চাত্য পরিকল্পনার (মূলত ফিলিস্তিনে ইহুদিদের আবাসন স্থাপন) প্রতিরোধ।
দ্বিতীয় আবদুল হামিদ ১৮৪২ সালে ইস্তাম্বুলে জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর ইন্তেকাল হয় ১৯১৮ সালে। তিনি ৩৪ তম ওসমানি খলিফা, সালতানাত ও খেলাফতকে একীভূতকারী ওসমানিদের মধ্যে তিনি ২৬ তম, আর সমগ্র ইসলামের ইতিহাসে তিনি ১১৩তম খলিফা।
আবদুল হামিদ সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুদক্ষ ওসমানি সুলতান হিসেবে পরিচিত, তার সময়ে শিল্প খাতে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তন হয়েছে, এর বাইরে অনেক রাষ্ট্রীয় ঝামেলার মুখোমুখি তো হতেই হয়েছে। তাকে ওসমানি সাম্রাজ্যের ভূমির ব্যাপারে আগ্রহী শক্তিশালী সামরিক ও কূটনৈতিক বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিলো।
________________________________

এই প্রবন্ধটি সর্বশেষ প্রকৃত ওসমানি শাসক আবদুল হামিদের ১০১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে টার্কপ্রেস, আনাদুল অ্যাজেন্সিসহ বিভিন্ন তুর্কি মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। ছবিসংগ্রহ ও ভাষান্তর করা হয়েছে টার্কপ্রেস থেকে।




ড. হুসাইন দাকিল, আল জাজিরা ব্লগ:
সর্বশেষ অটোম্যান (ওসমানী) সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের মৃত্যুবার্ষিকী সামনে এসেছে। সুলতান যখন ১৯১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রোগ শয্যায় বসে ছিলেন, স্ত্রী-সন্তানদের সাথে কফি পান করেছিলেন, জীবনের শেষ মুহূর্তে বিদায় নিতে নিতে তাদেরকে তিনি বলছিলেন, আল্লাহ স্বাক্ষী, আমি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন আর আমার দেশ ও জাতির কল্যাণের উদ্দেশ্য ছাড়া কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি, কোন কাজে এগিয়ে যাই নি। সুলতানা তখন তার প্রশংসা করে বলেন, আমরা আপনার ধর্ম, দেশ ও জাতির প্রতি আপনার ভালোবাসার সাক্ষ্য দিচ্ছি। এরপর তাঁর হাত থেকে কফির কাপ পড়ে যায়, তাঁর আত্মা পরপারে পাড়ি জমায়। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ ১৮৪২ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর ইস্তাম্বুলের “জুরাগান প্রাসাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সুলতান আবদুল মাজিদ, মা তিরমিজকান কাদিন। সুলতানের মা ৩৩ বছর বয়সে মারা যান, যখন তার বয়স ছিল মাত্র দশ বছর। তিনি তার সৎ মা পেরেস্তু কাদিনের নিকট লালিত-পালিত হত। সারা জীবন তিনি তাঁর সৎমায়ের কথা মনে রেখেছেন, এবং ৩৪ বছর বয়সে তিনি ক্ষমতায় আরোহণ করার পর তাকে “সুলতানা মা” উপাধিতে ভূষিত করেছেন। তিনি যখন ১৮৭৬ সালের ৩১ আগস্ট ক্ষমতা লাভ করেন, তখন সাম্রাজ্য ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পার করছিলো।
সাম্রাজ্যকে এই দুরবস্থা থেকে বাঁচানোর জন্য সব কিছু করা সত্ত্বেও তিনি অনেক অপবাদ এবং ইতিহাস বিকৃতির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো তিনি আরব বিপ্লব এবং এই বিপ্লবের নেতাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, এবং ইংরেজদেরকে মিসরে প্রবেশ ও মিসর দখল করার অনুমতি দিয়েছেন।  আসল ঘটনা হলো, বলা হয়ে থাকে ১৮৮২ সালে সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ একটি ফরমান জারি করেন, যাতে আহমদ উরাবি একজন অবাধ্য এবং তিনি আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেছেন বলে গণ্য করা হয়েছে। ফলে অনেক মানুষ মনে করে যে এই ফরমানে ইংরেজদের মিসর দখলকে সমর্থন করা হয়েছে। একই সাথে আরেক দল মানুষ মনে করেন এই ফরমান জারি করা হয়েছিলো মিসরের কল্যাণার্থে। কাজেই, আসল ঘটনা কী?
প্রকৃত সত্য হলো এই যে, মুহাম্মাদ আলি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মিসর অটোম্যান (ওসমানি) সাম্রাজ্য থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলো। তার পরবর্তীদের সময়ে এই বিচ্ছেদ আরো পাকাপোক্ত হয়, যারা কিনা মিসরে বিদেশী মুদ্রার অনুপ্রবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন। আর এই সময়টাতে অটোম্যান সাম্রাজ্য ছিল সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায়। ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো তখন জোটবদ্ধ হচ্ছিলো অটোম্যান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে, ভাগ-বাটোরা করে নেওয়ার চেষ্টাও করছিলো। কিন্তু সুলতান আবদুল হামিদের আমলের আরম্ভ হওয়ার সাথে সাথে মিসরে দখলদারির বিরুদ্ধে জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্থান হয়। এই আন্দোলন ইসমাইল পাশাকে সরকার পরিবর্তন, সংসদ নির্বাচন ও ১৮৭৯ সালের সংবিধান প্রকাশ প্রভৃতি দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে সক্ষম হয়। ফলে আবদুল হামিদ এই আন্দোলন থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, এবং সমর্থন প্রদান করেন। তারাও আবদুল হামিদের সমর্থন থেকে সুবিধা নেয়, এবং এ সমর্থনকে তাদের আন্দোলনের বৈধতার প্রমাণ বলে মনে করে।
তাওফিক পাশার আমলে যখন আন্দোলন আরো তুঙ্গে ওঠে, সুলতান আবদুল হামিদ তখন মিসরি আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য অটোম্যান প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেন। মিসরি প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন, মাহমুদ সামি আল-বারুদি, শাইখুল আযহার (আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান) শাইখ মুহাম্মদ আল-ইনবাই, নকিব আল-আশরাফ প্রমুখ। ইউরোপীয়রা সুলতানের এই ভূমিকাকে ভালোভাবে নেয়নি। ফ্রান্স ও ব্রিটেন আলেক্সান্দ্রিয়ার অভিমুখে দুটো যুদ্ধ জাহাজ প্রেরণ করে, এবং অটোম্যান প্রতিনিধি দল মিসর ত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত তারা আলেক্সান্দ্রিয়া ত্যাগ করতে অস্বীকার করে। এদিকে বারুদির নেতৃত্বে বিপ্লব একেবারে নিকটবর্তী হয়ে পড়ে, বিপ্লবের প্রতি অটোম্যান সুলতানের সমর্থন-সহায়তাও বাড়তে থাকে, সুলতান বারুদি এবং তৎকালীন যুদ্ধমন্ত্রী উরাবিকে পাশা উপাধি প্রদান করেন। ফলে বিপ্লব থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের জন্য ইউরোপীয়দের পক্ষ থেকে সুলতানের উপর চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু সুলতান এই চাপের মুখে নতি স্বীকার করেন নি, বরং সহায়তা আরো বাড়াতে থাকেন।  এমনকি তারফিক পাশাকে অপসারণ করার জন্যও উরাবি তাকে উৎসাহ প্রদান করেন। তাদের মধ্যকার একটি চিঠিতে এরকম লেখা ছিল: মিসরে কে ক্ষমতায় আছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো মিসরের গভর্নরের চিন্তা-চরিত, উদ্দেশ্য ও গতিবিধি কপটতা মুক্ত হওয়া, যাতে করে তার কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হয় মিসরের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা ও খেলাফতের (অটোমান) সাথে সুদৃঢ় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা।
যাই হোক, সুলতানের নামে উরাবির “অবাধ্যতা” বিষয়ক যে ফরমানটি জারি হয়েছিলো ব্রিটেন কর্তৃক মিসর দখলের ছয় দিন পূর্বে, উরাবি নিজেও সুলতানের নিজের ইচ্ছায় সেটি জারি হয়েছে বলে মনে করেন নি। এমনকি তিনি বলেছিলেন, আমরা যা করেছি, তাতে সুলতানের কখনোই অসম্মতি ছিলো না। সেই সমোঝতার (যেটি অটোম্যান প্রতিনিধি দলের সাথে হয়েছিলো) সময়ও কোন অসম্মতি ছিলো না, এমনকি এখন অবধিও নেই। বরং সুলতান কথায় ও কাজে আমাদের কর্মতৎপরতাকে সমর্থন করেছেন। বলা হয়ে থাকে, সুলতানের ইচ্ছা ব্যাতিরেখে এই ফরমান জারি করার জন্য উরাবি তৎকালীন অটোম্যান প্রধানমন্ত্রী আস সদর আল আজমকে অভিযুক্ত করেন। অন্য আরেক দলের মনে করেন, ফরমানটি আসলেই সুলতারের সিদ্ধান্তেই জারি হয়েছিলো, আর সেটা তিনি জারি করেছিলেন বাধ্য হয়ে, যখন তেল আল কবিরের যুদ্ধে উরাবির বাহিনীর উপর ব্রিটিশ বাহিনীর বিজয় নিকটবর্তী হওয়ার বিষয়টি সুলতান উপলব্ধি করতে পারেন, তখন। তিনি তুলনামুলক কম ক্ষতিকর পরিস্থিতি মেনে নিতে চেয়েছিলেন, যাতে মিসর অটোম্যানদের পুরোপুরি হাতছাড়া হয়ে ব্রিটিশদের একচ্ছত্র শিকারে পরিণত না হয়। সম্ভবত এই মতটি বাস্তবতার সবচেয়ে নিকটবর্তী। এ বিষয়ে উরাবি বলেছিলেন, সম্ভবত এই ফরমানটি পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রকাশ করা হয়েছে।
________________________________
ড. হুসাইন দাকিল প্রাচীন নিদর্শন বিশেষজ্ঞ। তিনি গ্রিক ও রোমান প্রাচীন নিদর্শনের উপর আলেক্সান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। মিসরের বিপ্লবের সাথে সর্বশেষ অটোম্যান সুলতান আবদুল হামিদের সম্পর্ক এবং এ নিয়ে প্রচলিত বিভ্রান্তি সম্পর্কে في ذكرى وفاته.. هل خان السلطان عبد الحميد أحمد عرابي؟!” শীর্ষক তাঁর লেখা নিবন্ধটি আল জাজিরা আরবি ব্লগে প্রকাশিত হয়। ছবি http://www.toraseyat.com থেকে সংগৃহীত।


Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.