Articles by "ইয়েনি সাফাক"

ইয়েনি সাফাক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান



জেকেরিয়া কুরসুন, ইয়েনি সাফাক:
১২১২ সালের মে মাস। ফ্রেঞ্চ রাজা ফিলিপস সেন্ট ডেনিসে তার সেনাপতিদের সাথে বৈঠক করছিলেন। এমন সময় স্টিফেন অব ওরলিনস নামক এক মেষপালক এসে প্রবেশ করলো। সে ধাপ্পা দিচ্ছিল যে সে জেসাস ক্রাইস্টের বার্তা নিয়ে এসেছে। তাছাড়া সে আলো দাবি করছিল যে সে মেষ পালন করছিল, এমন সময় জেসাস ক্রাইস্ট তার উপর ক্রুসেডারদেরকে উপদেশ দেওয়ার দায়িত্ব আরোপ করেছেন।
গল্পটা বর্ণনা করেছেন রান্সিম্যান, যিনি ক্রুসেডের ইতিহাস গবেষক হিসেবে বেশ নামকরা। কাজেই এটা কোন ফেলনা গল্প নয়।
পাশ্চাত্যের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, “অন্যদের” বিরুদ্ধে শিশুদের উত্তেজিত করে ব্যবহার করার ইতিহাস তাদের অনেক রয়েছে, অথচ তারা কিনা আধুনিক সময়ে এসে নিজেদেরকে সভ্যতার একমাত্র উৎস বলে দাবি করে। সবচেয়ে বেশি জানা ও আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি হলো ক্রুসেড যুদ্ধ। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ক্রুসেডগুলোর একটি, যেটি একাদশ শতকের শেষের দিকে ইউরোপীয় খ্রিষ্টানরা শুরু করেছিলো “জেরুজালেম বাঁচানোর” উদ্দেশ্যে এবং “আনাতোলিয়া থেকে তুর্কিদের হটানোর” উদ্দেশ্যে, সে ক্রুসেডটি হচ্ছে শিশুদের ক্রুসেড, যেটির শুরুর সাথে জড়িত হলো উপরে বর্ণিত গল্পটি।
মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে পরিচালিত চারটি ক্রুসেডের মাধ্যমে ক্রুসেডাররা তাদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারকরা মনে করতো, এই ব্যর্থতার কারণ সৈন্যদের মাত্রাতিরিক্ত পাপ, তারা সেটি ইউরোপজুড়ে প্রচার করতে লাগলো, একই সাথে মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডাও ছড়াতে লাগলো। তাদের বক্তব্যের মূলকথা ছিল জেরুজালেমকে মুসলমানদের হাত থেকে রক্ষা করা, তাদের বিবেচনায় মুসলমানরা ছিল পাষণ্ড। স্টিফেন মেষ পালনের ফাঁকে এরকম এক প্রচারকের দেখা পান, এবং তার দ্বারা আকৃষ্ট হন। তিনি এতোটাই আকৃষ্ট হন যে তিনি বিশ্বাস করতে থাকেন যে তার পাপী পূর্বসুরীরা যা অর্জন করতে পারেনি, তিনি তা অর্জন করতে পারবেন। আরো নির্দিষ্ট করে বলা যায়, তার মধ্যে নিশ্চিতরূপে এই প্রত্যয় জন্ম নেয়, যে তিনিই পারবেন।
স্টিফেন প্রোপাগান্ডা ছড়াতে শুরু করলেন এবং ঘোষণা দিলেন যে তিনিই শিশুদের নিয়ে গঠিত একটি দলকে নিয়ে খৃষ্ট ধর্মকে রক্ষা করতে যাচ্ছেন। শিশুরাও প্রচারকদের দ্বারা সম্মোহিত হয়ে এরকম একটা আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। তারা বিশ্বাস করতে লাগলো, জুন মাস নাগাদ জেসাসের মুজেজার অংশ হিসেবে সমুদ্র শুকিয়ে তাদের জন্য রাস্তা তৈরি হয়ে যাবে। এটা নিছক কোন গালগল্প নয়। ফ্রান্সের ইতিহাসের সমসাময়িক সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, অনুর্ধ্ব ১২ বছর বয়সী প্রায় ৩০,০০০ ছেলে-মেয়ে ভেন্ডমে একত্রিত হয়। তাদের মধ্যে অনেক গ্রামবাসীও ছিল, জেরুজালেমের উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রীরাও ছিল, আর অবশ্যই সেসকল প্রচারকদের অনেকেও ছিল।
শিশু ক্রুসেডাররা সকলে পায়ে হেটে দক্ষিণ দিকে রওনা দিলো। তখন খুবই গরম গ্রীস্মকাল চলছিল, ভ্রমণের জন্য খুবই জঘন্য অবস্থা ছিল। শিশুদেরকে বলা হয়েছিল যে সকল এলাকার পাশ দিয়ে তারা যাবে, সেসব এলাকা থেকে কোন মতে খাবারের ব্যবস্থা করে নিতে। কিন্তু দেশে চলমান খরা ও দুর্ভিক্ষের দরুণ তারা পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছিল না। তাদের অনেকেই রাস্তায় মারা যায়, এবং তাদের মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশটি এক বিকেলে শেষ পর্যন্ত মার্সেলে পৌছায়। মার্সেলের লোকজন তাদের প্রতি খুবই উদারতা প্রদর্শন করে এবং নিজেদের ঘর-বাড়ি শিশুদের জন্য খোলে দেয়। পরের দিন সকালে শিশুদেরকে সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যাওয়া হলো মুজেজা দেখানোর জন্য: সমুদ্র শুকিয়ে তাদের জন্য রাস্তা তৈরি হয়ে গেছে! কিন্তু বাস্তবে এমনটি না হওয়াতে তারা বেশ হতাশ হয়ে পড়লো। কিছু বাচ্চারা মনে করলো তারা প্রতারিত হয়েছে এবং স্টিফেনকে দোষারোপ করে তারা দলত্যাগ করলো। অন্যদিকে বিশ্বাসীরা সাগর শুকিয়ে যাওয়ার মুজেজা কখন সংগঠিত হয়, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।
তখন মার্সেলের দুই ব্যবসায়ী ঘোষণা দিলেন যে তারা ইশ্বরের সন্তুষ্টির জন্যে বাচ্চাদেরকে ফিলিস্তিন পৌছিয়ে দেবেন। স্টিফেন এবং অন্যরা বেশ আনন্দচিত্তে এ প্রস্তাবনা গ্রহণ করলেন এবং জাহাজে চড়লেন। যদিও ঐদিনের পর থেকে তারা আর কখনো শিশুদের কথা শুনে নি। মজার বিষয় হলো স্টিফেনের এই গল্পটি জার্মানিতে বেশ প্রভাব ফেললো। স্টিফেনের পর জার্মান তরুণরাও উদ্যোগ গ্রহণ করলো। এবার নিকোলাস নামে এক তরুণ একই রকম বার্তা দিয়ে শিশু সেনাবাহিনী প্রস্তুত করলো এবং ইতালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। এই দলের গড় বয়স আগের দলের তুলনায় বেশি ছিল, মেয়েদের সংখ্যাও এই দলে তুলনামুলক বেশি ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে জার্মানি থেকে রওনা দেওয়া ২০,০০০ শিশুর ভাগ্যে একই পরিণতি ছিল। এসকল প্রতারিত শিশুরা কোনদিন জেরুজালেম পৌছতে পারেনি, বাড়িতেও ফিরতে পারেনি। কয়েক জন যাজক ফিরতে সক্ষম হয়েছিলো, ১৮ বছর পর তারা শিশুদের খবর নিয়ে বাড়ি ফিরে ছিলো। খবর অনুযায়ী, মার্সেলে থেকে রওনা দেওয়া জাহাজগুলো পথিমধ্যে ডুবে যায় এবং হাজার হাজার শিশু ডুবে মরে। হাতে গোণা কয়েকটিন জাহাজ ঝড়ের কবল থেকে বেঁচেছিলো, সেগুলো ফিলিস্তিন যায়নি, বরং আফ্রিকার দিকে গিয়েছে। যারা মারা গিয়েছিল, তারা ছিল সত্যিকার অর্থে সৌভাগ্যবান। কারণ যারা আফ্রিকা পর্যন্ত পৌছেছিল, তাদেরকে তাদের স্বধর্মীরা দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়।
বিশ্বের সবচেয়ে নৃশংস ও অর্থহীন যুদ্ধগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ক্রুসেড যুদ্ধ, যেটি কিনা শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে চলেছিল। এসকল যুদ্ধ শুধু মুসলিম আর তুর্কিদের ক্ষতি করেনি, বরং ইউরোপ ও খৃষ্ট ধর্মেরও বিশাল ক্ষতি করেছিল। নিষ্ঠুরভাবে ক্রসেডের জন্য প্রেরিত অর্ধ লক্ষাধিক শিশু যদি বেঁচে যেতো, কে জানে, হয়তো আজকের পৃথিবী আরো সুখ-শান্তির আবাস হতে পারতো।
তো, সে ইতিহাসের সাথে আমি কেন এখনকার বিষয়গুলোকে সম্পর্কিত মনে করছি?
নিউ জিল্যান্ডে যে ঘাতক ৫০ জন মুসলিমকে হত্যা করেছে, আরো অনেককে আহত করেছে, তার জীভন বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে বিষয়টি পাওয়া গেছে, সেটা হলো সে তুরস্কে সফর করেছিল। যদিও আমাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই, তবু দাবি করা হয়েছে যে সন্ত্রাসীটি নাকি টোকাটের অন্ধকূপেও গিয়েছিল। যেখানটাতে ড্রাকুলাকে রাখা হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, এ ধরনের ভিলেনের জন্য এটি একটি স্বাভাবিক মনোভাব।
ভালো কথা, ড্রাকুলা কে ছিল? অনেক গল্প-সিনেমার চরিত্র, ড্রাকুলা তৃতীয় ভ্লাদ নামে রোমানিয়াার ওয়ালাশিয়া অঞ্চলের সিংহাসনে আরোহণ করেছিল। প্রকৃতপক্ষে নৃশংসতার জন্যই সে খ্যাত হয়ে আছে। ভ্লাদ, যে ভ্লাদ দ্য ইম্পালার নামেও খ্যাত, সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহের (মেহমেদ-২ দ্যা কনকুয়েরর) শাসনামলে বেঁচে ছিল। গুজব আছে যে মুহাম্মাদ আল-ফাতিহের নির্দেশে তাকে অন্ধকূপে ফেলা হয়েছিল।
কে জানে, ড্রাকুলার কিংবদন্তিতুল্য চরিত্রই কেন এই সন্ত্রাসীর আদর্শ, কোন কিছু কি চেনা চেনা মনে হচ্ছে?
________________________________

ইয়েনি সাফাক তুরস্কের প্রভাবশালী সরকারপন্থী পত্রিকা। নিবন্ধটি ইয়েনি সাফাকের ইংরেজি সংস্করণে “Child crusaders, Dracula, and the New Zealand mosque shooter” শিরোনামে প্রকাশিত হয়। ভাষান্তর কর্তৃক অনূদিত। ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে থেকে সংগৃহীত।

জাকারিয়া কুরসুন, ইয়েনি সাফাক:



গত ১৯ ও ২০ জানুয়ারিতে বায়রুতে অনুষ্ঠিত আরব লীগের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলন আরব নেতাদের অনুপস্থিতিতেই শুরু হয়েছে। এই সামিটে মাত্র তিন জন আরব নেতা উপস্থিত ছিলেন মেজবান রাষ্ট্র লেবাননের রাষ্ট্রপতি, কাতারি আমির শেখ তামিম এবং মৌরিতানিয়ার রাষ্ট্রপতি মোহাম্মেদ ওলদ আব্দেল আজিজ। যদিও লেবাননের সরকার গঠনে ব্যর্থতা এবং নিরাপত্তার অভাব আরব নেতাদের অংশগ্রহণের উপর প্রভাব ফেলেছে, তবে শুধু এসকল কারণে তারা অনুপস্থিত ছিলেন একথাও বলা যায় না।

শীর্ষ সম্মেলনে আরব নেতাদের অনুপস্থিতির সিদ্ধান্ত কিংবা শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলের পিছনে রয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। লেবাননে ইরান-সমর্থিত হেযবুল্লাহ এবং আমালের উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পোর মধ্যপ্রাচ্য সফরকালে ইরান বিরোধী বিবৃতির কথা মাথায় রাখলে বলা যায় যে শীর্ষ সম্মেলন নিষ্ফল হওয়ার পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনাও ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া আরব লীগের কাঠামোগত সমস্যা এবং আগের শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হওয়া-ও শীর্ষ সম্মেলন নিষ্ফল হওয়ার কারণ বটে। যদিও শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্য বিষয় ছিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, তবু আরব নেতারা উপস্থিত হলে নিঃসন্দেহে এই সম্মেলনও রাজনৈতিক মোড় নিতে পারতো। সেক্ষেত্রে আরব লীগে সিরিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং লেবাননের রাষ্ট্রপতি মিশেল আউনের বিষয় সম্মেলনের প্রধান ইস্যু হয়ে পড়তো।

এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা আরব লীগ কেউই লীগে সিরিয়ার প্রত্যাবর্তন চায় না। এরকম হলে সেটা তাদের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ করবে, তেমনি ২০১৭ থেকে প্রতিষ্ঠিত হতে চলা ইসরায়েলের সাথে মিসর ও উপসাগরীয় দেশসমূহের সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। অন্যদিকে সিরিয়া ইস্যুতে আরব লীগের মাধ্যমে আঞ্চলিক উদ্যোগের বাস্তবায়ন যুক্তরাষ্ট্রের নিকট অপ্রত্যাশিত। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া ও ইরাকে তাদের নড়বড়ে অবস্থান পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কোন আঞ্চলিক উদ্যোগকে সমর্থন করতে যাবে না।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেম ইস্যুতে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তবু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভক্তির কারণে দুই দলের মধ্যে এখন বিশ্বাসের অভাব রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্ররা তাদের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় তথা ফিলিস্তিন এবং জেরুজালেম ইস্যুতে স্বস্তি অনুভব করছে না। আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে আরবদের উপর চাপ সৃষ্টি করে যদিও তাদের কাজ-কারবার এখনো চলছে, কিন্তু এটা কোন চিরস্থায়ী উপায় নয়। এই পরিস্থিতিতে তাই ইরান-ভীতির অজুহাতে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশসমূহ ও মিসরের সমন্বয়ে গঠিত জোটের মাধ্যমে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষার কাজ চালিয়ে যাওয়াটাই তাদের জন্য সর্বোত্তম সমাধান। আমার মতে, বর্তমানে আলোচনার টেবিলে এটিই একমাত্র ফর্মুলা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপর গঠিত আরব লীগের সদস্যদের ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচিতিগত সাদৃশ্য সত্ত্বেও সংগঠনটি টিকে থাকার অন্যতম কারণ তাদের ইসরায়েল বিরোধী অবস্থান। আরব-ইসরায়েল যুদ্ধই দীর্ঘ কাল যাবৎ লীগকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এমনকি ১৯৬৭ সালের পরাজয়ে এবং তার পরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পরও অবস্থার পরিবর্তন হয় নি।

ঐতিহাসিকভাবে আরব-ইসরায়েলের মধ্যে এর আগে কখনোই এই পর্যায়ের সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠিত হয় নি। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইসরায়েলের সাথে উপসাগরীয় দেশসমূহের বর্তমান সম্পর্কের উন্নয়ন বিভিন্ন ক্ষেত্রে  পারস্পরিক সহযোগিতার দিকে মোড় নিয়েছে। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে কোন সমস্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিময় চলছে। বিশেষত ইয়েমেন যুদ্ধে এবং সিনাইতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মিসরের আকাশ অভিযানে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সামরিক, প্রযৌক্তিক এমনকি শিক্ষাগত সহযোগিতার কথা সর্বজন বিদিত। যে সকল দেশ মনে করে যে তাদের শাসন ক্ষমতা নানা সমস্যার কারণে ঝুঁকিতে আছে, তারা কখনোই চাইবে না তাদের সম্পর্কের উভয়পাক্ষিক অবনমন ঘটুক, যাতে তাদের ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। এখানে আর কোন ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নাই যখন খোদ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাস পর্যন্ত শীর্ষ সম্মেলনে অনুপস্থিত থেকেছেন।

এটা জানা কথা যে আরব দেশসমূহের মধ্যে এই সামিটের কারণে পারস্পরিক সহযোগিতার বদলে উল্টো আরো নানা সমস্যা তৈরি হতো, তাদের মধ্যে আরো বিভক্তির সৃষ্টি হতো। যেহেতু তৃতীয় পক্ষসমূহ দ্বারা প্রভাবিত পূর্ববর্তী শীর্ষ সম্মেলনসমূহের কথা এখনো আরব নেতাদের মনে আছে, তাই তারা আর ঝুঁকি নিতে চান নি।

তাহলে তুরস্ক এসব নিয়ে ভাবছে কেন?

তুরস্ক সরাসরি সকল আঞ্চলিক উন্নয়নের অংশ। কাজেই এটা খুব স্বাভাবিক যে যে কোন উন্নয়নই তুরস্কের ভাববার বিষয় হবে। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল ও আরব লীগের পক্ষে তুরস্ককে বিবেচনায় না রেখে এ অঞ্চলে কোন কিছু করা সম্ভব না। তাছাড়া আমি এখানে আরেকটি দিক তুলে ধরতে চাই। আরব লীগকে এতোদিন বাঁচিয়ে রেখেছিলো যে ইসরায়েল বিরোধী মনোভাব, সেটা শেষ হয়ে যাওয়াতে এবং বর্তমানে ইরানের সাথে শান্তি স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কারণে আবারো তুরস্ক আলোচনায় চলে আসছে। এবার ইসরায়েলকে সাথে নিয়েই আরব লীগের নতুন ঐক্য স্থাপিত হতে পারে তুলনামূলক কম বাস্তবসম্মত কারণে, আর তা হচ্ছে তুরস্ক বিরোধী মনোভাব, যেহেতু এখন আর আরবদের মধ্যে আগের মতো ইসরায়েল বিরোধী মনোভাব নেই। অবশ্য আরব লীগ এখনো এই রাস্তা থেকে অনেক দূরে আছে। কারণ তুরস্কের সাথে শত্রুতা এখনো আরব জনগণ চায় না। কিন্তু কিছু কিছু আরব ক্ষমতাসীন নিঃসন্দেহে এই কর্মপন্থাকে সমর্থন করবেন। 

[ইয়েনি সাফাক একটি তুর্কি দৈনিক পত্রিকা। পত্রিকাটি বর্তমান তুরস্ক সরকারের ঘনিষ্ঠ এবং এরদোয়ানের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। লেখক এই পত্রিকার কলামিস্ট। নিবন্ধটি ইয়েনি সাফাকের ‍ওয়েবসাইটে ২১শে জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত হয় “The Arab league, the US, and Israel” শিরোনামে।]

Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.