Articles by "গার্ডিয়ান"

গার্ডিয়ান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

  


রিচার্ড লাসকম্ব, দি গার্ডিয়ান:

টেড ক্রুজ নির্বাচনে “মহাবিপর্যয়ের” ভয়ে ভীত। তাঁর সহকর্মী শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান সিনেটর কথা বলছেন জো বাইডেনের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। এমনকি প্রচণ্ড বিশ্বস্ত সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠদের নেতা মিচ ম্যাককনেলও হোয়াইট হাউসের ধারে কাছে যেতে পারেননি, ট্রাম্পের করোনা প্রটোকলের কারণে।

তর্কের খাতিরে ট্রাম্পের মিত্রদের দাবি অনুসারে ধরে নেওয়া যায়, তারা হয়তো ব্যক্তিগতভাবে সাধারণ নির্বাচনের কিছু দিন আগে থেকে ট্রাম্পের সমর্থনে সভা-সমাবেশ করবেন, যখন জনমত জরিপে দেখাবে যে তিনি হারতে বসেছেন।

কিন্তু সমষ্টিগতভাবে বেশ কয়েক জন রিপাবলিকান নেতা যেভাবে ট্রাম্প, তার প্রশাসন ও নীতিমালা থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন, তাতে রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের উদ্বেগেরেই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ৩ নভেম্বর হয়তো জো বাইডেন ও ডেমক্রেটদের একটি দূর্দান্ত জয় হতে পারে।

গত শুক্রবার সিএনবিসির স্কুয়াক বক্স অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে টেক্সাসের জুনিয়র সিনেটর এবং ট্রাম্পের সাবেক মূখ্য সমালোচক ক্রুজ বলেন, “আমার মনে হয়, এই নির্বাচন হবে আমাদের জন্য ভয়ঙ্কর। আমার ধারণা আমরা হোয়াইট হাউস ও হাউস অফ কংগ্রে, ‍দুটোই হারাতে পারি, ফলে এ নির্বাচন হতে পারে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারীর চেয়েও মহাবিপর্যয়কর।

তিনি আরো যোগ করেন, “আমি খুবই চিন্তিত, কারণ পরিস্থিতি মারাত্মক অস্থিতিশীল।” যদিও তিনি এও বলেন যে, তার মতে “বিশাল ব্যবধানে” ট্রাম্পের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ট সহযোগীদের একজন টিলিস, যিনি দুই সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে কোভিড-১৯’র সুপার স্প্রেডার ছিলেন বলে মনে করা হয়, নর্থ ক্যারোলিনার সিনেটর হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হতে তিনি বেশ শক্ত লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যাল কানিংহামের সাথে বিতর্ক চলাকালে ট্রাম্পের পরাজয়ের সম্ভাবনার কথা তুলেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, “বাইডেনের রাষ্ট্রপতিত্বের সময় সবচেয়ে ভালো ভারসম্যপূর্ণ অবস্থা হবে যদি সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে।” অসাবধানতানশত তিনি বলেই ফেলেছিলেন যে তিনি মনে করেন ডেমক্রেটদের বিজয় সময়ের ব্যাপার মাত্র।

অন্যান্য স্থানেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে খোদ রিপাবলিকান শিবিরের অসন্তোষ ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষত যে সকল প্রার্থী নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় মারাত্মক রকমের ব্যস্ত, তাদের মধ্যে এ মনোভাব আরো প্রকট।

পূর্বসূরী জনম্যাককেইনের উপর ট্রাম্পের ক্রমাগত আক্রমণে ক্ষুব্ধ হয়ে অ্যারিজোনার সিনেটর মার্থা ম্যাকসেলি ট্রাম্পের উপর পাল্টা আক্রমণ করেছেন, যিনি বিশাল ব্যবধানে নাসার সাবেক নভোচারী মার্ক কেলিকে হারিয়ে সিনেটর হয়েছিলেন। গত সপ্তাহে এক বিতর্কে মার্থা বলেন, “সত্যি বলতে কী, তিনি (ট্রাম্প) যখন এটা করেন, তখন আমার মাথায় রক্ত উঠে যায়।”

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে “বিভ্রান্তি সৃষ্টি” ও “অসাবধানতার অভিযোগে টেক্সাসের সিনেটর জন কর্নিন এ সপ্তাহে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।

এ দিকে অন্তত দুই মাস ধরে ম্যাক কনেল কেন হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন না, সে বিষয়টিকে অবশ্য ভিন্ন ভাবে দেখা যেতে পারে। কারণ তার বয়স এখন ৭৮, আর হোয়াইট হাউস করোনা-কালে এতোটাউ ঝুঁকিপূর্ণ যে খোদ রাষ্ট্রপতিও ইতোমধ্যে করোনা আক্রান্ত।

তিনি বলেছিলেন, “আমার ধারণা, পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের পদ্ধতি আমার চেয়ে ভিন্ন। আমি সিনেটে যে পরামর্শ দিয়েছিলাম, তা হলো, আমরা যেন মাস্ক পরি এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি।”

কিন্তু গত চার বছর ধরে ট্রাম্পের মিত্রদের ভিন্ন মত শোনা হয়নি বললেই চলে। মহামারী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া, সেটি রিপাবলিকান শিবিরেও প্রভাব ফেলেছে, এমন ঝুঁকিই প্রতীয়মান হচ্ছে ম্যাক কলিনের কথায়।

 

–––––––––––––––––––––––––––––––––

লেখাটি দি গার্ডিয়ান পত্রিকায় Republicans express fears Donald Trump will lose presidential election শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

 



আইজেমা ওলুও, দ্য গার্ডিয়ান:
ভেবেচিন্তে কীভাবে বর্ণ নিয়ে কথা বলতে হয় পুরো দিন ধরে সে বিষয়ে কর্মশালা পরিচালনা করে দিন শেষে আমি একটি বাণিজ্যিক কার্যালয় থেকে বের হচ্ছিলাম। এর আগে আমি অনেকগুলো কর্মশালায় যেরকমটা দেখেছি, এ দিনের সেশনসমূহের দর্শকরাও একই রকম ছিলেন। সেখানে অশ্বেতাঙ্গদেরকে বাড়িয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছিল, এবং সাদা কর্মীদের কম করে উপস্থাপন করা হচ্ছিল। অশ্বেতাঙ্গ অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত আমার সাথে চোখে চোখে যোগাযোগ করছিলেন, আমিও সাড়া দিচ্ছিলাম তাদের মুখে আমি মাঝে-মধ্যে “তাই তো, তাই তো” জাতীয় শব্দ শুনছিলাম তবে কখনোই প্রশ্ন কিংবা কোন মন্তব্য করার জন্য প্রথমে হাত তুলছিলেন না। এদিকে শ্বেতাঙ্গরা সব সময় তাদের মতামত আমাদের সামনে পেশ করতে বেশ আগ্রহী ছিলেন। এধরনের সেশনে আমি শ্বেতাঙ্গদের জোর কণ্ঠস্বরকে সমন্বয় করার পাশাপাশি সাধারণত ঠিক পথে এগুচ্ছি কি না সেটা নিশ্চিত করার জন্য অশ্বেতাঙ্গদের নীরব প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করি।
সভাকক্ষে প্রবেশ পথে একজন এশীয় মহিলার সাথে আমার চোখাচোখি হলো, তিনি বললেন, “ধন্যবাদ।” একজন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ আমার কাঁধ চাপড়ে বললেন, “মেয়ে, তুমি যদি জানতে!” আরেক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা আমাকে থামিয়ে চারদিকে সতর্ক চোখে তাকিয়ে নিশ্চিত হলেন যে কেউ শুনতে পাচ্ছে কি না, তারপর বললেন, “তুমি সত্য কথা বলেছ। আমার ইচ্ছা হচ্ছে আমি যদি আমার গল্প তোমার সাথে আলোচনা করতে পারতাম, তাহলে তুমি বুঝতে পারতে যে তুমি কতখানি সত্য। কিন্তু এসব আলোচনার জন্য এটা সঠিক জায়গা নয়।”
সেটা সঠিক জায়গা ছিল না। এসব সেশনে অশ্বেতাঙ্গদের দিকে মনযোগ দেওয়ার জন্য এবং তাদেরকে নিরাপদ রাখার জন্য আমি যত্নশীল হওয়া সত্ত্বেও সেটা সঠিক জায়গা ছিল না। আবারো, অশ্বেতাঙ্গদের সত্যিকারের বিপদের আলোচনা শ্বেতাঙ্গদের অনুভূতি সম্পর্কে, তাদের প্রত্যাশ্যা সম্পর্কে, তাদের চাহিদা সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে চুপসে গেছে।
যেহেতু আমি সেখানে দাঁড়িয়ে বর্ণ সম্পর্কে শত শত কণ্ঠ রোধ করে দেওয়া কথোপকথনের স্মৃতি রোমন্থন করছিলাম, এক সাদা মহিলা আমার মনযোগ ফেরালেন। আশেপাশের কেউ তার কথা শুনে ফেলছে কি না, সেটা নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত ছিলেন না। আমার হাতে তার সাথে কথা বলার সময় আছে কি না, সেটাও তিনি আমাকে জিজ্ঞাস করছিলেন না, যদিও আমি দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।
“তোমার আলোচনা আসলেই চমৎকার হয়েছে,” তিনি তার কথা শুরু করলেন। “তুমি অনেক ভালো ভালো কথা বলেছ, যেগুলো প্রচুর মানুষের জন্য উপকারী হবে।”
তিনি একটু থামলেন, এরপর আবার বললেন, “কিন্তু বিষয় হলো, তুমি আজ এমন কিছুই বলো নি, যে আরো বেশি কৃষ্ণাঙ্গ বন্ধু বানাতে আমকে সহযোগিতা করবে।”
একেবারে শুরুর দিকে বর্ণবাদ নিয়ে আলোচনায় আমি যোগদান করেছিলাম, এমন একটি প্যানেলের কথা মনে পড়লো। সিয়াটল শহরে (ওয়াশিংটন রাজ্যের একটি শহর) একজন কালো লোককে এক নিরাপত্তারক্ষী পিপার স্প্রে করেছে, তার অপরাধ শুধু এতোটুকু ছিল যে তিনি একটি শপিং সেন্টারের দিকে হাটছিলেন। ঘটনাক্রমে সেটা ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল। একদল কালো লেখক-অ্যাক্টিভিস্ট এদের মধ্যে আমিও ছিলাম সিয়াটলের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্বেতাঙ্গদের সামনে সে ঘটনা নিয়ে কথা বলছিলাম। আমার সাথে থাকা প্যানেলিস্ট চার্লস মুডেড, যিনি একাধারে একাধারে একজন মেধাবী লেখক, ফিল্ম মেকার এবং অর্থনৈতিক তাত্ত্বিক, কর্মক্ষেত্রে অর্থনৈতিক পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে বলছিলেন: এই নিরাপত্তারক্ষীকে বলে দেওয়া হয়েছে যে তার দায়িত্ব হলো তার নিয়োগকর্তার লাভ করার সক্ষমতাকে রক্ষা করা। তাকে বলা হয়েছে যে তার দায়িত্ব হলো শুধু সেসকল ক্রেতাদেরকে রাখা, যাদের সুখে স্বাচ্ছন্দে ও নিরাপদে ব্যয় করার মতো টাকা আছে। আর কার টাকা আছে কার টাকা নাই, কে সহিংস, কে সহিংস নয়, সে সম্পর্কে প্রতিদিন তাকে সাংস্কৃতিক বার্তা গেলানো হচ্ছে। চার্লস যুক্তি দেখান যে নিরাপত্তারক্ষী শুধুমাত্র তার দায়িত্ব পালন করেছিল। একটি শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদী পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়, আপনার কাজটি ঠিক এরকমই দেখায়।
যাক, তিনি অন্তত এই অবস্থানে যুক্তি দাঁড় করার চেষ্টা করছিলেন। কারণ মাঝপথে এক সাদা মহিলা দাঁড়িয়ে তাকে আটকালেন।
 “দেখ, আমি নিশ্চিত যে তুমি এসকল স্টাফ সম্পর্কে প্রচুর জানো।” সে মহিলা কোমরের উপর হাত রেখে বলছিলেন, “কিন্তু আমি এখানে অর্থনীতির পাঠ শেখার জন্য আসি নি। আমি এসেছি কারণ এই লোকটির প্রতি যা ঘটেছে, সেটাতে আমার খারাপ লেগেছে এবং আমি জানতে চাই যে এখন কী করার আছে।”
হয়তো, সেই আলোচনা কক্ষও সঠিক জায়গা ছিল না। সেই মহিলার কথা অনুসারে, উপরের এলাচনা হওয়া উচিত হয় নি, পিপার স্প্রে দ্বারা যাকে আক্রমণ করা হয়েছে তার অনুভূতি অথবা আরো বৃহদাকারে কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের অনুভূতি আলোচনা করাটা যথোপযুক্ত ছিল না। যদিও আমরা নিজেরা নিজেদের শহরে কতটা অনিরাপাদ, সে আলোচনা সেটারই প্রমাণ ছিল মাত্র। সেই মহিলার খারাপ লেগেছে এবং তিনি তার খারাপ লাগা বন্ধ করতে চান। আর তিনি আমাদের নিকট প্রত্যাশা করেন আমরা কার সেই খারাপ লাগা বন্ধ করে দেব।
গত মাসে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি আলোচনা করছিলাম প্রকাশনার ‘শ্বেত ধোলাই’ সম্পর্কে, এবং অশ্বেতাঙ্গদের আরো বেশি ছাকনিবিহীন (অর্থাৎ কোন ধরনের কাট-ছাট ব্যাতিরেখে) আখ্যানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে, একজন সাদা ভদ্রলোক বেশ জোর গলায় বললেন, আমরা (কৃষ্ণাঙ্গরা) যদি নিজেদেরকে আরো সহজবোধ না করি, তাহলে শ্বেতাঙ্গদের পক্ষে আমাদেরকে বোঝার কোন উপায় নেই। আমি যখন তাকে জিজ্ঞাস করলাম, শুধুমাত্র নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য অশ্বেতাঙ্গরা শ্বেত সংস্কৃতির সকল উপাদানের সাথে নিজেদের অভ্যস্ত করে তুলতে হবে কি না, তখন তিনি মাথা ঝাঁকালেন এবং তার নোটবুকের দিকে তাকালেন। গত সপ্তাহে আমার পরিচালিত একটি কর্মশালায় এক সাদা মহিলা সন্দেহ প্রকাশ করে বললেন আমেরিকার অশ্বেতাঙ্গরা বর্ণ সম্পর্কে সম্ভবত অতি মাত্রায় সংবেদনশীল। তিনি কীভাবে জানতে সক্ষম হবেন, যদি আমরা তার প্রশ্নে সব সময় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি।
অসংখ্য বার আমি এ রকমের বাধা এবং উত্তরের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এমনকি যখন পোস্টারে আমার নাম লেখা থাকে, তখনো সেসকল জায়গাকে আমি এবং আমার মতো অশ্বেতাঙ্গ লোকজন যেসকল বিষয়ে কথা বলা প্রয়োজন মনে করি সেকল কথার জন্য সঠিক জায়গা বলে মনে হয় না। সুতরাং প্রায়ই কোন বিষয়ে আলোচনা হবে, তারা কী শুনবে, কী জানবে, সেটা সম্পর্কে শ্বেতাঙ্গ উপস্থিতিই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এবং এটা তাদের জায়গা, সব জায়গাই তো তাদের।
একদিন, হতাশা হয়ে, আমি সামাজিক মাধ্যমে এই স্ট্যাটাস পোস্ট করি:
 “যদি তোমার বর্ণবাদ বিরোধী কাজে শ্বেত আমেরিকার ‘প্রবৃদ্ধি’ এবং ‘আলোকোদ্ভাসিত দিক’ অশ্বেতাঙ্গদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং মানবতার উপর প্রাধান্য পায়, তাহলে এটি বর্ণবাদ বিরোধী কাজ নয়। এটি বরং শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদী কাজের অংশ।”
শ্বেতাঙ্গদের নিকট প্রাপ্ত একেবারে শুরুর দিকের মন্তব্যগুলোর একটি ছিল: “ঠিক আছে, কিন্তু কোন কিছু না হওয়ার চেয়ে এটা কি ভালো নয়?”
আসলই কি তাই? সামান্য মুছে ফেলা অনেক বেশি মুছে ফেলার চেয়ে ভালো নাকি? বর্ণবাদ বিরোধী কাজের ফাঁকে সামান্য শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদ কোন বর্ণবাদ বিরোধী কাজই না হওয়ার চেয়ে ভালো? আমেরিকায় জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমি যখনই দাঁড়াই, আমি জানি যে আমার সামনে প্রচুর শ্বেতাঙ্গ আছে, যারা এখানে এসেছে বর্ণবৈষম্য ও সহিংসতার খবর পড়ে একটু কম খারাপ লাগার জন্য, সবাইকে একথা জানানোর জন্য যে তারা অন্যদের মতো নয়, আরো কালো বন্ধু বানানোর জন্য। এসবই তাদের উপস্থিতির উদ্দেশ্য। আমি জানি আমি এমন প্রচুর শ্বেতাঙ্গের সামনে কথা বলছি, যারা মনে করে তারা সমস্যার অংশ নয়, যেহেতু তারা এখানে উপস্থিত হয়েছে।
শুধু একটি বার আমি এমন একদল শ্বেতাঙ্গের সামনে কথা বলতে চাই, যারা জানে যে তারা এখানে এসেছে কারণ তারা এই সমস্যার অংশ। যারা জানে যে তারা এখানে এসেছে, যাতে তারা কোন কোন জায়গায় ভুল করছে, ক্ষতিকর কাজ করছে সেটা জেনে আরো ভালো কাজ করতে শুরু করতে সক্ষম হয়। কারণ শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদ তাদেরই গড়া, এটি থেকে তারা উপকৃত হয়েছে, এবং এটি ধ্বংস করা তাদেরই দায়িত্ব।
আমি এবং আরো অনেক অশ্বেতাঙ্গ অংশগ্রহণকারী প্রায়ই ক্লান্ত এবং হতাশ হয়ে এসব আলোচনা বাদ দিয়ে দিই, তবে আমি এখনও সবাইকে স্পষ্ট করে বাস্তব অবস্থা দেখাই এবং কথা বলি। আমি বাস্তব অবস্থা দেখিয়ে দিতে থাকি এই আশায় যে, হয়তো এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত অচলায়তন ভাঙবে, অথবা আমাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবে, যেটা আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের আরো কাছাকাছি। আমি সেসকল কৃষ্ণাঙ্গের জন্য কথা বলি, যারা মুক্তভাবে কথা বলতে পারে না, যাতে করে তাদেরকে সবাই দেখতে পায়, শুনতে পায়। আমি কথা বলি, কারণ এই কক্ষে থাকা কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে যাদের শুনা দরকার যে বর্ণবাদী নিপীড়নের বোঁঝা তাদের বহন করা উচিত নয়, যেখানে এই নিপীড়ন থেকে যারা উপকৃত হয়, তারা প্রত্যাশা করে যে বর্ণবাদ বিরোধী প্রচেষ্টায় প্রথমে তাদের চাহিদা পূর্ণ করা হবে। আমার একেবারে সাম্প্রতিক আলোচনার পর, এক কালো মহিলা আমার নিকট একটি নোট পাঠান যেখানে তিনি লিখেছিলেন যে বর্ণবাদ তার জীবনে কী রকম প্রভাব ফেলছে তিনি কখনোই তার শ্বেত সহকর্মীদের নিকট থেকে প্রতিশোধের ঝুঁকি ছাড়া সেটা খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন না। “আমি বাড়িতে নীরব থেকেই আরোগ্য লাভ করি,” এভাবেই তিনি তার কথা শেষ করেন।
এটা কি কোন কিছু না হওয়া থেকে উত্তম? নাকি বাস্তবতা এই যে ২০১৯ সালেও প্রতিদিন নিজেকে সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রশ্নটি করতে হচ্ছে যে
________________________________

নিবন্ধটি দ্য গার্ডিয়ানে “Confronting racism is not about the needs and feelings of white people শিরোনামে প্রকাশিত হয়। ভাষান্তর কর্তৃক অনূদিত, দ্য গার্ডিয়ান থেকে ছবি সংগৃহীত।



মাইকেল শাফি, যাহরা মালিক, আযহার ফারুক, দ্য গার্ডিয়ান:
বিতর্কিত কাশমিরের আকাশসীমায় বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের আকাশ সীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে ফেলে দিয়েছে পাকিস্তান, এতজন ভারতীয় পাইলটকে গ্রেপ্তারও করেছে।
প্রায় পঞ্চাশ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভারত কর্তৃক পাকিস্তানে হামলা করার একদিন পর পাকিস্তান এ হামলা করে। পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ১৯৯৯ সালে হিমালয়ে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের পর দক্ষিণ এশিয়ায় এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সংকট।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে ভারতও বুধবারে কাশমিরের নিয়ন্ত্রণ রেখার পাকিস্তানি অংশে পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
পাকিস্তান লাহোর, ইসলামাবাদ ও অন্যান্য শহরে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল স্থগিত রেখেছে। অন্তত একটি ভারতীয় বেসরকারী এয়ারলাইনার স্বীকার করেছে যে উত্তর ভারতের বিমান পথ বন্ধ আছে, অমৃতসর, শ্রীনগর, চণ্ডীগড় ও জম্মুতে বিমান চলাচল স্থগিত আছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার সকালে একটি বিবৃতিতে বলেছে, তারা ভারতীয় আকাশ সীমায় প্রবেশ না করেই কাশমিরে নিয়ন্ত্রণ রেখায় “বেসামরিক লক্ষ্যে” আক্রমণ করেছে, “আত্মরক্ষার অধিকার, ইচ্ছা ও সক্ষমতা” প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে।
“আমাদের উত্তেজনা বৃদ্ধির কোন ইচ্ছা নেই, তবে তা করতে বাধ্য করা হলে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি।” দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ ফায়সাল বলেছেন।
জনৈক জ্যেষ্ঠ ভারতীয় কর্মকর্তা গার্ডিয়ানকে বলেন, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান সীমান্তবর্তী রাজৌরি জেলার তিনটি জনশূণ্য গ্রাম নদিয়ান, লাম ও ঝংগরে বিমান সকাল সাড়ে দশটার পর বিমান হামলা চালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু ভারতীয় বিমান বাহিনী কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়।
প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে বুদগামে একটি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত হয়, তবে এই ঘটনার সাথে তা সম্পৃক্ত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গাফুর জানান, ভারতীয় যুদ্ধবিমান এই হামলায় সাড়া দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করেছিলো, তন্মধ্যে দুটি বিমান গুলিতে ভূপাতিত হয়েছে। একটি যুদ্ধবিমান পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশমিরে ভূপাতিত হয়, অন্যটি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশমিরে ভূপাতিত হয়। একজন ভারতীয় পাইলট সৈন্যদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। একটি টুইটে তিনি এসব কথা জানান।
মঙ্গলবারের হামলার পর থেকে ভারত সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে, কেননা ইসলামাবাদ একটি সারপ্রাইজআক্রমণের কথা বলেছে।
বিতর্কিত কাশমিরের রাজধানী শ্রীনগরের আকাশে মঙ্গলবার রাত জুড়ে যুদ্ধবিমান টহল দেয়, কারণ কয়েক শত মাইল দূরে কাশমির নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মর্টারের গুলি বিনিময় হচ্ছিল।
মোটা দাগে ভারতকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পো একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। এতে তিনি ভারত কর্তৃক প্রতিবেশী দেশের সীমান্তের পাঁচ মাইল ভিতরের হামলাকে “জঙ্গী বিরোধী অভিযান” বলে আখ্যায়িত করেন, এবং পাকিস্তানকে “তার মাটিতে সক্রিয় জঙ্গীগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অর্থবহ ব্যবস্থা গ্রহণের” জন্য আহ্বান জানান।
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। মঙ্গলবার ভোরে ভারত আসলে কীসের উপর হামলা চালিয়েছিলো? যদি তারা আদৌ কোন কিছুর উপর হামলা চালায় আরকি। উভয় দেশ স্বীকার করছে যে ভারত অন্ততপক্ষে বালাকোটের কয়েক মাইল অভ্যন্তরে হামলা চালিয়েছে। বালাকোট সীমান্ত থেকে পাঁচ মাইল অভ্যন্তরে একটি ছোট পাকিস্তানি শহর। কিন্তু হিসাব বলছে অন্য কথা।
ভারত দাবি করছে, তারা একটি সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে, এবং জয়শ-এ-মোহাম্মদীর “বড় সংখ্যক” যোদ্ধাদেরকে হত্যা করেছে। যে জঙ্গী গোষ্ঠীটি ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশমিরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে, যে হামলায় ৪০ জন আধা সামরিক সৈন্য নিহত হয়েছে।
পাকিস্তান বলছে, তারা পৌছার আগেই ভারত বালাকোটে আঘাত হানে, এবং একটি খোলা মাঠে চার থেকে পাঁচটি বোমা নিক্ষেপ করে আবার পালিয়ে ফিরে যায়।
গত বুধবার সকালে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জোর দিয়ে বলেন ধরনের হামলার লক্ষ্য পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ছিল না
তিনি বলেন, “কোন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয় নি। অগ্রীম এই হামলার সীমিত উদ্দেশ্য ছিল জয়শ এ মোহাম্মদীর জঙ্গী গোষ্ঠীর অবকাঠামোসমূহের বিরুদ্ধে হামলা করা, ভারতে আরেকটি জঙ্গী হামলা অগ্রীম প্রতিহত করার জন্য।
তিনি আরো যোগ করেন, “ভারত এ অবস্থায় আর উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে চায় না, ভারত দায়িত্ব ও সংযম সহকারে কাজ চালিয়ে যাবে।”
বুধবার বিকালে পাকিস্তান একটি যৌথ সংসদীয় অধিবেশন সম্পন্ন করে, এর আগে জাতীয় কমান্ড অথরিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র দেখভাল করা।
মঙ্গলবার রাতে গাফুর বলেন, “এখন তোমাদের পালা অপেক্ষা করো আর আমাদের সারপ্রাইজের জন্য প্রস্তুত হও।”
উভয় সেনাবাহিনীই একে অপরকে কাশমির নিয়ন্ত্রণরেখায় গ্রামসমূহের উপর এবং প্রতিপক্ষ সেনাবাহিনীরেউপর গোলা বর্ষণের অভিযোগ করছে।
জনৈক পাকিস্তানি কর্মকর্তা এপিকে জানান, ভারতের মর্টার হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কোনো হতাহতের খবর দেন নি, তবে কামালকোটও কালগোসহ বিভিন্ন গ্রামে হামলা করার অভিযোগ করেছেন।
________________________________


নিবন্ধটি গার্ডিয়ানে প্রকাশিত। ভাষান্তর কর্তৃক সংক্ষেপে অনূদিত। ছবি গার্ডিয়ান থেকে সংগৃহীত।



Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.