Articles by "ডেইলি সাবাহ"

ডেইলি সাবাহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

প্রেসিডেন্ট এরদোগান। নির্বাচনে প্রার্থী না হয়েও তিনিই এই নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র ছিলেন। 

এমরে গোনেন, ডেইলি সাবাহ:
গণতন্ত্রে পৌর বা নগর নির্বাচন সাধারণত দুই ধরনের ভূমিকা পালন করে। প্রথমত, এসকল নির্বাচনে স্থানীয় সরকার সম্পর্কে ভোটারদের চাহিদা এবং উপলব্ধি প্রতিফলিত হয়, পাশাপাশি জাতীয় সরকারের এক ধরনের অ্যাসিড টেস্টও হয়ে যায়। এ জন্য ভোটাররা এ ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সরকারকে কড়া সংকেত দেন।
১৯৮০ সালের পূর্ব পর্যন্ত তুরস্কে স্থানীয় সরকারের সত্যিকারের কোন গুরুত্ব ছিল না, কেননা সেসময় পৌরসভার বাজেট ছিল মারাত্মক কম। ফলে কোন পৌরসভা গুরুত্বপূর্ণ কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাইলে অর্থায়ন পাওয়ার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক রাখতে হতো। তুর্কি অর্থনীতিতে উদারনীতি অবলম্বনের শুরু হওয়ার পর থেকে স্থানীয় সরকারের আর্থিক রাজস্ব অধিকার দৃঢ়করণের মাধ্যমে এ অবস্থার উন্নতি হতে থাকে।
বর্তমানে তুরস্কে স্থানীয় সরকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বড় বড় মহানগরীগুলোর সরাসরি রাজস্বের পরিমাণ বেশ গুরুত্বপূর্ণ হওয়াই এই গুরুত্বের কারণ নয়, বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের কারণে এ নির্বাচনের গুরুত্ব বর্তমানে অনেক বেশি। ইস্তাম্বুল একা দেশের মোট জিডিপির ৩১ শতাংশেরও বেশি উৎপাদন করে। পশ্চিমাঞ্চলীয় এবং উপকূলীয় এলাকা মধ্য আনাতোলিয়া ও পূর্বাঞ্চলীয় তুরস্কের তুলনায় অনেক বেশি ধনী। অসামঞ্জস্যের নজির হিসেবে এটুকু তথ্যই যথেষ্ট।
জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) সরকার ২০০২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সুষ্ঠুভাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার কারণে নির্বাচনে এক ধরনের সুবিধা ভোগ করে আসছে। শুধুমাত্র ২০০৯ সালের নির্বাচনে তারা এ সুবিধা পায়নি, কেননা সে নির্বাচন হয়েছিল ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পরপর। সেসময় নির্বাচনে একে পার্টি ৩৯ শতাংশের কম জনসমর্থন পেলেও বড় বড় মহানগরগুলো ঠিকই তাদের অধীনে থেকে যায়।
এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক সংকট আরো গভীরতর এবং এর থেকে পুনরুদ্ধারে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে, সম্ভবত এটি বিরোধী দলকে নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে। নির্বাচনপূর্ব কয়েকটি জনমত জরিপে এবার বিরোধীদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভোট বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আবার অন্যগুলোতে স্থিতাবস্থা বজায় থাকার কথাই দেখানো হয়েছে।
একেপির পৌর নির্বাচনের প্রার্থীদের ক্যাম্পেইন মোটামোটি দৃশ্যমানই ছিল, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েব এরদোগান নিজে পুরো ক্যাম্পেইনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সম্ভবত কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এ নির্বাচনে সত্যিকারের অসুবিধা তৈরি করতে পারে, এ বিষয়টি বুঝতে পেরেই তিনি নির্বাচনে “টিকে থাকার” প্রশ্নটি তৈরি করেছিলেন। এ জন্য এবারের নির্বাচনী বিতর্ককে নিজের আত্মবিশ্বাসের নির্বাচেন রূপান্তর করে তিনি পতন আটকাতে চেয়েছিলেন এবং অনেকটা সফলও হয়েছেন।
পয়লা অনুমানে মনে হয় তার কৌশল সফল হয়েছে। হয়তো তিনি যতটা আশা করেছিলেন ততটা সফলতা আসেনি, তবে ভোটের হিসেবে একেপি এবং জোট শরিক এমএইচপি খুব একটা লোকসানের মুখোমুখি হয়নি। বিরোধীদ দল রিপাব্লিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)র প্রত্যাশিত ভূমিধ্বস বিজয় অর্জিত হয়নি। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের বেশির ভাগ উন্নত শহরগুলোতে বিরোধীরাই জিতেছে।
ইজমিরে কখনোই একে পার্টি জিতে নি, কিন্তু এবার রাজধানী আঙ্কারাও বিরোধী দলের হাতে চলে গেলো। ইস্তাম্বুল মহানগর ১৯৯৪ সালে এরদোগান মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই একে পার্টির হাতে ছিল, তবে এবার জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল যে এখানে একেপি হুমকির মুখে আছে। এখন দেখা যাচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিনালি য়িলদিরিম ইস্তাম্বুলের মেয়র হতে যাচ্ছেন। (তিনি ক্ষমতাসীন একেপির প্রার্থী ছিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচিত হতে পারেন নি, একেবারে সামান্য ভোটের ব্যবধানে বিরোধী দলীয় প্রার্থীর নিকট পরাজিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৪৮.৫১% ভোট, বিরোধী দলীয় প্রার্থী সেখানে পেয়েছেন ৪৮.৭৯% ভোট! অনুবাদক)
এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন একে পার্টি নেতৃত্বাধীন জোট ও সিএইচপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোটের মধ্যে এক ধরনের ড্র হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান এই প্রতিযোগিতায় তার সকল সম্ভাব্যতাকে কাজে লাগিয়েছেন, তার মুখ রক্ষা হয়েছে, এবং সম্ভবত তিনি আরো খারাপ ফলাফল আটকাতে সক্ষম হয়েছেন। ক্ষমতাসীন একে পার্টির কতিপয় সাবেক নেতাদের সমন্বেয়ে একটি “নতুন” দল গঠনের গুজব সম্ভবত হাওয়া হয়ে গেছে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল সিএইচপি এই নির্বাচনকে তাদের ভালো রকমের বিজয় বলে ঘোষণা করবে। আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পর যদি বড় ধরনের কোন বিস্ময়কর কিছু যদি না ঘটে, তবে এই নির্বাচনের ফলাফলে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের নীতির খুব একটা ক্ষতি হবে না।
________________________________

লেখাটি তুরস্কের ডেইলি সাবাহের অনলাইন সংস্করণে “The meaning of the 2019 election results” শিরোনামে প্রকাশিত। ভাষান্তর কর্তৃক অনূদিত। ছবি উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত।



হিলাল কাপলান, ডেইলি সাবাহ:
তুর্কি দৈনিক সাবাহ পত্রিকায় ডিসেম্বরে লেখা আমার একটি কলামের শিরোনাম ছিল এরকমই। সে কলামের শুরুটা হয়েছিলো: “একেবারে ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে একটি নাৎসী আন্দোলন বেড়ে উঠছে। তারা শুধু সক্রিয়ই নয়, বরং কল্পনার চেয়েও বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। যে কোন মুহূর্তে পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে তারা প্রস্তুত।”
দুর্ভাগ্যবশত মাত্র আমার এই নিবন্ধ লেখার মাত্র তিন মাস পর নিউজিল্যান্ড তার সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যার সাক্ষী হলো, যেখানে একজন সন্ত্রাসী ৫০ জন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে এবং পুরো ঘটনাটি লাইভ করেছে।
ঘাতক তার “ম্যানিফেস্টো”তে নিজেকে ক্রুসেডার হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। এবং এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে ঘাতক তার আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করেছে মুসলমানদেরকে হত্যাকারী ক্রুসেডার কমান্ডারদেরকে।
যদিও নিউজিল্যান্ড সরকার এবং বিশেষত প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডের্ন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি চমৎকারভাবে তাদের সমালোচনা ব্যক্ত করেছেন, তবে এখন পর্যন্ত তারা ঘাতকের প্রেক্ষাপটের উপর আলোকপাত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এমনকি যে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ধরে ঘাতক ইতোপূর্বে পরিভ্রমণ করেছে, সে সূত্রেও তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করার যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে, কিন্তু নিউজিল্যান্ডবাসী দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের বাঁচাতে এ ধরনের ঘটনায় “একাকী নেকড়ে” (অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন ঘটনা) তত্ত্বকে তাদের যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
যাই হোক, অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্টাইন কুর্জ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন, যা ইতোমধ্যেই জানা হয়ে গেছে, সেখানে তিনি বলেন: “এখন আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে নিউজিল্যান্ডের হামলাকারী এবঙ অস্ট্রেলিয়ার আইডেন্টিটেরিয়ান (ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কট্টর ডানপন্থী আন্দোলন) আন্দোলনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং যোগাযোগ বিদ্যমান রয়েছে।”
বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিবৃতি অনুসারে, গত নভেম্বরে হামলাকারী অস্ট্রিয়া সফর করে এবং অভিবাসন বিরোধী আইডেন্টিটেরিয়ান আন্দোলনে ১,৫০০ ইউরো দান করে।
 “নব্য ক্রুসেডার” শিরোনামে আমার নিবন্ধে আমি জেনারেশন আইডেন্টিটি আন্দোলন সম্পর্কে আমি বর্ণনা করেছিলাম: “এই গোষ্ঠীটির সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রস্তাবনা হচ্ছে গ্রেট রিপ্লেসমেন্টর তথাকথিত তাত্ত্বিক ধারণা। এ মতবাদ অনুসারে যারা ইউরোপে অভিবাসী হয়েছে, কত প্রজন্ম ধরে তারা ইউরোপে বসবাস করেছেন তা বিবেচনা না করেই, তাদেরকে অবশ্যই তাদের আদি ভূমিতে ফিরিয়ে দিতে হবে। এর কারণ তাদের মতে ইউরোপ শুধুমাত্র শ্বেতাঙ্গ এবং খ্রিষ্টানদের জন্য। মুসলিম, ইহুদি, শিখ কিংবা অন্য কোন বিশ্বাস অথবা জাতির কোন জায়গা ইউরোপে নেই।”
নিউজিল্যান্ডের গণহত্যারি মেনিফেস্টোর দিকে তাকালে কাকতালীয়ভাবে দেখতে পাবেন, সেটার শিরোনাম হচ্ছে: “গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট”! জেনারেশন আইডেন্টিটি আন্দোলনটি মাত্র পাঁচ বছর আগে ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনটি ইতোমধ্যে পুরো ইউরোপ জুড়ে নিজেদেরকে বড় আকারে সংগঠিত করেছে। ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়া থেকে শুরু করে জার্মানি পর্যন্ত এটি বিস্তার লাভ করেছে এবং ইতালিতেও এটি শিকড় প্রোথিত করেছে।
জরিপ অনুসারে, ফ্রান্সের প্রতি চার জনের মধ্যে এক জন মারিন লে পেনকে সমর্থন করে। কট্টর ডানপন্থী ইউকেআইপির সাবেক নেতা নিগেল ফারাগ বিবৃতি দিয়েছিলেন যে, “ইউকেআইপি ধর্মীয় ক্রুসেড লড়া দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।” ফলস্বরূপ তাকে তার অবস্থান থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।
কট্টর ডানপন্থীদের উত্থান হচ্ছে দিন দিন। রাজনৈতিক অঙ্গনে আমরা দেখতে পাচ্ছি কট্টর ডানপন্থা মূলধারার দলগুলোতে সমর্থন পাচ্ছে। কিন্তু আগামী দশ বছরে এমনটা ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন নয় যে এসকল ক্যাম্পে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হাজারো তরুণ অনেকগুলো সংগঠিত দলের সাথে সমবেত হবে এবং রাস্তায় নেমে পড়বে।
একুশ শতকের মুসলিমরা তাদের নিজেদের এলাকায় সবচেয়ে কষ্টদায়ক সময়ের সাক্ষী হচ্ছে, এবং দুর্ভাগ্যবশত এ পরিস্থিতি কেবলই বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
________________________________

নিবন্ধটি তুর্কি দৈনিক ডেইলি সাবাহর ইংরেজি সংস্করণে “Neo-Crusaders of Europeশিরোনামে প্রকাশিত। 

Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.