Articles by "পাকিস্তান"

পাকিস্তান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান



অবিনাশ গদবলে, এশিয়া টাইমস:
আগে থেকেই যেমনটা আশা করা হচ্ছিল, চীন আবারো জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে ভেটো দিয়ে জাতিসংঘের নিষিদ্ধ তালিকায় মাসুদ আযহারকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে একটি রেজুলেশন আটকিয়ে দিয়েছে। নিকট অতীতে এরকম “টেকনিক্যাল হোল্ড” হিসেবে চীনের দেওয়া ভেটোসমূহের মধ্যে এটি চতুর্থ। চীনের এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায় যে, সন্ত্রাস ভারতের নিজস্ব জাতীয় সমস্যা এবং চীনের বৈশ্বিক “সন্ত্রাস” নীতি ও তার দক্ষিণ এশিয়া নীতির ফারাক এখনো বহাল আছে।
তাছাড়াও, এমনকি ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশমীরের পুলওয়ামার সন্ত্রাসী হামলা, যাতে প্রায় ৪১ জন মারা গেছেন, তাতেও ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে চীনের অবস্থানে কোন কার্যকর পরিবর্তন আসে নি। এটা থেকে মনে হয় যে উদীয়মান বিশ্ব শক্তি হিসেবে চীনের দায়িত্বশীলতার তুলনায় পাকিস্তানের সাথে “সাগরের চেয়েও গভীর” সম্পর্কই চীনের জাতীয় স্বার্থে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বব্যাপী দীর্ঘকাল ধরে চলা সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ”র সময়ে ভারত সুযোগ কাজে লাগাতে পারে নি। ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ সালের হামলার ফলাফলস্বরূপ আমেরিকা তার শত্রু-মিত্রদের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক তৈরি করতে “সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ” পরিভাষাটি চালু করেছিলো। ভারত এ যুদ্ধকে বিবেচনা করেছিলো আফগান ও ইরাকে বাস্তব ও কল্পিত শত্রুদের বিরুদ্ধে আমেরিকার লড়াই হিসেবে। এ যুদ্ধ চলাকালে আমেরিকা পাকিস্তানকে ন্যাটোর বাইরের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেছিল এবং অন্যদিকে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করার নীতি অব্যহত রেখেছিল। এমনকি পাকিস্তান আমেরিকার তরফ থেকে ভালো রকমের সহযোগিতাও পেয়েছিল, সেসকল সহযোগিতার কিছু অংশ ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃতও হয়েছে, যেমন ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সাম্প্রতিকইবমান হামলাতেও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নির্মিত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হয়েছে।
এখন চীন আছে পাকিস্তানের পাশে, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (সিপিইসি) মাধ্যমে অর্থই নতুন সম্পর্কের মূল কারণ, যেটি কিনা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মূল ফ্ল্যাগশিপ। চীন কর্তৃক প্রতিশ্রুতিকৃত ৬২ মিলিয়ন ডলার হয়তো পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বদলে দেবে না, কিন্তু এটি পাকিস্তানকে নিজেদের স্বার্থ সম্পর্কে নতুন বোধ তৈরি করে দেবে। পাকিস্তানের জন্য, কোন বড় শক্তির খদ্দের রাষ্ট্র হয়েও যে সেখান থেকে ফায়দা হাসিল করার সক্ষমতা যে পাকিস্তানের আছে, সিপিইসি তার উদাহরণ। আর চীনের জন্য, সিপিইসি এমন এক জাদুর গুলি, যেটা সে শুধু পাকিস্তানেই তার স্বার্থ হাসিলে সহযোগিতা করবে না, বরং আফগানিস্তান, ভারত সাগর, ইরান এবং অভ্যন্তরীণভাবে জিনজিয়াঙেও নিজ স্বার্থ হাসিল করতে সহযোগিতা করবে।
দিল্লিতে অনেকেই বিশ্বাস করছিলেন যে, জাতিসংঘের ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সে সহসভাপতি হতে চীনকে ভারত যে সহযোগিতা করেছিলো, সেটা মাসুদ আযহারের বিষয়ে চীনের অবস্থান পরিবর্তন করতে সাহায্য করবে। যাই হোক, এটা এখন স্পষ্ট যে বাস্তবে এরকম হয় নি। ভারতের তরফ থেকে যে ইস্যুতে সবচেয়ে ভালো রকমের দর-কষাকষি চীন আশা করেছিলো, সেটি হলো বিআরআইতে অবশেষে ভারতের যোগদানের ইচ্ছা। কিন্তু ভারত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিআরআই বিরোধীদের পতাকাবাহী হিসেবে তার নিজের অবস্থান সম্পর্কে গভীরভাবে সচেতন। শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, উগান্ডা এবং এশিয়া ও আফ্রিকার অন্যান্য অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ভারতের অবস্থানকে সমর্থন করছে বলে মনে হচ্ছে। কাজেই এই ভিত্তিতে “কোন কিছুর বিনিময়ে অন্য কোন কিছু দাবি করাটা” বাস্তবে অসম্ভব।
তাহলে বর্তমান অবস্থায় ভারতের হাতে বিকল্প কী আছে? ভারতের দিক থেকে একটা বাস্তববাদী জায়গা থেকে যুক্তি দেখানো হতে পারে যে, চীনের আরেকটি ভেটো দানের নীতি জয়শ-এ-মোহাম্মদের বালাকোট ক্যাম্পে ভারতের অগ্রীম প্রতিরক্ষামূলক হামলাকে ন্যায্য প্রমাণ করে। কাউকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বা নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে জাতিসংঘের যে প্রক্রিয়াটি রয়েছে তা আসলে ভেঙে পড়েছে এবং কেবলমাত্র বড় শক্তিধরদের স্বার্থ রক্ষা করছে।  

________________________________

এশিয়া টাইমসে “Depth of Chinas ties with Pakistan costs Indiaশিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধের আংশিক বাংলা অনুবাদ। ছবি: এশিয়া টাইমস থেকে সংগৃহীত।


নিবন্ধটি সাতাশ তারিখ প্রকাশিত হয়। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংকটের পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়েছে। সর্বশেষ ইমরান খান কর্তৃক ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণার পর পরিস্থিতি আবার নতুন করে ব্যাখ্যা করার দাবি রাখে, এই নিবন্ধের অনেক ব্যাখ্যাও পুনরায় আলোচনা করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তারপরও আমরা মূল নিবন্ধটিই অনুবাদ করেছি।

হ্যাপিমন জ্যাকব, আল জাজিরা:
গত চৌদ্দ ফেব্রুয়ারি ভারতের পুলওয়ামাতে পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন জয়শ-ই-মুহাম্মদ কর্তৃক হামলায় ৪০ জন ভারতীয় আধা সামরিক সৈন্য নিহত হওয়ার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখ, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুসারে একটি প্রতিশোধমূলক বিমান হামলায় তারা পাকিস্তানের খায়বার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে একটি “জঙ্গী” প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস করে। এর জবাবে পাকিস্তানও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় (যা ভারত ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকে আলাদা করেছে) বিমান হামলা চালিয়ে দুটি ভারতীয় যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করে।
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা কিংবা মুখোমুখি অবস্থান নতুন কিছু নয়, রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক রাখার জন্য সামরিক বাহিনীকে ব্যবহারও নতুন কিছু নয়। তবে অন্যান্য বারের সামরিক উত্তেজনার সাথে এবারেরটার পার্থক্য হলো, ১৯৭১ এর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর এই প্রথম এক দেশ অপর দেশের সীমান্তের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে হামলা চালিয়েছে।
অতীতে যখনেই ভারত পাকিস্তান আক্রমণের জন্য যুদ্ধ বিমান পাঠিয়েছে (উদাহরণস্বরূপ কারগিল যুদ্ধের সময়) তখন এ বিষয়টি নিশ্চিত করতো যে যুদ্ধ বিমান যেন কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণ রেখার ভারতীয় অংশে থাকে। পাকিস্তানও একইভাবে তাদের বিমান নিয়ন্ত্রণ রেখার পাকিস্তানি অংশে রাখতো। এছাড়াও সীমান্ত পেরিয়ে যে কোন আক্রমণ হলে সেটা বিতর্কিত ভূখণ্ড পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে হতো, মূল পাকিস্তানে হতো না। উদাহরণস্বরূপ ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরি আর্মি ক্যাম্পে হামলার জবাবে ২০১৬ সালে সংগঠিত সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা বলা যায়।
ভারতের দিক থেকে বিবেচনা করলে এই আক্রমণের পিছনে তাদের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন একটি বড় কারণ হতে পারে, এর বিপরীতে পাকিস্তান এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে চাচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে যাতে নির্বাচন উপলক্ষে পাকিস্তান আক্রমণ রুটিনে পরিণত না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। একপক্ষ নতুন করে তাদের সামরিক ভাবমূর্তি তৈরি করতে চাচ্ছে, আরেক পক্ষ মনে প্রাণে এড়িয়ে যেতে চাচ্ছে।

এটা ভারতের নির্বাচনের মৌসুম

কারগিল সংকটের পর থেকে দুই দশকের মধ্যে এই দুই পক্ষের মধ্যে এটিই সবচেয়ে গুরুতর সামরিক উত্তেজনা, তার উপর সামনে ভারতের জাতীয় নির্বাচন আর সেখানকার চতুর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় বারের মতো গদিতে বসতে চাচ্ছেন বলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে পড়েছে।
মোদি সরকার সবসময় নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা বলে থাকে, কাজেই ১৪ ফেব্রুয়ারির পুলওয়ামা হামলার কড়া জবাব না দিয়ে থাকা মোদি সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এই হামলার জবাব না দিলে মোদি এবং তার ডানপন্থী দলের জন্য তা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ হতো, বিশেষত বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়ার জন্য আহ্বান করার পর এবং গত বছরের গুরুত্বপূর্ণ উপ-নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির হতাশাজনক ফলাফলের পর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে গেছে।
পুলওয়ামা হামলা মোদির জন্য রাজনৈতিক সুযোগ নিয়ে এসেছে এবং তিনি এ সুযোগের যথাসম্ভব সদ্ব্যবহার করতে চাইবেন। এজন্য তিনি হয়তো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরো উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইতে পারেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জন্য এরকম বহুলপ্রচারিত ভারতীয় আক্রমণের জবাব না দেওয়াটা রাজনৈতিক আত্মহত্যার নামান্তর। অন্যদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জন্যও জবাব না দেওয়াটা তাদের জনপ্রিয়তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাদের সাধারণ সৈন্যদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে।

এরপর কী?

আজ (সাতাশ ফেব্রুয়ারি) সকালে, পাকিস্তান ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের আকাশে বিমান হামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খুব সহজেই বলা যায়, ভারত পাল্টা আক্রমণ করবে এবং উভয় পক্ষ তাদের সীমান্তে লড়তে থাকবে।
প্রদত্ত পরস্পর বিরোধী প্রতিবেদনের আলোকে আকাশ যুদ্ধের মাত্রা পরিমাপ করাটা আসলে অনেক কঠিন। উভয় পক্ষই দাবি করছে যে তার প্রতিপক্ষের যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করেছে। কতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে, পাইলট গ্রেপ্তার হয়েছে কিনা, কোন পক্ষের কতটুকু ক্ষতি হচ্ছে, এসব সম্পর্কেও পরস্পর বিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
যে বিষয়টি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলবে তা হলো আটককৃত পাইলটের সাথে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তাকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে কিনা, এবং মোটা দাগে বিমান হামলার ফলে ভারতীয় অংশে কতটুকু ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে।
ভারতীয় বিমান হামলার ঘটনায় পাকিস্তানও নিয়ন্ত্রণরেখায় তাদের ভারি কামানগুলো সক্রিয় করেছে। এ কৌশলটি ইতোপূর্বে উত্তেজনা বৃদ্ধিকালে উভয়পক্ষই ব্যবহার করেছে। একদিন পর নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদ হয়তো নিয়ন্ত্রণরেখায় আগ্নেয়াস্ত্রে পরিমাণ আরো বৃদ্ধি করতে পারে।
এই উত্তেজনা কত দূর যেতে পারে তা এখনো অস্পষ্ট। ভারত যদি আবার পাল্টা আক্রমণ করে, তবে খুব সম্ভ আবার বিমান হামলাই করবে, সেক্ষেত্রে উভয় পক্ষ একটি অজ্ঞাত সংঘাতের মধ্যে নিজেদেরকে আবিষ্কার করবে, যদি না পাকিস্তান সেসময় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
ইসলামাবাদের হাতে অবশ্য আরেকটি বিকল্প আছে। চাইলে তারা সামরিক জবাব কমিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ভারতীয় লক্ষ্যবস্তুতে আরো বেশি আক্রমণের সুযোগ করে দিতে পারে। ইসলামাবাদ এর আগেও এ কৌশল অবলম্ব করেছিলো। ২০১৬ সালের ভারতীয় সার্জিক্যাল অ্যাটাকের পর, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জঙ্গী হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে এ কৌশল পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী কিংবা সেনাবাহিনীর জন্য সম্ভবত কোন ফায়দা বয়ে আনবে না।
এটা মনে রাখা জরুরি, এটি মোদি ও খানের ভাবমূর্তির যুদ্ধও বটে। ফলে উত্তেজনা হ্রাস করাটা নির্ভর করবে যুদ্ধ থেকে ফিরে গিয়ে জনগণের সামনে তাদের মুখরক্ষা করার সক্ষমতার উপর। অর্থাৎ ‍যুদ্ধ থেকে বিরত হতে হলে এমনভাবে হতে হবে, যাতে আম জনতার সামনে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করা সম্ভব হয়। উভয় প্রধানমন্ত্রীর এই সক্ষমতার উপর চলতি সংকট নিরসন বহুলাংশে নির্ভর করবে।
________________________________

নিবন্ধটি গত সাতাশ ফেব্রুয়ারি আল জাজিরা ইংরেজির অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে। ভাষান্তর কর্তৃক আংশিক অনূদিত। লেখক দিল্লির জওহারলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে Disarmament Studiesর শিক্ষক। ছবি আল জাজিরা থেকে সংগৃহীত।



মাইকেল শাফি, যাহরা মালিক, আযহার ফারুক, দ্য গার্ডিয়ান:
বিতর্কিত কাশমিরের আকাশসীমায় বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের আকাশ সীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে ফেলে দিয়েছে পাকিস্তান, এতজন ভারতীয় পাইলটকে গ্রেপ্তারও করেছে।
প্রায় পঞ্চাশ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভারত কর্তৃক পাকিস্তানে হামলা করার একদিন পর পাকিস্তান এ হামলা করে। পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ১৯৯৯ সালে হিমালয়ে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের পর দক্ষিণ এশিয়ায় এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সংকট।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে ভারতও বুধবারে কাশমিরের নিয়ন্ত্রণ রেখার পাকিস্তানি অংশে পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
পাকিস্তান লাহোর, ইসলামাবাদ ও অন্যান্য শহরে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল স্থগিত রেখেছে। অন্তত একটি ভারতীয় বেসরকারী এয়ারলাইনার স্বীকার করেছে যে উত্তর ভারতের বিমান পথ বন্ধ আছে, অমৃতসর, শ্রীনগর, চণ্ডীগড় ও জম্মুতে বিমান চলাচল স্থগিত আছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার সকালে একটি বিবৃতিতে বলেছে, তারা ভারতীয় আকাশ সীমায় প্রবেশ না করেই কাশমিরে নিয়ন্ত্রণ রেখায় “বেসামরিক লক্ষ্যে” আক্রমণ করেছে, “আত্মরক্ষার অধিকার, ইচ্ছা ও সক্ষমতা” প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে।
“আমাদের উত্তেজনা বৃদ্ধির কোন ইচ্ছা নেই, তবে তা করতে বাধ্য করা হলে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি।” দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ ফায়সাল বলেছেন।
জনৈক জ্যেষ্ঠ ভারতীয় কর্মকর্তা গার্ডিয়ানকে বলেন, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান সীমান্তবর্তী রাজৌরি জেলার তিনটি জনশূণ্য গ্রাম নদিয়ান, লাম ও ঝংগরে বিমান সকাল সাড়ে দশটার পর বিমান হামলা চালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু ভারতীয় বিমান বাহিনী কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়।
প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে বুদগামে একটি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত হয়, তবে এই ঘটনার সাথে তা সম্পৃক্ত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গাফুর জানান, ভারতীয় যুদ্ধবিমান এই হামলায় সাড়া দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করেছিলো, তন্মধ্যে দুটি বিমান গুলিতে ভূপাতিত হয়েছে। একটি যুদ্ধবিমান পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশমিরে ভূপাতিত হয়, অন্যটি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশমিরে ভূপাতিত হয়। একজন ভারতীয় পাইলট সৈন্যদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। একটি টুইটে তিনি এসব কথা জানান।
মঙ্গলবারের হামলার পর থেকে ভারত সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে, কেননা ইসলামাবাদ একটি সারপ্রাইজআক্রমণের কথা বলেছে।
বিতর্কিত কাশমিরের রাজধানী শ্রীনগরের আকাশে মঙ্গলবার রাত জুড়ে যুদ্ধবিমান টহল দেয়, কারণ কয়েক শত মাইল দূরে কাশমির নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মর্টারের গুলি বিনিময় হচ্ছিল।
মোটা দাগে ভারতকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পো একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। এতে তিনি ভারত কর্তৃক প্রতিবেশী দেশের সীমান্তের পাঁচ মাইল ভিতরের হামলাকে “জঙ্গী বিরোধী অভিযান” বলে আখ্যায়িত করেন, এবং পাকিস্তানকে “তার মাটিতে সক্রিয় জঙ্গীগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অর্থবহ ব্যবস্থা গ্রহণের” জন্য আহ্বান জানান।
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। মঙ্গলবার ভোরে ভারত আসলে কীসের উপর হামলা চালিয়েছিলো? যদি তারা আদৌ কোন কিছুর উপর হামলা চালায় আরকি। উভয় দেশ স্বীকার করছে যে ভারত অন্ততপক্ষে বালাকোটের কয়েক মাইল অভ্যন্তরে হামলা চালিয়েছে। বালাকোট সীমান্ত থেকে পাঁচ মাইল অভ্যন্তরে একটি ছোট পাকিস্তানি শহর। কিন্তু হিসাব বলছে অন্য কথা।
ভারত দাবি করছে, তারা একটি সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে, এবং জয়শ-এ-মোহাম্মদীর “বড় সংখ্যক” যোদ্ধাদেরকে হত্যা করেছে। যে জঙ্গী গোষ্ঠীটি ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশমিরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে, যে হামলায় ৪০ জন আধা সামরিক সৈন্য নিহত হয়েছে।
পাকিস্তান বলছে, তারা পৌছার আগেই ভারত বালাকোটে আঘাত হানে, এবং একটি খোলা মাঠে চার থেকে পাঁচটি বোমা নিক্ষেপ করে আবার পালিয়ে ফিরে যায়।
গত বুধবার সকালে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জোর দিয়ে বলেন ধরনের হামলার লক্ষ্য পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ছিল না
তিনি বলেন, “কোন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয় নি। অগ্রীম এই হামলার সীমিত উদ্দেশ্য ছিল জয়শ এ মোহাম্মদীর জঙ্গী গোষ্ঠীর অবকাঠামোসমূহের বিরুদ্ধে হামলা করা, ভারতে আরেকটি জঙ্গী হামলা অগ্রীম প্রতিহত করার জন্য।
তিনি আরো যোগ করেন, “ভারত এ অবস্থায় আর উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে চায় না, ভারত দায়িত্ব ও সংযম সহকারে কাজ চালিয়ে যাবে।”
বুধবার বিকালে পাকিস্তান একটি যৌথ সংসদীয় অধিবেশন সম্পন্ন করে, এর আগে জাতীয় কমান্ড অথরিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র দেখভাল করা।
মঙ্গলবার রাতে গাফুর বলেন, “এখন তোমাদের পালা অপেক্ষা করো আর আমাদের সারপ্রাইজের জন্য প্রস্তুত হও।”
উভয় সেনাবাহিনীই একে অপরকে কাশমির নিয়ন্ত্রণরেখায় গ্রামসমূহের উপর এবং প্রতিপক্ষ সেনাবাহিনীরেউপর গোলা বর্ষণের অভিযোগ করছে।
জনৈক পাকিস্তানি কর্মকর্তা এপিকে জানান, ভারতের মর্টার হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কোনো হতাহতের খবর দেন নি, তবে কামালকোটও কালগোসহ বিভিন্ন গ্রামে হামলা করার অভিযোগ করেছেন।
________________________________


নিবন্ধটি গার্ডিয়ানে প্রকাশিত। ভাষান্তর কর্তৃক সংক্ষেপে অনূদিত। ছবি গার্ডিয়ান থেকে সংগৃহীত।



Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.