Articles by "মিসর"

মিসর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান



আল জাজিরা ইংরেজি:
মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত খবর অনুসারে কায়রোর একটি আদালতে বিচারকার্য চলাকালে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুরসি জ্ঞান হারানোর পর মৃত্যুবরণ করেন।
মুরসি ছিলেন মুসলিম ব্রাদারহুডের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং আধুনিক মিসরের ইতিহাসের প্রথম (এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র-অনুবাদক) গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। ২০১৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তিনি সেনাবাহিনী কর্তৃক অপসারিত হন, এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
রাষ্ট্রী টেলিভিশন জানিয়েছে, মুরসির (৬৭) বিরুদ্ধে সোমবার আদালতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে শুনানি চলছিল। মুর্ছা যাওয়ার পর তার দেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুরসির আকস্মিক মৃত্যুতে বিশ্বব্যাপী অনেকেই বিবৃতি দিয়েছেন। নিচে তাদের বিবৃতিসমূহ উল্লেখ করা হলো:

কাতারের আমির

কাতারি আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি মুরসির পরিবারবর্গ ও মিসরের জনগণের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি এক টুইটার বার্তায় বলেন:
আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি। আমি তার পরিবারবর্গ ও মিসরীয় জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তুরস্কের রাষ্ট্রপতি

তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান মুরসিকে ‘শহিদ’ আখ্যা দিয়ে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
“আমাদের ভাই, আমাদের শহিদ মুরসির আত্মাকে আল্লাহ শান্তিতে রাখুন,” বলেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, মুরসির সাথে যাঁর ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল।

জাতিসংঘ

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিখ মুরসির আত্মীয়-স্বজন ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক সারাহ লিয়াহ উইটসন মুরসির মৃত্যুকে “ভয়াবহ কিন্তু পুরোপুরি প্রত্যাশিত” বলে আখ্যায়িত করেন। পাশাপাশি তার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা  করার ব্যর্থতার জন্য সরকারকে দায়ী করেন।
বিগত কয়েক বছরে আমরা প্রমাণ পাচ্ছিলাম, যে বাস্তবতা হলো তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। যতবার তাকে বিচারকের সামনে দেখা গেছে, তিনি প্রাইভেট মেডিকেল কেয়ার এবং চিকিৎসা সেবার জন্য অনুরোধ করেছেন।” উইটসন এসব কথা আল জাজিরাকে বলেন।
তিনি পর্যাপ্ত খাবার এবং চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অধঃপতন সম্পর্কে মিসর সরকার খুব স্পষ্টভাবেই জানতো। তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ওজন হারিয়েছিলেন এবং আদালতে কয়েকবার মুর্ছা গিয়েছিলেন।
টেলিভিশন, ইমেইল কিংবা বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজনের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই তিনি নির্জন কারাগারে বন্দী ছিলেন,” উইটসন আরো যোগ করেন যে, মুরসির মৃত্যুর বিষয়ে কোন নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তদন্ত হবে না “কারণ তাদের (মিসর সরকার) কাজ এবং ভূমিকা হলো নিজেদের সব দোষক্ষালন করা।

মোহাম্মদ মুরসির ছেলে

মোহাম্মদ মুরসির ছেলে আহমদ একটি ফেসবুক পোস্টে তার বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে লিখেন: “আল্লাহর সামনে, আমার বাবা এবং আমরা সকলে একত্রিত হবো।”

মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য

লন্ডনে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতৃস্থানীয় সদস্য মোহাম্মদ সুদান মুরসির মৃত্যুকে “পূর্বনির্ধারিত হত্যা” বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরো বলেন যে, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি, এবং তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে খুব সামান্য তথ্য পাওয়া যেতো।
বিচার চলাকালে তাকে (মুরসিকে) একটি গ্লাসের খাঁচার মধ্যে রাখা হতো। কেউ তার কথা শুনতে পেতো না, কিংবা তার প্রতি কী হচ্ছে, সেটা জানতেও পারতো না। কয়েক মাস ধরে, অথবা প্রায় এক বছরের কাছাকাছি সময় ধরে তাকে কো চিকিৎসক দেখেন নি। ইতোপূর্বে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি তার ঔষধ পাচ্ছেন না। এটি পূর্ব নির্ধারিত হত্যা। এটি ধীর মৃত্যু।”
________________________________

মিসরের সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে আল জাজিরা ইংরেজি। বাংলাদেশ থেকে আল জাজিরা ইংরেজি ভিজিট করা যায় না। তাই বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য হুবহু সেই প্রতিক্রিয়াসমূহ বাংলায় অনুবাদ করে দেওয়া হলো। মূল নিবন্ধের লিংক: Mohamed Morsi's death: World reaction




বারাক বারফি, প্রজেক্ট সিন্ডিকেট:
গত মাসে মিসরের সংসদে সংবিধান সংশোধনের একটি খসড়া সিংহভাগ সংসদ সদস্যের অনুমোদন পেয়েছে, যাতে প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসির ২০৩৪ সাল অবধি ক্ষমতায় থাকার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বও এই সংশোধনীর পক্ষে, কারণ এতে মিসরে এক ধরনের স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকবে, আর তাদের মহালাভজনক অস্ত্রের বাজারও থাকবে ঠিকটাক মতো।
সংশোধনটি অনুমোদন করেছেন ৫৯৬ জন সাংসদের মধ্যে ৪৮৫ জন। এতে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ ৪ বছর থেকে ছয় বছর করা হয়েছে, আর সিসিকে অতিরিক্ত আরো দুই বার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য সিসির বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালে। এখন এ খসড়া সংশোধন বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্তটিকে গণভোট দ্বারা অনুমোদিত করতে হবে।
সিসি যে প্রেসিডেন্ট পদে থেকে যেতে চাচ্ছেন, তা মোটেও বিস্ময়কর কিছু নয়। ক্ষমতা নিশ্চিত করার স্বার্থে ক্ষমতা গ্রহণের সময় তিনি কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন তিনি “কর্তৃত্বের জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী” নন। তিনি শপথ করেছিলেন, “আমি সংবিধানে কোন সংশোধন আনতে যাবো না। ... আইন ও সংবিধান অনুমোদিত সময়সীমার পর কেউই প্রেসিডেন্টের আসনে থাকবে না।” ঠিক যেমনিভাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসনি মোবারক ১৯৮১ সালে সংসদে তার প্রথম ভাষণে বলেছিলেন, “খোদাই জানেন, আমি কখনোই এই কাজের স্বপ্ন দেখি নি।” অবশেষে ৩০ বছর ২০১১ সালের আরব বসন্তে তিনি তার অবস্থান থেকে অপসারিত হয়েছিলেন!
ফেরাউনদের রাজ্যে রাষ্ট্রপতিরা সাধারণত বিভিন্ন পৌরাাণিক কাহিনী দ্বারা এতোটাই বিমোহিত হন, যে তারা শাসন করার ব্যাপারে তাদের দীর্ঘ মেয়াদী, সদানির্ভুল (তাদের কল্পনায়), এমনকি প্রায় ঐশ্বরিক অধিকারের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, হোসনি মোবারক ২০০৩ সালের মধ্যভাগে তার এই মনোভাব দেখিয়েছিলেন। যখন তাকে একজন লেখক প্রশ্ন করেছিলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন আক্রমষ ঠেকানোর জন্য সৌদি আরব ইরাকি স্বৈর শাসক সাদ্দাম হোসনের পদত্যাগ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে কি না, তখন তিনি বলেছিলেন “অসম্ভব!” মোবারক সেদিন ঘোষণা দিয়েছিলেন, “কোন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারে না!”
ঠিক একইভাবে সিসির ফাঁস হওয়া এক অদ্ভুত রেকর্ডিংএ তিনি ঘোষণা করেন যে স্বপ্নে প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত তাকে জানিয়েছেন যে তিনি প্রেসিডেন্ট হবেন। অন্য আরেকটি স্বপ্নতে তিনি একটি ধ্বনি শুনতে পান, যেটি তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, “আমরা তোমাকে এমন কিছু দান করবো, যা আমরা কাউকেই দান করি নি।”
পশ্চিমারা হয়তো এসব দাবিকে উপহাস করবেন, কিন্তু মিসরিরা এগুলোকে বেশ গুরুত্বের সাথে নেয়। (আসলেই? আমার তো মনে হয় ভাড়াটে ভাড়রাই কেবল গুরুত্বের সাথে নেয়, এবং সেটাই ফলাও করে প্রচার করা হয়!-অনুবাদক।) ইহুদি ও ইসলামি মতবাদে স্বপ্নকে নবুওতের নিম্নস্তর বলে বিবেচনা করা হয়। (সত্য বটে ইসলামে এরকম কথা আছে, তবে সেটা এতো সাদামাটা নয়, যেভাবে লেখক বলছেন।অনুবাদক) বাইবেলের আদিপুস্তকে আছে, ইউসুফ আ. ফারাওর স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা করে মিসরকে খরা ও দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষা করেছিলেন। (কুরআন শরিফেও এই ঘটনা আছে। কিন্তু ইহুদি কিংবা মোসলমান কারো নিকটই নবি কর্তৃক স্বপ্নের ব্যাখ্যা আর সিসির দাবিকৃত স্বপ্ন সমান গুরুত্ববহ হওয়ার কথা নয়।অনুবাদক)
তবে সিসির ঘোষণা দেওয়ার সময়টা স্বপ্ন দ্বারা নির্ধারিত নয়, বরং রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুসারেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০১১ সালের বিদ্রোহ পরবর্তী আর্থসামাজিক অস্থিতিশীলতা অবশেষে হ্রাস পেয়েছে। অনেক বছর পর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে (যদি এটিই সবকিছু হয়ে থাকে।) গত জুনে শেষ হওয়া অর্থ বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫.৩%।
তাছাড়া আইএমএফ ঘোষিত কঠোর মিতব্যয়িতা কর্মসূচি এনার্জি ও খাদ্যখাতে ভর্তুকি কমানোর কর্মসূচি, এমনকি যদি আয় কমে যায় তাহলেও চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছাচ্ছে। অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরে আসার ফলে অর্থনৈতিক আন্দোলনও হ্রাস পাচ্ছে। ইতোমধ্যে শ্রমিক ও ছাত্র আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোরতা এবং আন্দোলনের প্রতি সমাজের অন্যান্য অংশের সমর্থনের অভাবের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। যদিও মিসরের ক্ষমতা কাঠামো পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়, তবে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর কোন ধরনের অভিযোগহীনতা থেকে মনে হয় যে পর্দার আড়ালে সিসি ঠিকই তার অবস্থান শক্তিশালী করছেন।
________________________________

Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.