Latest Post



ড. হুসাইন দাকিল, আল জাজিরা ব্লগ:
সর্বশেষ অটোম্যান (ওসমানী) সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের মৃত্যুবার্ষিকী সামনে এসেছে। সুলতান যখন ১৯১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রোগ শয্যায় বসে ছিলেন, স্ত্রী-সন্তানদের সাথে কফি পান করেছিলেন, জীবনের শেষ মুহূর্তে বিদায় নিতে নিতে তাদেরকে তিনি বলছিলেন, আল্লাহ স্বাক্ষী, আমি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন আর আমার দেশ ও জাতির কল্যাণের উদ্দেশ্য ছাড়া কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি, কোন কাজে এগিয়ে যাই নি। সুলতানা তখন তার প্রশংসা করে বলেন, আমরা আপনার ধর্ম, দেশ ও জাতির প্রতি আপনার ভালোবাসার সাক্ষ্য দিচ্ছি। এরপর তাঁর হাত থেকে কফির কাপ পড়ে যায়, তাঁর আত্মা পরপারে পাড়ি জমায়। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ ১৮৪২ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর ইস্তাম্বুলের “জুরাগান প্রাসাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সুলতান আবদুল মাজিদ, মা তিরমিজকান কাদিন। সুলতানের মা ৩৩ বছর বয়সে মারা যান, যখন তার বয়স ছিল মাত্র দশ বছর। তিনি তার সৎ মা পেরেস্তু কাদিনের নিকট লালিত-পালিত হত। সারা জীবন তিনি তাঁর সৎমায়ের কথা মনে রেখেছেন, এবং ৩৪ বছর বয়সে তিনি ক্ষমতায় আরোহণ করার পর তাকে “সুলতানা মা” উপাধিতে ভূষিত করেছেন। তিনি যখন ১৮৭৬ সালের ৩১ আগস্ট ক্ষমতা লাভ করেন, তখন সাম্রাজ্য ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পার করছিলো।
সাম্রাজ্যকে এই দুরবস্থা থেকে বাঁচানোর জন্য সব কিছু করা সত্ত্বেও তিনি অনেক অপবাদ এবং ইতিহাস বিকৃতির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো তিনি আরব বিপ্লব এবং এই বিপ্লবের নেতাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, এবং ইংরেজদেরকে মিসরে প্রবেশ ও মিসর দখল করার অনুমতি দিয়েছেন।  আসল ঘটনা হলো, বলা হয়ে থাকে ১৮৮২ সালে সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ একটি ফরমান জারি করেন, যাতে আহমদ উরাবি একজন অবাধ্য এবং তিনি আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেছেন বলে গণ্য করা হয়েছে। ফলে অনেক মানুষ মনে করে যে এই ফরমানে ইংরেজদের মিসর দখলকে সমর্থন করা হয়েছে। একই সাথে আরেক দল মানুষ মনে করেন এই ফরমান জারি করা হয়েছিলো মিসরের কল্যাণার্থে। কাজেই, আসল ঘটনা কী?
প্রকৃত সত্য হলো এই যে, মুহাম্মাদ আলি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মিসর অটোম্যান (ওসমানি) সাম্রাজ্য থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলো। তার পরবর্তীদের সময়ে এই বিচ্ছেদ আরো পাকাপোক্ত হয়, যারা কিনা মিসরে বিদেশী মুদ্রার অনুপ্রবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন। আর এই সময়টাতে অটোম্যান সাম্রাজ্য ছিল সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায়। ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো তখন জোটবদ্ধ হচ্ছিলো অটোম্যান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে, ভাগ-বাটোরা করে নেওয়ার চেষ্টাও করছিলো। কিন্তু সুলতান আবদুল হামিদের আমলের আরম্ভ হওয়ার সাথে সাথে মিসরে দখলদারির বিরুদ্ধে জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্থান হয়। এই আন্দোলন ইসমাইল পাশাকে সরকার পরিবর্তন, সংসদ নির্বাচন ও ১৮৭৯ সালের সংবিধান প্রকাশ প্রভৃতি দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে সক্ষম হয়। ফলে আবদুল হামিদ এই আন্দোলন থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, এবং সমর্থন প্রদান করেন। তারাও আবদুল হামিদের সমর্থন থেকে সুবিধা নেয়, এবং এ সমর্থনকে তাদের আন্দোলনের বৈধতার প্রমাণ বলে মনে করে।
তাওফিক পাশার আমলে যখন আন্দোলন আরো তুঙ্গে ওঠে, সুলতান আবদুল হামিদ তখন মিসরি আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য অটোম্যান প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেন। মিসরি প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন, মাহমুদ সামি আল-বারুদি, শাইখুল আযহার (আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান) শাইখ মুহাম্মদ আল-ইনবাই, নকিব আল-আশরাফ প্রমুখ। ইউরোপীয়রা সুলতানের এই ভূমিকাকে ভালোভাবে নেয়নি। ফ্রান্স ও ব্রিটেন আলেক্সান্দ্রিয়ার অভিমুখে দুটো যুদ্ধ জাহাজ প্রেরণ করে, এবং অটোম্যান প্রতিনিধি দল মিসর ত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত তারা আলেক্সান্দ্রিয়া ত্যাগ করতে অস্বীকার করে। এদিকে বারুদির নেতৃত্বে বিপ্লব একেবারে নিকটবর্তী হয়ে পড়ে, বিপ্লবের প্রতি অটোম্যান সুলতানের সমর্থন-সহায়তাও বাড়তে থাকে, সুলতান বারুদি এবং তৎকালীন যুদ্ধমন্ত্রী উরাবিকে পাশা উপাধি প্রদান করেন। ফলে বিপ্লব থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের জন্য ইউরোপীয়দের পক্ষ থেকে সুলতানের উপর চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু সুলতান এই চাপের মুখে নতি স্বীকার করেন নি, বরং সহায়তা আরো বাড়াতে থাকেন।  এমনকি তারফিক পাশাকে অপসারণ করার জন্যও উরাবি তাকে উৎসাহ প্রদান করেন। তাদের মধ্যকার একটি চিঠিতে এরকম লেখা ছিল: মিসরে কে ক্ষমতায় আছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো মিসরের গভর্নরের চিন্তা-চরিত, উদ্দেশ্য ও গতিবিধি কপটতা মুক্ত হওয়া, যাতে করে তার কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হয় মিসরের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা ও খেলাফতের (অটোমান) সাথে সুদৃঢ় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা।
যাই হোক, সুলতানের নামে উরাবির “অবাধ্যতা” বিষয়ক যে ফরমানটি জারি হয়েছিলো ব্রিটেন কর্তৃক মিসর দখলের ছয় দিন পূর্বে, উরাবি নিজেও সুলতানের নিজের ইচ্ছায় সেটি জারি হয়েছে বলে মনে করেন নি। এমনকি তিনি বলেছিলেন, আমরা যা করেছি, তাতে সুলতানের কখনোই অসম্মতি ছিলো না। সেই সমোঝতার (যেটি অটোম্যান প্রতিনিধি দলের সাথে হয়েছিলো) সময়ও কোন অসম্মতি ছিলো না, এমনকি এখন অবধিও নেই। বরং সুলতান কথায় ও কাজে আমাদের কর্মতৎপরতাকে সমর্থন করেছেন। বলা হয়ে থাকে, সুলতানের ইচ্ছা ব্যাতিরেখে এই ফরমান জারি করার জন্য উরাবি তৎকালীন অটোম্যান প্রধানমন্ত্রী আস সদর আল আজমকে অভিযুক্ত করেন। অন্য আরেক দলের মনে করেন, ফরমানটি আসলেই সুলতারের সিদ্ধান্তেই জারি হয়েছিলো, আর সেটা তিনি জারি করেছিলেন বাধ্য হয়ে, যখন তেল আল কবিরের যুদ্ধে উরাবির বাহিনীর উপর ব্রিটিশ বাহিনীর বিজয় নিকটবর্তী হওয়ার বিষয়টি সুলতান উপলব্ধি করতে পারেন, তখন। তিনি তুলনামুলক কম ক্ষতিকর পরিস্থিতি মেনে নিতে চেয়েছিলেন, যাতে মিসর অটোম্যানদের পুরোপুরি হাতছাড়া হয়ে ব্রিটিশদের একচ্ছত্র শিকারে পরিণত না হয়। সম্ভবত এই মতটি বাস্তবতার সবচেয়ে নিকটবর্তী। এ বিষয়ে উরাবি বলেছিলেন, সম্ভবত এই ফরমানটি পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রকাশ করা হয়েছে।
________________________________
ড. হুসাইন দাকিল প্রাচীন নিদর্শন বিশেষজ্ঞ। তিনি গ্রিক ও রোমান প্রাচীন নিদর্শনের উপর আলেক্সান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। মিসরের বিপ্লবের সাথে সর্বশেষ অটোম্যান সুলতান আবদুল হামিদের সম্পর্ক এবং এ নিয়ে প্রচলিত বিভ্রান্তি সম্পর্কে في ذكرى وفاته.. هل خان السلطان عبد الحميد أحمد عرابي؟!” শীর্ষক তাঁর লেখা নিবন্ধটি আল জাজিরা আরবি ব্লগে প্রকাশিত হয়। ছবি http://www.toraseyat.com থেকে সংগৃহীত।



শত অসুবিধা সত্ত্বেও ফিলিস্তিন তাদের অবস্থানের উপর অটল। ফলে জেরুজালেমে ইসরায়েলি দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তারা যে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছিলো, এখনো সেটা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে রাজি নয় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তারই ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের স্বার্থে মার্কিন উদ্যোগে আয়োজিত মধ্যপ্রাচ্য সম্মেলনও বর্জন করছে ফিলিস্তিন। ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভাষান্তর:

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস

আমির তিবন, হারেৎজ:

মার্কিন ও পোলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে আগামী সপ্তাহে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারসাওতে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সম্মেলনে প্রতিনিধি প্রেরণের জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রণ পেয়েছে। যদিও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গত শুক্রবার জানিয়েছে যে তারা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবে না।

আমন্ত্রণ ঠিক কখন পাঠানো হয়েছে, সেটা স্পষ্ট নয়, কারণ এর আগে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দ জানিয়েছিলেন যে তারা কোন দাওয়াত পান নাই, গণমাধ্যমে মার্কিন মুখপাত্রও তখন বলছিলেন, এই সম্মেলনে আরব দেশগুলো ও ইসরায়েল থাকবে, তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সেখানে থাকবে না। ফিলিস্তিনি মুখ্য সংলাপ কর্মকর্তা সায়েব এরেকাত বলেছিলেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অংশগ্রহণ করছে না।

শুক্রবার সকালে জনৈক পোলিশ সরকারি কর্মকর্তা বলেছিলেন যে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রণ পেয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন কর্মকর্তাও বলেন, “আমরা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিধি প্রেরণের জন্য বলেছি।” মার্কিন সূত্র আরো বলছে, “তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত।”

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা এরেকাত টুইটারে লিখেন,এই সম্মেলন ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদ ধ্বংসের পদক্ষেপ, এবং এ বিষয়ে ফিলিস্তিনের অবস্থান স্পষ্ট।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত না হওয়ার নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরিত করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের কোন আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ নাই। ট্রাম্প দাবি করেন দূতাবাস স্থানান্তর “আলোচনার টেবিলের বাইরে থাকবে।”  

শীর্ষ সম্মেলনের কর্মসূচি অনুসারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অর্থনৈতিক দিক আলোচনা করতে ট্রাম্পের জামাতা কুশনার ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্য সফর করবেন। কুশনারের সাথে ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যাসন গ্রিনব্ল্যাট এই সফরে থাকবেন, সফরকালে তারা অন্ততপক্ষে পাঁচটি আরব দেশে থামবেন।

ইসরায়েলের নির্বাচন অবধি শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচন স্থগিত থাকবে, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন ঘোষণার পর এটিই তাদের প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর।

কুশনার এবং গ্রিনব্ল্যাট সৌদি আরব, কাতার ও আরব আমিরাতের শাসকদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। এই তিনটি দেশই ফিলিস্তিনি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গত গ্রীস্মেও কুশনার এসকল দেশে মিসরের গাজায় অর্থনৈতিক প্রকল্পে সহায়তা সম্পর্কে সফর করেছিলেন। বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট। তবে যদি এসকল দেশ এই অর্থনৈতিক প্রকল্পে সহযোগিতা করতে হয়, তবে সেটা হবে শান্তি পরিকল্পনা বিস্তারিত না জেনেই। কারণ এখন অবধি শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশিত হয় নি।

ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজে “Palestinian Authority Declines Invitation to Attend Middle East Conference in Warsaw শিরোনামে প্রকাশিত  প্রতিবেদনের অনুবাদ। ছবি: হারেৎজ থেকে।



. আজিম ইবরাহিম, আল আরাবিয়া:
মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত অধ্যাপক ইয়াংঘি লি গত মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জ্যেষ্ঠ জেনারেল মিং আং হ্লিয়াং-এর বিচারের আহ্বান জানিয়েছেনরোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বেসামরিক নেতা অং সান সু কি অধ্যাপক লি মিয়ানমার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনকালে এই বক্তব্য প্রদান করেন উল্লেখ্য কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে বর্তমানে . মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে
যদিও অধ্যাপক লি এই প্রথমবার প্রকাশ্যে সেনাপ্রধানের বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন, তবে গতবছর জাতিসংঘের তদন্ত মিশনও একই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছিলো ব্যাপক বিস্তারিত তদন্তের পর তারা জানিয়েছিলোজেনোসাইডের উদ্দেশ্যেগণহত্যা গণধর্ষণের সামরিক ক্যাম্পেইন চালানোর অপরাধে মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেলদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে   
জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থাসমূহের সাথে অন্যতম সিনিয়র এই মানবাধিকার কর্মকর্তারও প্রকাশ্যে গণহত্যার বিচার দাবি করার পার আমরা এসকল জেনারেলদের বিষয়ে কী আশা করতে পারি?
গণহত্যার এসকল খলনায়কদের বাস্তব বিচারের পথ অনেক দীর্ঘ অনিশ্চিত চিন জাতিসংঘের নিরাপত্তা বিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে দেশিটির দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে বিচার আটকে ফেলতে পারে অবশ্য তারপরও মিয়ানমারের সহযোগিতায় জাতিসংঘের প্রতিবেদনে চিহ্নিত কতিপয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচার হতে পারে যেমনটা যুগোশ্লোভিয়ায় হয়েছিলো অন্য কথায়, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা অং সান সু কির সহযোগিতায় বিচার পরিচালিত হতে পারে
কিন্তু তিনি কী করবেন? জাতিসংঘের প্রতিবেদনে তিনি তো অপরাধের সাথে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন নিরাপত্তা বিষয়ে তার বেসামরিক সরকারের কোন কর্তৃত্ব নেই সামরিক বাহিনীকে তাদের কর্মকাণ্ড স্থগিত করা, কিংবা কর্মপন্থা পরিবর্তন করার জন্য নির্দেশ দেওয়ার অধিকার সরকারের নেই যদিও রাজনৈতিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রভৃতি বেসামরিক বিষয়ে সামরিক বাহিনীরও কিছুটা ক্ষমতা আছে এবং বেসামরিক সরকার, সুকিসহ সবাই, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা এই ইস্যুতে তদন্ত করতে জাতিসংঘের বিভিন্ন অ্যাজেন্সিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহকে বাধা দিচ্ছে, এবং উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের বক্তব্যকে সমর্থন করে রোহিঙ্গাদেরকে তাদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত করার বৈধতা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে
 গতবছর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ অনেকটা থমকে গেছে একটা ভীতির কারণে। ভীতিটা হলো, যদি সুকিকে এই ইস্যুতে বেকায়দায় ফেলা হয়, তাহলে সামরিক জান্তা হয়তো আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে অবিরাম ঢুকছিল, পশ্চিমারা তখন আশা করছিলো, সু কি হয়তো নিজের ইমেজ ঠিক রাখার জন্য হলেও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য কোন পথ খোঁজে বের করবেন, রোহিঙ্গাদের পক্ষে অবস্থান করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট সদস্য মিচ ম্যাককোনেলের মতো অনেক নেতা আছেন, যারা মিয়ানমারে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে সু কিকে সমর্থন করতেন, এখনও তারা এই অবস্থানেই আছেন।
নোবেল লরিয়েট সু কি, আসলে রোহিঙ্গাদের পক্ষে ছিলেন এমন ধারণার উপর ভিত্তি করে ধৈর্যের, গণগহত্যার মুখে ধৈর্য ধরার কথা বলেন। তবে এর পক্ষে প্রমাণ খুব কমই আছে, যেখানে তিনি নিজেই বৌদ্ধ রাষ্ট্রকে মেনে নিচ্ছেন। সত্যিই যদি তিনি নির্যাতিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের পক্ষে থাকতেন, তবে সেটা প্রমাণ করার সময় এখনই।
অং সান সুকিকে আরেকটি সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে তিনি নিজেকে এবং তার দেশকে কলংক মুক্ত করতে পারেন এবং বিশ্ব মানবাধিকারের আইকন হিসেবে প্রমাণ করতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে শোধরানোর জন্য তার আসলে কী করা উচিত, সে পথ এখনই তার সামনে খোলা আছে। প্রয়াত কফি আনানের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের তদন্ত কমিটির গত বছর প্রকাশিত চুড়ান্ত প্রতিবেদনে সে উপায় বাতলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুকি যেন কফি আনানের পরামর্শ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য এতোটুকুই জরুরি। এর মাঝে তাদের পূর্ণ নাগরিকত্বের অনুমোদন দানের বিষয়টিও আছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের বিষয়টি দেখাশুনা করার জন্য অবশ্যই জাতিসংঘের সংস্থাসমূহকে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিতে হবে।  এবং এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত সকল সামরিক কর্মকর্তাকে অবশ্যই বহিষ্কার করতে হবে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচারের নিশ্চয়তাও দিতে হবে।
 অবশেষে গণহত্যার বিষয়টি স্বীকৃতি পেয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কিংবা মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার এখন আর বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে পারবে না। এখন অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, সেই সাথে গণহত্যায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সু কিকে এখন সামরিক বাহিনীর উপর নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, গণহত্যায় জড়িত অপরাধীদেরকে বিচারের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে হবে, অথবা গণহত্যার সহায়তাকারী হিসেবে তাকে নিজেকেও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
________________________________
আজিম ইবরাহিম সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসির ফেলো এবং ইউএস আর্মি ওয়ার কলেজের স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের খণ্ডকালীন গবেষণা অধ্যাপক। ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি তার পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ‘How likely are Myanmars generals to face prosecution for genocide?শিরোনামে আর-আরাবিয়াতে তার লেখাটি প্রকাশিত হয় ২৬ শে জানুয়ারিতে।





ফ্রান্সিসকো রদ্রিগুয়েজ ও জেফরি ডি. সেচস, নিউ ইয়র্ক টাইমস:
সপ্তাহ দুয়েক ধরে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের সমর্থন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লির প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুয়াইদোর সরকারকে সমর্থন দিয়েছে তেল থেকে দেশটির যে আয় হয়, সেই আয়ের কর্তৃত্বও গুয়াইদো সরকারকে দিয়ে দিয়েছে এর মাধ্যমে ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনীকে একটি কঠিন বিপদে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে অবশ্যই যে কোন একটি পথ বেছে নিতে হবে হয়তো প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ত্যাগ করতে হবে, নতুবা ভেনিজুয়েলার অর্থনীতিকে কঠিন সংকটের মুখোমুখি হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তাটা বেশ কড়া: হয় শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করো, নয়তো ক্ষুধায় মরো

যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বভাবসুলভ সাহস নিয়েই কাজ করছে, তাদের ধারণা সবকিছু শিগগিরই ঠিকটাক হয়ে যাবে, মাদুরো পদত্যাগ করবেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলা উভয়ই লাভবান হবে ভেনিজুয়েলার ভিতরে-বাইরে অনেকেই মাদুরোকে পছন্দ করেন না, ফলে অনেকগুলো দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবার চালের পক্ষেই আছে, আপাতত ক্ষতির কারণ হলেও এতে ভালো ফলাফল (তাদের জন্য) আসবে বলে তারা মনে করছে

অবশ্য এই পদ্ধতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কয়েকটি ধারণার উপর ভিত্তি করে এগুচ্ছে, যেমন: সেনাবাহিনী পক্ষ পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে আছে; সেনাবাহিনী নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পক্ষ পরিবর্তন করবে; মাদুরোর প্রতি তাঁর দেশের মানুষের সমর্থন খুব একটা নেই; ভেনিজুয়েলার বিদেশি মিত্র, বিশেষত চিন, কিউবা রাশিয়ার এই বিষয়ে তেমন কোন আগ্রহ নেই; এবং ক্ষমতায় পরিবর্তন আসার পর অতীত অতীত হয়েই থাকবে, ভবিষ্যতের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না

যুক্তরাষ্ট্রে এসকল ধারণা হয়তো সঠিক প্রমাণিত হবে, কিন্তু খুব সহজেই ভুল প্রমাণিতও হতে পারে সামরিক বাহিনী হয়তো মাদুরোর কট্টর সমর্থক কিংবা মাদুরোর পক্ষে-বিপক্ষে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে যেতে পারে দুর্ভিক্ষ আর মারাত্মক মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও হুগো শ্যাভেজপন্থীরা হয়তো শ্যাভেজবাদী নেতার পিছনেই থাকবে নাগরিক সমাজের সহিংসতার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে মাদুরোর বিদেশি বন্ধুরা তাদের নিজেদের স্বার্থেই হয়তো তাঁর পক্ষে মাঠে নামতে পারেন উদাহরণ স্বরূপ ভেনিজুয়েলার তেলে নিজেদের অংশ ঠিক রাখার স্বার্থে মাদুরোকে সমর্থন অথবা তাঁর পতন বিলম্বিত করার চেষ্টা করতে পারে

 যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে কোন শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে, এমন রেকর্ড খুব বেশি নয় তালেবানের বিরুদ্ধে ১৮ বছর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালনার পর এখন তাদের সাথে শান্তি আলোচনায় বসতে হচ্ছে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া প্রভৃতি দেশেও যুক্তরাষ্ট্রের নাক গলানোর ফলে বিবাদ নিরসন হয় নি, বরং ধারাবাহিকভাবে চলছে ভেনিজুয়েলায় যে এর চেয়ে ব্যতিক্রমী কোন কিছু ঘটবে, এমন কোন নিশ্চয়তা নেই

সহিংসতা চরম বিশৃঙ্খলার অবিচ্ছেদ্য চক্র খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভেনিজেুয়েলার একমাত্র খাদ্য সরবরাহ তেলক্ষেত্রের সরঞ্জামাদি সরবরাহের পথ বন্ধ করে বিশৃঙ্খলার পথ খুলে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের নিজস্ব হিসাব অনুসারে, নিষেধাজ্ঞার ফলে আগামী বছর শুধুমাত্র তেলের আয় বাবদ ভেনিজুয়েলার অর্থনীতি ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হারাবে, যা কিনা গত বছরের মোট পণ্য আমদানির খরচের ৯৪ শতাংশ এর ফলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতে পারে, যে রকম বিপর্যয় ইতোপূর্বে কখনো আমাদের এই গোলার্ধে সংগঠিত হয় নি

আমরা দৃঢ়ভাবে বিকল্প উপায়ে সমাধান কামনা করি এক পক্ষই পুরোপুরি বিজয়ী হবে, অপর পক্ষ ধ্বংস হয়ে যাবে এরকম মরণ খেলার বদলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হতে পারে আমাদের প্রথম কথা হলো মাদুরো তাঁর বিরোধীদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কিংবা উভয় পক্ষের বহিরাগত সমর্থকদের দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না

যদিও মাদুরো বিরোধীরা স্বীকার করতে চাইবে না বরং বিরক্ত হবে, তবু বাস্তবতা হলো এখনো ভেনিজুয়েলার রাজনীতিতে এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে শ্যাভেজবাদের গুরুত্ব রয়েছে কাজেই আমরা চাই দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে উভয়পক্ষের ছাড়ের মানসিকতা নিয়ে সমাধান বের করা হোক আমাদের একজন সম্প্রতি ১৯৮৯ সালের পোল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে লিখেছি সেখানে বিবাদমান দুটি পক্ষ ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট তাদের বিরোধী দল পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত দুই বছর মেয়াদী একটি যৌথ সরকার গঠন করে  ভেনিজুয়েলার সরকার এবং বিরোধী দল উভয় পক্ষই আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যদিও উভয়পক্ষের বাইরের মিত্ররা কোন ধরনের ছাড় না দিয়ে সংঘাত চালিয়ে যেতে উৎসাহ যোগাচ্ছে

উপরের কোন কিছুই নিকোলাস মাদুরো সরকারের জঘন্য দেশ পরিচালনা কিংবা ভয়াবহ মানবাধিকার লংঘনের প্রমাণ অস্বীকার কিংবা এগুলোর পক্ষে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানোর উদ্দেশ্যে বলা হয় নি। কিন্তু এসব অত্যাচচারের কারণে এমন কোন কিছু করতে পারি না, যা কেবল মাত্র ভেনিজুয়েলাবাসীর দুর্ভোগের মাত্রাকে অনির্দিষ্টকাল ধরে আরো বৃদ্ধি করবে। আমাদের উচিত এমন একটা বোঝাপাড়া তৈরি করা যে শুধুমাত্র আলোচনা আর ছাড় দেওয়ার মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করা সম্ভব।

আমরা বর্তমান রাজনৈতিক যুদ্ধের উভয় পক্ষের নিকট এইটুকু চাই যে এমন একটি উপায় খুঁজে বের করা হোক, যার মাধ্যমে রক্তপাত, দুর্ভিক্ষ, লাখ লাখ শরণার্থী অথবা বাইরের শক্তি কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক সমাধান থেকে দেশকে বাঁচানো সম্ভব হয়। আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববাসীর বিশেষত দেশটির প্রতিবেশীদের উচিত হবে ভেনিজুয়েলাবাসীর নিজেদের কথা শুনা। যুক্তরাষ্ট্র হয়তোবা একক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে, তবে সেটার জন্য লাখ লাখ ভেনিজুয়েলাবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগ পোহানোর ঝুঁকি নিতে হবে, যে ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি তারা আজ পর্যন্ত হয়নি।

আমাদের পরামর্শ হলো প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে শ্যাভেজপন্থী এবং বিরোধী শক্তি মিলে নিশ্চিত করতে হবে যে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেট্রলেস দে ভেনিজুয়েলার আয় দ্বারা জনসাধারণের দুটি জরুরি খাদ্য প্রয়োজন ও ওষুধ এবং ভেনিজুয়েলার অর্থনীতিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তেলক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ক্রয় করা হবে। এই ফান্ডের টাকার ব্যবহার জাতিসংঘের সহযোগিতায় বর্তমান সরকার এবং ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লির যৌথ কমিটি কর্তৃক পরিচালিত হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে সিদ্ধান্তে এখন গুয়াইদোর হাতে তেলের আয় পৌছাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে তাকেই শিগগিরই এরকম একটি প্রস্তাব করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, উভয়পক্ষকে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিষয়ে একমত হতে হবে, যাতে মাত্রাতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক ধ্বসের সমাধান করা সম্ভব হয়। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সীমিত ক্ষমতা নিয়ে আগামী এক অথবা দুই বছরের মধ্যে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা পুনরুদ্ধার করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। মাদুরোসহ বর্তমান সরকারের নেতৃবৃন্দ এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে সীমিত ও পুর্বনির্ধারিত কিছু ভূমিকা পালন করবেন। উদাহরণস্বরূপ জাতীয় প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা তাদের হাতে রাখা যেতে পারে, কিন্তু তাদের ক্ষমতা হবে সীমাবদ্ধ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার ও নির্বাচন পদ্ধতি তাদের ক্ষমতার আওতায় থাকবে না।

চুক্তির মধ্যে একটি নতুন স্বাধীন নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের নিয়োগের বিষয়টিও থাকবে, যে কর্তৃপক্ষ দেশের নির্বাচনী প্রতিষ্ঠান সমূহ পুনরায় গঠন করবে যাতে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা সম্ভব হয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে স্থিতিশীলতা আনয়নের এরকম প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা এবং মুদ্রাস্ফীতি সমস্যার সমাধান ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানসমূহের সংস্কারের পর সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে উপযুক্ত সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে গ্রহণ করা।

তৃতীয়ত, রূপান্তরিত সরকার ব্যবস্থা ও ভবিষ্যতের নির্বাচনী কাঠামো ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রতি সম্মান রেখে গঠন করা উচিত। সর্বোপরি ভেনিজুয়েলার প্রতিবেশীদের উচিত সব কিছু জিতে নেওয়ার খেলায় না মেতে আলোচনা ও ছাড় দেওয়াকে সমর্থন করা। ভেনিজুয়েলার পুনরুদ্ধার এখন ভেনিজুয়েলার জন্য এবং পুরো অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ।

লেখাটি নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে ফেব্রুয়ারির দুই তারিখ “An Urgent Call for Compromise in Venezuelaশিরোনামে প্রকাশিত হয়। লেখকদ্বয় অর্থনীতিবিদ এবং লাতিন আমেরিকা বিশেষজ্ঞ।








Author Name

ভাষান্তর

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.